Pages

Tuesday, 25 June 2013

Protesting Dalit Hindu Persecution (from archive)


                                               

Pakistan First Law & Labour Minister, J.N. Mandal's Resignation Letter
Mr. J.N. Mandal,
Minister for Law and Labour, 

Government of Pakistan
On 8th October, 1950
My Dear Prime Minister,
          It is with a heavy heart and a sense of utter frustration at the failure of my life-long mission to uplift the backward Hindu masses of East Bengal that I feel compelled to tender resignation of my membership of your Cabinet. It is proper that I should set forth in detail the reasons, which have prompted me to take this decision in this important juncture of the history of Indo-Pakistan Sub-continent.
          ( 1 ) Before I narrate the remote and

Saturday, 22 June 2013

চন্ডালের শূদ্র হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনী : নাগরাজ চন্ডাল

চন্ডাল একটি বল-বীর্য সমন্বিত অর্থ দ্যোতক শব্দ। চন্ডের সঙ্গে জাতি সূচক আল প্রত্যয় যুক্ত হলে চন্ডাল হয়। এমনি ভাবে লাঙ্গল,জোঙ্গাল,জঙ্গল,ডাঙ্গাল,বহাল,খেড়ওয়াল,সাঁওতাল,বঙ্গাল প্রভৃতি আদি অস্ট্রাল শব্দগুলির ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলেই চণ্ডাল শব্দের গুনগত এবং অর্থগত অভিব্যক্তিটি যথার্থ প্রতিভাত হয়ে উঠবে। ঋকের অনেকগুলি শ্লোকের রচয়িতা বিশ্বামিত্র ছিলেন চণ্ডাল। গুহক চণ্ডাল,রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী অনন্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। জাতক কাহিনীতে বোধিসত্ত্বকে সততার প্রতীক হিসেবে চণ্ডাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বহুবার। কার্যসিদ্ধির জন্য সুদাস,মনু,অগ্নী,বরুন প্রভৃতি দাস বা অসুর নেতাদের ও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো বৈদিক সাহিত্যে। অর্থাৎ রক্ষস (পরবর্তী কালে রাক্ষস বলা হয়েছে), অসুর,নাগ,চণ্ডাল শব্দগুলি কোন ভাবেই ঋণাত্মক নয় বরং গুণবাচক এবং ধ্বনাত্মক । 

ভুত তাড়ানোর জন্যি আঁচালি ভাঙানি দরকার।

ভূতে পাওয়ার বিষয়ডা বাংলায় এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছেল। ভুতে যারে পায় তার মুখে আকতা কুকতা কইতে বাধেনা। খাওনের ঠিক থাকে না। পরনের ঠিক থাকেনা। বকর বকরের ঠেলায় কান ঝালা পালা হইয়া যায়। তবে অরে ভুতে পাইছে বইল্যা মানুষ ক্ষেমা ঘেন্না কইর‍্যা নেয়।
কিন্তু সমস্যা হইলো গিয়া, ঘন ঘন ভুতে পাইলে মানুষরে আর ঘরে রাখা যায় না। পাগল হইয়া যায়। একটু বড় ঘরের হইলে পাগলডারে দড়ি দড়া দিয়া বাইধ্যা রা
খে। গরীব ঘরের হইলে  রাস্তা ঘাটে বন বাদাড়ে ঘুইর‍্যা বেড়ায়।

কথায় বলে এই ভুত নাকি যারে তারে ধরতি পারে। পাতাকুড়োনি থিকা হাড়কুড়োনী, ঘুটেকুড়োনি থিকা রাজরানি বা আমলা থিকা মন্ত্রী। ভুতের ঝামেলা সর্বত্রগামী। আইজ্ঞা হ, এরকম ভুতের কাহিনী দিদিমা ঠাকুমাদের মুখে অনেক শুনছি। কিন্তু নিজের চোখে চাক্ষুষ করার সুযোগ হয় নাই। দেশ বিদেশের মিডিয়াদের কী ধন্যবাদ যে দেবো তার ভাষা খুইজ্যা পাচ্ছিনা। অদের কল্যাণে প্রতিদিন ভুত দেখছি। চাক্ষুষ করতি পারছি ভুতের কেত্তন। খোনা খোনা গলায় পেত্তেকদিন ভয় দেখাচ্ছে মানুষকে। রক্ত চোখ দেখাচ্ছে।  ঘাড় মটকে রক্ত পিব বলছে। সাম্প্রতি কামদনীতে জ্যান্ত ভুতের তান্ডব দেইখ্যা বাংলার মানুষ একেবারে থ হইয়া গেছে। ভুতের সে কী বিকট গর্জন। "এই চোপ"

বিষয়: হিন্দু (HINDU)

 === ১ ===

বিষয়: হিন্দু (HINDU)


         ভারত বর্ষের সব থেকে বড় ধর্ম হচ্ছে হিন্দু ধর্ম ।এদেশের বেশীর ভাগ জনগণ হিন্দু ধর্ম বলম্বী । তারা তাদের ধর্মকে বিশ্বাস করে আবার অনেকে নিজেকে ‘হিন্দু’ বলে গর্ববোধ ও করেন । যেটা স্বাভাবিক ।

এখানে এই আলোচনায় কারো ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত করার উদ্দেশে নয় । আর আঘাত লাগলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কারন কখনও কখনও বিস্বাসে আঘাত লাগাটাও স্বাভাবিক হয়; যখন সেটাকে যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা না করা হয় । অথবা সুদির্ঘ  দিনের বিশ্বাসকে এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলা অতসহজ নয় । তবুও বিশ্বাসের পাথরকে মূ্র্তিতে রূপান্তরিত করতে হলে যুক্তি-তর্ক-তথ্য ও বিশ্লেষণের ছেনি ও হাতুড়ি দিয়ে সতর্ক ভাবে কাটার চেষ্টা করলে মূ্র্তি তৈরী হ’তে পারে । যেটা তখন বিশ্বাসের পাথর না হয়ে একটা মূ্র্তিতে রূপান্তরিত হবে ।

আমি কেবলমাত্র  সেই বিশ্বাসের পাথরকে মূ্র্তিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছি। মূ্র্তি হবে কি না সেটা জানি না, কারণ সেটা পাঠকরা বলতে  পারবেন । তবে আমি আবার বলছি –কারো ব্যক্তিগত বিস্বাসে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয় । উদ্দেশ্য সঠিক তথ্যকে আপনাদের সামনে

Tuesday, 21 May 2013

কনভেনর, খাদ্য ও কাজের অধিকার অভিযান-পশ্চিমবঙ্গ

শরদিন্দু উদ্দীপন 
কনভেনর, খাদ্য ও কাজের অধিকার  অভিযান-পশ্চিমবঙ্গ 

অপুষ্টির সর্বশেষ স্তর হল অনাহার যা চিরস্থায়ী শারীরিক বিকলাঙ্গতা এবং মৃত্যু কারণ হতে পারে।
দারিদ্রতা,দীর্ঘদিন না খেতে পাওয়ার কারনে অনাহারে মৃত্যুর খবর আমলা শোলের ঘটনা থেকে মানুষের সামনে আসতে শুরু করে। জলপাইগুড়ির চা বাগান থেকে উঠে আসে কঙ্কালসার মানুষগুলির খবর। ঘাস পাতা শিকড় বাকড় খেয়ে তাদের অনেকেই বিকলাঙ্গ। অনেকেই অকালে মারা গেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বারবার একথা জানালেও কোন সরকার অনাহারে মৃত্যু স্বীকার করেনি।
বরং রোগ এবং বয়সের ভারে মৃত্যু বলে চালাতে সচেষ্ট হয়েছেন বেশি।  কোন কোন ক্ষেত্রে অনাহারে মৃত্যুর স্বীকৃতি আদায় করতে আদালতের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আদালতের রায় সরকার মেনে নিতে বাদ্ধ হলেও এই ঘটনা থেকে কোন শিক্ষা লাভ করেনি। বরং ধামাচাপা দেবার জন্য বেশী সচেষ্ট হয়েছেন। অবহেলা ও কুটিলতার এই ছিদ্র ধরেই অনাহার ছড়িয়ে পড়েছে। বিকলাঙ্গতা ও মৃত্যু হানা দিচ্ছে প্রত্যেক জেলায়। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে উঠে আসছে যে,এই মৃত্যু ও বিকলাঙ্গতার শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।

Saturday, 18 May 2013

বিষয়: হিন্দু (এর পরবর্তী অংশ) জগদীশ রায়


বর্ণাশ্রমে বেষ্টিত ভারতীয়দের হিন্দু বলে প্রমানিত করার রাস্তাটা প্রসারিত হতে শুরু করে 1921 সাল নাগাদ। প্রকৃত পক্ষে ব্রাহ্মণরা তখনো পর্যন্ত নিজেদের হিন্দু মনে করতেন না। এখনো করেন না। এর কারন পরে বলছি । 1922 সালে তারা নাসিকে ‘হিন্দু মহাসভা’ এর স্থাপন করে । কিন্তু কেন? সে ইতিহাস ধাপে ধাপে প্রকাশ করছি । তার অগে অমরা দেখছি রাজা রামমোহন রায় 20 আগষ্ট 1828 সালে ‘ব্রাহ্ম সমাজ’ স্থাপন করেন । দয়ানন্দ সরস্বতী 1875 সালে ‘আর্য সমাজ’স্থাপন করেন । এই ‘আর্য সমাজ’ স্থাপনের পিছনেও একটা ষড়যন্ত্র আছে । কে এই দয়ানন্দ সরস্বতী ? এর আসল নাম কেদার নাথ পান্ডে । যিনি গুজরাটি ব্রাহ্মণ। তিনি রাজকোট জেলার টংকারা নামক বোম্বে (মুম্বাই) আসেন । বোম্বেতে কেন ? কারণ 1873 সালে মহারাষ্ট্রে মহাত্মা জ্যোতিরাও ফুলে ‘সত্যশোধক’ সমাজ’-এর স্থাপণ করেন ।‘সত্যশোধক’ অর্থাৎ সত্য কলুষিত হয়েগিয়েছিল ব্রাহ্মণদের ষড়যন্ত্রে, তাই তাকে শোধন করা দরকার হয়ে পড়ে । ‘সত্যশোধক’ কে  ENCOUNTER কারার জন্য কেদার নাথ পান্ডে মহশয় দয়ানন্দ সরস্বতী নামে এই ‘আর্য সমাজ’-এর স্থাপন করেন। উদ্দেশ্য সত্যশোধক আন্দোলনকে সম্পূর্ণ

Sunday, 12 May 2013

বিষয়: হিন্দু


বিষয়: হিন্দু

জগদীশ রায় 
ভারত বর্ষের সব থেকে বড় ধর্ম হচ্ছে হিন্দু ধর্ম ।এদেশের বেশীর ভাগ জনগণ হিন্দু ধর্ম বলম্বী । তারা তাদের ধর্মকে বিশ্বাস করে আবার অনেকে নিজেকে ‘হিন্দু’ বলে গর্ববোধ ও করেন । যেটা স্বাভাবিক ।
এখানে এই আলোচনায় কারো ব্যাক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত করার উদ্দেশে নয় । আর আঘাত লাগলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কারন কখনও কখনও বিস্বাসে আঘাত লাগাটাও স্বাভাবিক হয়; যখন সেটাকে যুক্তি-তর্ক দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা না করা

Saturday, 11 May 2013

শাসক প্রভুদের রাজনৈতিক গড়াপেটার বলি হচ্ছে বহুজন সমাজ।



হয় কংগ্রেসের সাথে থাকো নয় বামফ্রন্ট। অথবা তৃণমূল না হলে বিজেপি। চোলাইয়ের মত গেলাতে গেলাতে এই আপ্ত বাক্যটি প্রায় অমৃত ভাষণে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ পবিত্র প্রভূদের ছাড়া গতি নেই। কলৌ নাস্তেবঃ নাস্তেবঃ গতিরন্যথা। 

একদা গরীবের হাড়ে দুব্বা গজানোর জমিদার প্রভূদের অপত্য গর্ভের সন্তানদের নিয়ে গঠিত কংগ্রেস দল। ৮০% উপর বামুন প্রভুদের নিয়ে গড়া এই দলটি বহুজন মানুষের কাছে ঢাক ঢোল পিটিয়ে নিজেদের মহিমা কীর্তন করেছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে থেকে। ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রতিবছর স্বাধীনতার একফালি ছেড়া কাপড় উড়িয়ে বিস্কুট লেবেঞ্চুস বিতরণ করে দায়িত্ব শেষ

Sunday, 5 May 2013

চিটফান্ড আসলে বহুজনের বিরুদ্ধে ডিভাইন প্রভুদের যুদ্ধের শঙ্খনাদ।



চিটফান্ড আসলে বহুজনের বিরুদ্ধে ডিভাইন প্রভুদের যুদ্ধের শঙ্খনাদ। 

সারদার জালিয়াতি কান্ড সামনে আসার পরে বেশ কয়েকটি আশঙ্কার কথা আলতো করে বাতাসে ভাসিয়ে দেবার চেষ্টা হচ্ছে।
ক্রমশঃ জোরালো করে তোলা হচ্ছে এই আশঙ্কার পরিবেশ। পালা বন্দনার মতো গাওনা শুরু হয়েছে যে চিটফান্ড বন্ধ হলেঃ
১) বাংলার ফুটবলের উপর বিরাট প্রভাব পড়বে।
২) বাংলার সুমহান ঐতিহ্য দুর্গা পূজার জৌলুস কমে যাবে।
৩) টিভি সিরিয়ালগুলির উপর প্রভাব পড়বে।
৪) সিনেমা শিল্পের অনেক তাবড় প্রযোজক পালিয়ে যাবেন।
৫) যাত্রা শিল্প পাততাড়ি গুটাতে বসবে। বড় চিত্র তারকাদের

Saturday, 4 May 2013

কি করবেন মমতা !


কি করবেন মমতা ! 
সারদা কান্ডের মতো এত বড় আর্থিক দুর্নীতি সমগ্র পূর্ব ভারতে বোধহয় এই প্রথম। এর আগে সঞ্চয়িতা বা ভেরনার মত চিট ফান্ডগুলি নিয়ে হৈ চৈ হলেও ব্যপকতার ক্ষেত্রে সারদা সকল কেই ছাপিয়ে গেছে। তাছাড়া পূর্বের চিটফান্ডগুলির আমানতকারীরা ছিলেন শহর বা আধা শহরের মধ্যবিত্ত মানুষ। শ্রমজীবী বা কৃষিজীবী মানুষকে তারা খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারেনি। অথবা এই মানুষগুলিও যে চিটফান্ডের আমানতকারী হতে পারে এ ধারণা ও বোধহয় চিটফান্ডের পরিকল্পকদের ছিলনা। অন্যদিকে ভয়ে হোক বা অজ্ঞতার কারণে হোক সরল গবাগুবো মানুষগুলি চিটফান্ডের ধারে বাড়ে যেতেন না। আশির দশক থেকেই কিছু রাষ্ট্রীয় প্রকল্প জনমানসের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। ধীরে ধীরে শ্রমজীবী বা কৃষিজীবী মানুষ ক্ষুদ্র সঞ্চয় বা স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির আওতায় আসতে শুরু

Wednesday, 1 May 2013

চিঠি লিখে ডাকাতি!!



চিঠি লিখে ডাকাতি!! 

এক সময় চিঠি দিয়ে ডাকাতি হত এই বাংলায়। ডাকাতির বিদ্যার এই পরিভাষাকে মহৎ ও বলতে আবার ঔদ্ধত্য হিসেবেও দেখতে পারেন। তবে ডাকাতের খানদানী ও আভিজাত্য বজায় রাখার জন্য এই কাগুজে সংকেতটি ছিল অবশ্য ঘটিতব্য গণবার্তা। শোনা যায় হাটে হাটে ঢেরা পিটিয়েও ডাকাতি হত। এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকত ডাকাতির সর্তগুলি কি কি। কবে ও কখন ডাকাতি হবে। ডাকাতিতে বাঁধা দিলে কি ধরনের শাস্তি হবে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

সেকালের অনেক জমিদার বাবুরাও ডাকাত পুষতেন। তাগড়া জোয়ান লাঠিয়াল,সড়কিবাজ,বল্লমবাজদের নিয়ে গড়া ডাকাত দলগুলি জমিদারদের প্রভাব, প্রতিপত্তি ও সম্পত্তি বাড়াতে উৎসেচকের মত কাজ করতো। ডাকাতগুলিকে পরিচালনা করতেন মেজ, সেজ বা ছোটবাবুরা। কিন্তু আসল কনট্রোল ছিল বড়বাবুদের হাতে। আড়ালে থেকে তিনিই নাড়াচাড়া করতেন জীয়নকাঠি ও মরণকাঠি। মেজবাবু, সেজবাবু বা ছোটবাবুরা কখনো সখনো ফেঁসে গেলে পিছনে থেকেই তিনি আইনি প্যাঁচ পয়জারে রক্ষা করতেন ডাকাতি সংস্কৃতির আপ্ত সহায়ক ও অনুচরদের। সাক্ষ প্রমান ধ্বংস করা, আইনি জটিলতা তৈরি করা ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করে অপরাধিকে আড়াল করা বা বেকসুর খালাস করাই ছিল এই সংস্কৃতির মূখ্য উদ্দেশ্য। একেবারে উপায় না থাকলে অগত্যা


চিঠি লিখে ডাকাতি!! 
এক সময় চিঠি দিয়ে ডাকাতি হত এই বাংলায়। ডাকাতির বিদ্যার এই পরিভাষাকে মহৎ ও বলতে আবার ঔদ্ধত্য হিসেবেও দেখতে পারেন। তবে ডাকাতের খানদানী ও আভিজাত্য বজায় রাখার জন্য এই কাগুজে সংকেতটি ছিল অবশ্য ঘটিতব্য গণবার্তা। শোনা যায় হাটে হাটে ঢেরা পিটিয়েও ডাকাতি হত। এই ঘোষণাপত্রে উল্লেখ থাকত ডাকাতির সর্তগুলি কি কি। কবে ও কখন ডাকাতি হবে। ডাকাতিতে বাঁধা দিলে কি ধরনের শাস্তি হবে। ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। 

সেকালের অনেক জমিদার বাবুরাও ডাকাত পুষতেন। তাগড়া জোয়ান লাঠিয়াল,সড়কিবাজ,বল্লমবাজদের নিয়ে গড়া ডাকাত দলগুলি জমিদারদের প্রভাব, প্রতিপত্তি ও সম্পত্তি বাড়াতে উৎসেচকের মত কাজ করতো। ডাকাতগুলিকে পরিচালনা করতেন মেজ, সেজ বা ছোটবাবুরা। কিন্তু আসল কনট্রোল ছিল বড়বাবুদের হাতে। আড়ালে থেকে তিনিই নাড়াচাড়া করতেন জীয়নকাঠি ও মরণকাঠি। মেজবাবু, সেজবাবু বা ছোটবাবুরা কখনো সখনো ফেঁসে গেলে পিছনে থেকেই তিনি আইনি প্যাঁচ পয়জারে রক্ষা করতেন ডাকাতি সংস্কৃতির আপ্ত সহায়ক ও অনুচরদের। সাক্ষ প্রমান ধ্বংস করা, আইনি জটিলতা তৈরি করা ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করে অপরাধিকে আড়াল করা বা বেকসুর খালাস করাই ছিল এই সংস্কৃতির মূখ্য উদ্দেশ্য। একেবারে উপায় না থাকলে অগত্যা আইনের জালে আটকা পড়ে যেত দু একটা ডাকাত। তারাই ভোগ করত শাস্তির খাঁড়া। 

বর্তমান তৃণমূল সরকার এই লুপ্তপ্রায় লোকায়ত ধারাকে স্বমহিমায় জাগিয়ে তুলতে পেরেছে। চুরি, জালিয়াতি, বলাৎকার, ধর্ষণ ও মিথ্যাচারিতাকে একটা শৈল্পিক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পরেছেন। প্রমান করেছেন যে,ঠিক মত লালিত করতে পারলে এই ডাকাতি বিদ্যা বাংলার উর্বর মাটিতে ফুলে ফলে বংশ বিস্তার করতে পারে এখনো। তৃণ-গুল্ম দিয়ে ঢেকে দিতে পারে বাংলার শ্যামলিমা। ফুল হলেও তার গোঁড়ায় আশ্রয় নিতে পারে বিষাক্ত কীট,পতঙ্গ ও সরীসৃপ। বর্তমান তৃণমূল সরকার প্রবল প্রচার ও সদ্মভে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে,বাংলার মাটি অপরাধ ও অপরাধীদের দুর্জয় ঘাটি। একে ডাকাতি বিদ্যার ক্রমবিবর্তন বা অভিযোজন ও বলতে পারেন। 

হ্যাঁ,সুদীপ্ত সেনেরা ডাকাতেদের বংশধর। আধুনিক ছলাকলা বিদ্যায় পারদর্শী বর্তমান প্রজন্ম। গুণগত ও মূলগত পার্থক্য এই যে, সেকালের ডাকাতেরা বড়লোক বা জমিদারদের বাড়িতে ডাকাতি করতেন একালের সুদীপ্তরা মা-মাটি-মানুষের ন্যুন্যতম অবলম্বনটুকুও লুন্ঠন করে নেয়। সেকালের ডাকাতদের বড়দাদারা ছিলেন তাদের নিরাপদ আশ্রয়, একালের সুদীপ্তদের নিভৃত আস্তানা মমতাময়ী দিদির আটপৌরে আঁচল। সেকালের ডাকাতেরা রাতের বেলা ডাকাতি করতেন। সুদীপ্তরা দিনের বেলা প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে লুন্ঠন করে। 

সুদীপ্ত সেনেরা চিঠি দিয়েই ডাকাতি করেছেন। সেই চিঠির সঙ্গে ব্যবহার করছেন দিদি ও তার ভাই বোনদের ছবি। পরিবর্তনকামী মানুষেরা ডাকাতির এই পরিবর্তিত পরিভাষাকে সামাজিকীকরণ করে নিয়েছে। আত্তীকরণ করে নিয়েছেন। কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারেননি ঘাস ফুলে তার সাজানো বাগান নষ্ট করে ফেলবে। অজন্মা প্রেতে তার সোনার ক্ষেত শুষে খাবে। ফলে এই বুকফাটা ক্রন্দন, "দিদি আমাদের বাঁচান। আমরা আপনার মুখ দেখেই সারদায় টাকা রেখেছি। আজ আমরা সর্বহারা। নিজের ভিটেতেও থাকতে পারছিনা। যতক্ষণ টাকা ফেরত না পাব, আপনার বাড়ির সামনে থেকে নড়বোনা। তৃণমূল ভবনের সামনে থেকে উঠবোনা"। 

ডাকাতির অভিজ্ঞানের প্রথম পাঠ থেকে দিদি আউড়ে গেলেন,"আমি তো আপনাদের সারদায় টাকা রাখতে বলিনি । টাকা রাখার আগে ক্রস চেক করা উচিৎ ছিল"। 

দ্বন্দ্ব ঘনীভূত হয়। বিদ্বজ্জনেরা চুপ। তারা যে যার নিজের ঘর সামালাতে ব্যস্ত। দু একটা সিঁধেল ছাড়া আসে পাশে আর কেঊ নেই। 

দিদির বন্ধ ঘরের জানলা দিয়ে শোনা যায় কালি কীর্তনের সুর,"আমি স্বখাত সলিলে ডুবে মরি শ্যামা,দোষ কারো নয় গো মা"।

যুগান্তরের ডাকাতি অভিজ্ঞান তাকে চাগিয়ে তোলে, "না মরবো না, আমি কিছুতেই মরবো না"। আবার ছবির প্রদর্শনী করবো। বুঝিয়ে দেব যে,একেবারে পাতি মাল ও প্রচারের জোরে কেমন কোটি টাকায় বিক্রি হয়। এই খানে চুপি চুপি বলে রাখি, তার ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে কিছু চোর তাদের প্রায়সমাপ্ত ছবি দিদির ক্যানভাসে রেখে যায়। দিদি মিডিয়ার সামনে ওই ছবিতে রং মাখান। এই চোরেদের মধ্যে অনেকে আবার রবীন্দ্রনাথের ছবি জাল করার অপরাধে কেস খেয়ে বসে আছেন।

চেতনাবচেতনের ঘোর। তুলি কোথায় গেল! ছবির ক্যানভাস কোথায়!
এ কী! তুলির বদলে কলসি আর দড়ি! রং এর জায়গায় চুন আর কালি! 
তাছাড়া যে এই ছবি কিনবে সে তো জেলে? 
"হে মা কালি, টাকা দে, না হয় দেখা দে মা"...। বাবা শিব! উপায় বলে দাও বাবা...তোমায় বেশি করে গাঁজা ...গাঁ...জা। ইউরেকা...ইউরেকা...। 
দম মারো দম, বোল শিবশম্ভ...

পরেরদিন ডাকাতির এক অমোঘ ঘোষণা। 
"৫০০ কোটি টাকার তোলা আদায় দিতে হবে আমাকে।
আপনারা বেশি বেশি করে সিগারেট খান। 
আমি জনগণের কিছু টাকা ফিরিয়ে দেব"। 

এই চিঠি বা বিজ্ঞপ্তি জারি হবে সরকারী পৃষ্ঠপোষকটায়। 
সুদীপ্তর নামে মামলা করে নয়? সারদার স্থাবর অস্থাবর অধিগ্রহণ করে নয়। সিগারেট, বিড়ি ও গাঁজার নেশা বৃদ্ধি করে, বুকের পাঁজরের মধ্যে ক্যানসারে বিষ ঢুকিয়ে এই টাকা আদায় হবে। সংসারের ১০% বরাদ্য যা শিশুদের খাদ্যে, শিক্ষায় ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যয়িত হত, তা চিঠি বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেই ডাকাতি হবে!!! 

নাগরাজ চন্ডাল 
ছাত না,বাঁকুড়া

Friday, 26 April 2013

"যা গেছে তা গেছে" ......... প্রাচীন ছাগুলে প্রবাদ



"যা গেছে তা গেছে"
......... প্রাচীন ছাগুলে প্রবাদ


চণ্ডালীতে একটি কথা আছে,"অতি বাড়া বাড়্যা না ঝড়ে ভাইঙ্গা যাবে, অতি ছোট হইয়া না ছাগলে মুড়্যা খাবে"।

কথাটার যথার্থতা এবং তার তিক্ত রস প্রায় ছুঁচো গেলার মতো গলধকরণ করতে বাধ্য হল আত্ত বিস্মৃত বাঙালী জাতি। এ যেন বাঙালীর ল্যালা-ক্যাবলা মুখে প্রভুদের সস্নেহ চপেটাঘাত। পাঁজর ভেঙ্গে দেওয়া পদস্পর্শ। বুকের মধ্যে গণচিতার বহ্নুৎসব।
বাঙালী যে কত বড় হীনজাতিতে পরিণত হয়েছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সারদা গ্রুপ ও তার পোষক রাজনৈতিক দল।



ইদানীং পশু গবেষকেরা বলছেন যে, ছাগল মরুভূমি ডেকে আনে। যে অঞ্চলে ছাগল বেশী চরে কালে তা মরুভূমিতে পরিণত হয়। ছাগলে খেয়ে গেলে গাছ বাড়েনা। ফুল হয় না। ফল ধরে না। বংশ বৃদ্ধি

Thursday, 21 March 2013

সব শিয়ালের এক রা ! আম্বেদকরের Social Inclusion Doctrine ধবংস কর !


শরদিন্দু উদ্দীপন 
সব শিয়ালের এক রা ! 
আম্বেদকরের Social Inclusion Doctrine ধবংস কর !
ভারতের কোন রাজনৈতিক দল জাতপাত চূর্ণ করে মানুষের মধ্যে চিরায়ত বিভেদের দেয়ালটিকে ভাঙতে চায়নি। বরং সযত্নে লালন করেছে। পালন করেছে। আলাদা আলাদা কক্ষের(সেল)আলাদা আলাদা তালা ঝুলিয়ে
(সংখ্যা লঘু,এসসি/এসটি,ওবিসি ইত্যাদি)বিভেদটিকে একটি চিরস্থায়ী বন্দবস্তে পরিণত করে ফেলেছে। আম্বেদকর  দর্শণ জাতপাত ভাঙ্গার কথা বলে। বহুজনের পারস্পরিক সহাবস্থানের ভিত্তিতে বিভেদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করার কথা বলে। আম্বেদকর  দর্শণের এটাই সব থেকে বড় মূলধন। 

ভারতীয় বহুজন সমাজ জাতপাতের কারণেই বঞ্চনার স্বীকার । হিন্দু বর্ণ ব্যবস্থায় সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষকেই জাতের জাঁতাকলে সর্বহারা করা হয়েছে যুগ যুগ ধরে। জাতপাতকে ধর্মীয় মহিমা দিয়ে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ রাষ্ট্রীয় উৎপাদনের প্রায় সবটাই আত্মসাৎ করছে এটা অবশ্যই রাজনীতি।
যে রাজনীতির পেষা কলে ফেলে সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষকে শুধু সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি,মর্যাদাহীন করে পশুসুলভ জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হয়েছে। বঞ্চিতের আত্ম বিকাশের অন্তরায়,শোষণ যন্ত্রের এই

Monday, 18 February 2013

সাবিত্রীবাই ফুলে



(১৮৪৮ সালে পুনের বিদেওয়াড়াতে ভারতীয় মহিলাদের জন্য প্রথম বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন সাবিত্রীবাই ফুলে। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের সর্বপ্রথম আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতা নারী। স্বামী মহাত্মা জ্যোতি রাও ফুলের আদর্শে উদবুদ্ধ হয়ে তিনি নিপীড়িত বঞ্চিতদের শিক্ষার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেন। ১৮৫২ সালে গঠন করেছিলেন মহিলা সেবা দল। এই একই বছরে সর্বজনের মধ্যে শিক্ষা প্রসারের কাজে অনদ্য অবদানের জন্য ব্রিটিশ সরকার ফুলে দম্পতিকে
সম্মানিত করেছিলেন। নারীকে সর্ব ক্ষেত্র থেকে বঞ্চিত করার মনুবাদী শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তিনি। নারীদের শিক্ষা ও সমানাধিকার আদায়ে শ্লোগান তুলেছেলেন " হাম ভারত কি নারী হ্যায়, ফুল নাহি চিঙ্গারী হ্যায়"।
১৮৭৩ সালে মনুবাদী শাসন ও শোষণের স্বরূপ উদ্ঘাটন করতে "সত্য শোধক সমাজ" গঠনের আন্দোলনের ভিতর আওয়াজ তুলেছিলেন "সাবিত্রী ফুলে কি কহ না হ্যায়, শের বন কে রহনা হ্যায়"। দলিত, শোষিত, নিপীড়িত দের তিনি মাঝে মাঝেই একটি কাহিনি শোনাতেন। একটি রূপক কাহিনী। আত্মবিস্মৃত মূলনিবাসীরা এই কাহিনীর মধ্য দিয়ে তাদের আত্মমর্যাদা ও আত্মপরিচয়ের হদিস পেত।)  

অথ সিংহ কথা
সে ছিল প্রসব যন্ত্রণা পীড়িত একটি সিংহী। পেটে দীর্ঘ দিন অভুক্ত থাকার মরণ খিদে। সন্তানের সুস্থ্যতার জন্য তার কিছু একটা খাওয়া ভীষণ জরুরী। শরীরের সমস্ত শক্তি একত্রিত করে সিংহীটি শিকারের জন্য উঠে দাঁড়ায়। কিছুটা তাড়া করে ঝাঁপিয়ে পড়ে একপাল ভেড়ার পালে। অভ্যাস মত লাফিয়ে পড়ে ভেড়াদের লক্ষ্য করে। বিফল হয় সিংহীটি। তার নখ ও থাবার আওতা থেকে ভেড়াগুলো পালাতে সক্ষম হয়। পাথরের গায়ে আছড়ে পড়ে সিংহীটি। প্রসব যন্ত্রণায় ছট ফট করতে করতে মারা যায়।

ভেড়ার পাল তো অবাক। কৌতুহল হয় সিংহীকে পড়ে থাকতে দেখে। সিংহীর পেটের কাছে তুলতুল করে নড়ছে কি ওটা ? কোন বাচ্চা ভেড়া নয়ত? ভেড়া সর্দার সকলকে নিয়ে আক্রমণ করে মৃত সিংহীকে। ঝটিতি আক্রমণে ছিনিয়ে নিয়ে আসে বাচ্চাটিকে।

কিন্তু কি কান্ড এটাতো ভেড়ার বাচ্চা নয়! একেবারে সিংহের বাচ্চা। সিংহ এদেশের রাজা!তার বাচ্চা নিয়ে ভেড়ারা কি করবে? একে ছেড়া যাওয়াই নিরাপদ হবে মনে করল সবাই। পালের গোদা ভেড়ার মনে এল এক জটিল অঙ্ক। ম্যাতকারে ঘোষণা করল সিংহের বাচ্চাটি ভেড়াদের সাথেই থাকবে। অগত্তা যাযাবর ভেড়ারা সিদ্ধান্ত নিল যে,তারা বনের রাজা সিংহের বাচ্চাকে ভেড়ার মত প্রতিপালন করবে। ভেড়া মায়ের দুধ খাইয়ে ভেড়ার আচরণ শেখাবে। ঘাস পাতা খাওয়ানো শেখাবে। আর সিংহের আচরণ, সিংহের সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান একেবারেই ভুলিয়ে ছাড়বে।

সেই থেকে সিংহ সাবক ভেড়ামায়ের কাছে থাকে। ভেড়ামায়ের দুধ খায়। ম্যা ম্যা করে ভেড়ামাকে মা বলে। ভেড়াদের সাথে ঘাস খায়। শৃগাল, কুকুর, হায়না এমনকি শকুনেরা তাড়া করলে লেজ গুটিয়ে পালায়। গায়ে গর্তে বেড়ে উঠলেও রয়ে যায় ভেড়ার মানসিকতা। নখ, থাবা, গুম্ফ ও কেশর বিকশিত হলেও ভেড়ার বৃত্যে ঘুরপাক খায় তার স্বপ্ন। একটি নাদুস নুদুস ভেড়া রমণীর গায়ের গন্ধ পাওয়ার জন্য সে আকুল হয়ে ওঠে।

একদিন ভেড়ার পালে সিংহকে চরতে দেখে বিস্মিত হয় সমবয়সী একটি যুবক সিংহ! নিঃশব্দে গুড়ি মেরে খানিকটা এগিয়ে যায়। ঘাড় উঁচু করে দেখার চেষ্টা করে ওটা সিংহ কিনা! নিশ্চিন্ত হলে দৌড়ে কাছে আসতে চায়। কিন্তু কী কান্ড! সিংহটাও ভেড়ার পালের সাথে ম্যা ম্যা করে পালাচ্ছে যে?
যুবক সিংহটি একটু জোরে দৌড়ে ভেড়ার পালের সিংহের কাছে চলে আসে। গর্জন করে বলে, "আরে তুই পালাচ্ছিস কেন? তুই তো ভেড়া নোস। আমার মতোই সিংহ"।

ভেড়ার পালের সিংহ মানতে চায় না। ম্যা ম্যা করে পালের দিকে ছুটতে থাকে। ভীত গলায় বলতে থাকে, "আমি ভেড়া। ভেড়ামা আমার মা। ভেড়াদের খাবার আমার খাবার। ভেড়াদের ভাষা আমার ভাষা।
যুবক সিংহটির কৌতূহল আরো বেড়ে যায়। কাছে এসে ধরে ফেলে তাকে। মাটিতে চেপে ধরে ম্যা ম্যা ডাক বন্ধ করতে চায়। উল্টে পালটে দেখে নেয়। এটা সিংহ কিনা। দাঁত, নখ, চোখ, কপাল, গোঁফ, কেশর দেখে নিশ্চিত হয় এটা সিংহই বটে। কিন্তু কী কান্ড থাবা একটু আলগা হলে ও পালাতে চায়। ম্যা ম্যা করে জানতে চায় যুবক সিংহটি তাকে মেরে ফেলবে কিনা?

যুবক সিংহটি জানিয়ে দেয় অকারণে সে প্রাণী হত্যা করে না। এ রাজ্যের এটাই নীতি। ভীত সিংহটি বলে, "দোহাই তোমার

আমাকে ছেড়া দাও। আমি ভেড়ার দলে চলে যাই। বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় যুবক সিংহটি। থাবা আলগা হয়ে আসে। আত্মবিস্মৃত সিংহটি ম্যা ম্যা করে পালিয়ে গেলে সে আহত বোধ করে। প্রতিজ্ঞা করে আগামী কাল অপরিণত সিংহকে ভেড়ার পাল থেকে বের করে না আনা পর্যন্ত সে শিকারে যাবে না। বেভুল সিংহের আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদা জাগ্রত করাই তার মিশন। ভেড়ার পালকে সারা রাত ধরে অনুশরণ করে সে। দিনের আলো ফুটতে না ফুটতেই একেবারে ভেড়ার পালের সিংহের কাছে পৌঁছে যায়। ভড়কে যায় ভেড়ার পালে সিংহটা। পালাতে থাকে। আবার সেই একই নাটক। একই সেখানো বুলি। আবার সেই ম্যা ম্যা যুক্ত
তৎসম ম্যাৎকার।  

গর্জে ওঠে যুবক সিংহটি। তাড়িয়ে নিয়ে আসে জলাশয়ের ধারে। তারপর ঘাড় ধরে বলে, "এই দ্যাখ আমাদের দুটো ছায়া। এবার বিচার কর আমরা দুজন এক বংশীয় কিনা! তোর দাঁত, নখ, থাবা,  গোঁফ, কেশর আমার মত কিনা! কর্ম ফেরে আজ তুই ভেড়াদের গোলাম।  ছায়া দেখে নিজেকে চিনে নে। ভ্যাড়ামো ছাড়। আমার মত গর্জন করে বল, আমি সিংহ। এই দেশের ভূমি পুত্র। নিজের অস্তিত্ব ও মর্যাদার জন্য আমারও ভাগিদারি চাই"।

এমন বজ্র  নির্ঘোষ,আত্মপ্রত্যয়ী স্বজন বানী রক্তের ভিতরে কেমন আগুনের হলকা খেলে যায়। জলের ছায়া মনের গভীরে ছাপ ফেলতে শুরু করে।  থর থর করে কাপতে থাকে সমস্ত শরীর। একী শিহরণ না নতুন জন্ম! অভিভূত, আপ্লুত চোখ আনন্দধারা নেমে আসে। তারপর নিরবতা। নিরবতা আরও প্রগাড় করে তোলে দুজনের ভাইচারা। বনের সিংহটি জলদ গম্ভীর গলায় বলে ওঠে, জানিনা তোর মত আরো কত সিংহ সাবক আর কোন কোন পালে চরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তোকে কথা দিলাম কাল থেকে ভেড়া, ছাগল, কুকুর বা শিয়ালের পাল থেকে সিংহ শাবকদের বের করে আনবো। এটাই আমার ব্রত।
এটাই আমার সমাজ পুনর্বিন্যাসের inclusive Mission। তুই আমার সাথে থাকবি তো?
বলিষ্ঠ ঘাড় নাড়ে সিংহটি। কেশর দুলে ওঠে স্বাভাবিক ছন্দে।      

Monday, 11 February 2013

আশিস নন্দী মহাশয়কে একটি খোলা চিঠি


আশিস নন্দী মহাশয়কে একটি খোলা চিঠি
আপনাকে ধন্যবাদ আশিস নন্দী মহাশয়। ধন্যবাদ এই কারণে যে আপনি শাসক শ্রেণীর পক্ষ নিয়েও পশ্চিমবঙ্গের আর্থ সামাজিক বিকাশের প্রকৃত সত্যটি উন্মোচন করে দিয়েছেন। জয়পুর করপোরেট সাহিত্য উত্সবে "সংরক্ষন বিরোধী মঞ্চে" আপনি বলেছেন যে, ভারতবর্ষে দুর্নীতির জন্য দায়ী হল এসসি, এস টি ও ওবিসি মানুষেরা । ... গত একশো  বছরে এসসি/এসটি ও ওবিসিরা পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় নেই তাই এখানে দুর্নীতি কম। অর্থাৎ আপনি পরিষ্কার করে উল্লেখ করেছেন যে,গত একশো বছর ধরে পশ্চিম বাংলায় এসসি/এসটি ও ওবিসিদের কোন আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়নি। ক্ষমতায়ন হয়েছে এই ৩ ক্যাটেগোরির বাইরের মানুষদের। আপনাকে আরো ধন্যবাদ জানানো যেত যদি আপনি এই তালিকার সাথে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও জুড়ে দিতেন। তবেই বাংলার বহুজনকে চিহ্নিত করতে আমাদের সুবিধা হত।  

আপনার আলোচনা সূত্র ধরে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন এসে যায় যে, এই ৩ ক্যাটেগোরির বহুজন সমাজের বাইরের মানুষ কারা? এবং বাংলার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাদের পরিচয় কি? বা অবস্থান কোথায়?
সেন্সাস, ২০০১ অনুশারে পশ্চিমবঙ্গে এসসি/এসটি ও ওবিসিদের জনসংখ্যাগত অবস্থান নিম্নরূপঃ
এসসি - মোট জনসংখ্যার- ২৩%
এসটি- মোট জনসংখ্যার- ৫.৫%
ওবিসি- মোট জনসংখ্যার- ৬০ % এর বেশী।          
ব্রাহ্মণ - মোট জনসংখ্যার- ২ %
কায়স্থ/বদ্দি -মোট জনসংখ্যার- ৩%
অন্যান্য- মোট জনসংখ্যার- ৬.৫%
এখানে অন্যান্য জনসংখ্যার মধ্যে আছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অবাঙ্গালী মানুষেরা। যাদের অধিকাংশই আপনার উল্লেখিত শাসক শ্রেনীর মানুষ নয়। অর্থাৎ নির্দ্বিধায় একথা বলা যায় যে,পশ্চিমবঙ্গের ৯৫% মূলনিবাসী বহুজন বাঙালীর ১০০ বছরের মধ্যে কোন ক্ষমতায়ণ হয়নি। ক্ষমতায়ণ হয়েছে মাত্র ৫% মানুষের, যারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অবঙ্গীয়।  হয়  তারা আনিত,নতুবা অনুপ্রবেশকারী অথবা বহিরাগত। তাই আপনার কথিত ১০০ বছর নয়, বরং পাল যুগ অবসানের পরবর্তী কাল থেকে বাংলার
মূলনিবাসী বহুজন কতিপয় অবাঙ্গালী শোষকদের কাছে পদানত,শৃঙ্খলিত অপমানিত।

এখন প্রশ্ন হল, আপনি কোন মাপক শলাকায় জরিপ করে দাবী করলেন যে,বাংলায় অবঙ্গীয় শাসকদের সুশাসনে দুর্নীতি কম। এবং এই অবঙ্গীয়দের সুশাসনে বাংলার মূলনিবাসীরা দুধে-ভাতে প্রতিপালিত হচ্ছে। তাদের সন্তানেরা অপুষ্টি নিয়ে জন্মাচ্ছে না। মহিলারা অ্যানিমিয়াতে ভুগছে না। তাদের সন্তানেরা সুশিক্ষিত  উঠছে। এবং অধিকাধিক সুযোগ পেয়ে বাংলাকে শ্মশান থেকে তুলে এনে সোনার বাংলায় রূপায়িত করে ফেলেছে।
আপনি কি বোঝাতে চাইছেন যে, অবঙ্গীয় শাসকেরা যেহেতু মূলনিবাসীদের কাঙ্খিত ক্ষমতায়ানের সব কলস ভর্তি করে দিচ্ছে তাই মূলনিবাসীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ানের কোন প্রয়োজন নেই। তেলা মাথায় বেশী করে তেল ঢাললে সে তেল গড়িয়ে গড়িয়ে পায়ের তলার ধুলোকেও ভিজিয়ে দেবে। এতেই অনায়াশে ভর্তি হয়ে যাবে প্রান্তজনের পেট। কি দরকার এত কিছু বুঝে? কি দরকার এত মাথাব্যাথার। বরং তারা সুশাসনের সুবাতাস নিয়ে মিলেনিয়াম, বিলেনিয়াম, সান সিটি বা ফ্যান সিটিতে ঘুরে বেড়াক। জল-জঙ্গল -জমি বেঁচে দিক। চাষবাসের মত আদিম বৃত্তি ছেড়ে দিয়ে ন্যানো,ফিয়াট বা স্কর্পিওর চাকায় হাওয়া দিক।
রাস্তার পাশে দোকান খুলে বসুক। পিঁয়াজি, ফুলুরি মায় চাউমিন বিক্রি করুক । গ্রামের মেয়েগুলো ঘুঁটে গোবরের আল্পনা ছেড়ে বিউটিপার্লার আর ম্যাসাজ সেন্টারে গিয়ে ট্রেনিং নিক। রাতের বেলা ব্রথেল গুলোতে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে শিখুক। উন্নয়নের এটাইতো গতিমুখ। সেটাই যখন তড়িৎ গতিতে তরান্বিত হচ্ছে, তখন মুলনিবাসীদের আলাদা সংরক্ষণ আলাদা করে ক্ষমতায়ানের কোন দরকার নেই!  

ধন্য আপনি আশিস নন্দী মহাশয়। ব্রাহ্মন্যবাদীদের সাথে জলচলের সহবস্থানে আপনার এ অমোঘ পরিণতিতে আমরা বিস্মিত নই। বরং এটাই কঙ্খিত। কেননা প্রসাদান্ন ভোগ করা ভৃত্যের কাছে প্রভুর মাহাত্ব কীর্তন নতুন কিছু নয়। দাসত্বের এ এক পুরাতনী বিধান। যেটা আপনি স্বভক্তি তা পালন করেছেন। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।    

আমি জানিনা আপনার সমাজতত্ত্বের বিনম্র অধ্যায়নে ইতিহাসের কতটা মূল্য আছে। শোষণ শাসনের কোন নীতি শ্রম এবং উৎপাদক শ্রেণির কাছ থেকে তাদের জীবন-জীবিকা,আত্মপরিচয়,মান-মর্যাদা কেড়ে নিয়ে তাদের অপাঙ্কতেয়,অশুচি করে দেয় তা আপনার আভিধানিক শব্দ সঞ্চয়নের মধ্যে আছে কিনা।

আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে ১৯০৬ সালে মহাত্মা গুরুচাঁদের নেতৃত্বে  বাংলা এবং আসামের লেপ্টেন্যান্ট ল্যান্সল টের কাছে একটি তালিকা দিয়ে বাংলার দলিত জাতিসমূহের জন্য ভাগিদারী দাবী করা হয়। সেই তালিকায় বাংলার চন্ডাল সহ যে ৩১ টি জাতির নাম দেওয়া হয়েছিল সেখানে আপনার জাতি তিলি-নবশাখ তালিকা ভুক্ত ছিল। ১৯০৭ সালে আসাম বাংলার জন্য এই আইন কার্যকরী হয়। নেটিভরা শিক্ষা, চাকরী ও রাজকার্যে ভাগিদারী পায়। ১৯০৯ সালের মর্লি মিন্টো সংস্কার আইনে গুরচাঁদের দেখানো এই পথ সারা ভারতবর্ষের জন্য স্বীকার করে নেওয়া হয় এবং ১৯১৯ সালের মন্টেগু চেমস ফোরডের ভারত শাসন আইনে সমগ্র ভারতের জন্য তা কার্যকরী হয়। অর্থাৎ আপনার পূর্ব পুরুষদের শিক্ষা সম্ভব হয়েছিল সংরক্ষণ আইনের জন্যই। আর আপনার এপর্যন্ত  অর্জিত সমস্ত সুখ্যাতির প্রতিটি পালকের গোড়া ছিল সংরক্ষিত। কিন্তু,আপনি এখন সংরক্ষণ বিরোধী মঞ্চের প্রধান প্রবক্তা।
বেশ বেশ!
সমগ্র মূলনিবাসীরা আপনাকে দেখে নিয়েছে! যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। যা করবার করেছে। কিন্তু আমরা এখনো অনেক উত্তর আপনার কাছ থেকে পাইনি।

আপনি কি আমাদের বুঝিয়ে বলবেন,কোন সুশাসনের কল্যাণে মূলনিবাসীদের সমস্ত সম্পদ, স্থাবর-অস্থাবর,জল-জঙ্গল-জমি মুষ্টিমেয় অবঙ্গীয় শাসকদের হাতে পুঞ্জিভুত হয়? শ্রম এবং উৎপাদক শ্রেণীর পেটের উপর পা দিয়ে পরগাছা, পরভোগীদের  স্বেচ্ছাচারের ইমারৎ ওঠে। এবং এই প্রক্রিয়াকে সুশাসন বলে মহিমান্বিত করার জন্য আপনার মত একজন জলচল শূদ্রকে ময়দানে নামানো হয়। সময় পেলে বলবেন। অন্য কোথাও। অন্যখানে। আমরা মূলনিবাসী বঙ্গবাসী এসসি/এস টি,ওবিসি সমাজ  আপনাকে গৌড়ীয় সুধা পান করতে দেখে ধন্য হব।
ধন্যবাদান্তে
শরদিন্দু উদ্দীপন
সোনারপুর, কোলকাতা-৭০০১৫০        

আশিস নন্দী মহাশয়কে একটি খোলা চিঠি
আপনাকে ধন্যবাদ আশিস নন্দী মহাশয়। ধন্যবাদ এই কারণে যে আপনি শাসক শ্রেণীর পক্ষ নিয়েও পশ্চিমবঙ্গের আর্থ সামাজিক

বিকাশের প্রকৃত সত্যটি উন্মোচন করে দিয়েছেন। জয়পুর করপোরেট সাহিত্য উত্সবে "সংরক্ষন বিরোধী মঞ্চে" আপনি বলেছেন যে, ভারতবর্ষে দুর্নীতির জন্য দায়ী হল এসসি, এস টি ও ওবিসি মানুষেরা । ... গত একশো  বছরে এসসি/এসটি ও ওবিসিরা পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় নেই তাই এখানে দুর্নীতি কম। অর্থাৎ আপনি পরিষ্কার করে উল্লেখ করেছেন যে,গত একশো বছর ধরে পশ্চিম বাংলায় এসসি/এসটি ও ওবিসিদের কোন আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়নি। ক্ষমতায়ন হয়েছে এই ৩ ক্যাটেগোরির বাইরের মানুষদের। আপনাকে আরো ধন্যবাদ জানানো যেত যদি আপনি এই তালিকার সাথে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও জুড়ে দিতেন। তবেই বাংলার বহুজনকে চিহ্নিত করতে আমাদের সুবিধা হত।  

আপনার আলোচনা সূত্র ধরে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন এসে যায় যে, এই ৩ ক্যাটেগোরির বহুজন সমাজের বাইরের মানুষ কারা?

এবং বাংলার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাদের পরিচয় কি? বা অবস্থান কোথায়?
সেন্সাস, ২০০১ অনুশারে পশ্চিমবঙ্গে এসসি/এসটি ও ওবিসিদের জনসংখ্যাগত অবস্থান নিম্নরূপঃ
এসসি - মোট জনসংখ্যার- ২৩%
এসটি- মোট জনসংখ্যার- ৫.৫%
ওবিসি- মোট জনসংখ্যার- ৬০ % এর বেশী।          
ব্রাহ্মণ - মোট জনসংখ্যার- ২ %
কায়স্থ/বদ্দি -মোট জনসংখ্যার- ৩%
অন্যান্য- মোট জনসংখ্যার- ৬.৫%
এখানে অন্যান্য জনসংখ্যার মধ্যে আছে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং অবাঙ্গালী মানুষেরা। যাদের অধিকাংশই আপনার উল্লেখিত শাসক

শ্রেনীর মানুষ নয়। অর্থাৎ নির্দ্বিধায় একথা বলা যায় যে,পশ্চিমবঙ্গের ৯৫% মূলনিবাসী বহুজন বাঙালীর ১০০ বছরের মধ্যে কোন

ক্ষমতায়ণ হয়নি। ক্ষমতায়ণ হয়েছে মাত্র ৫% মানুষের, যারা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে অবঙ্গীয়।  হয়  তারা আনিত,নতুবা

অনুপ্রবেশকারী অথবা বহিরাগত। তাই আপনার কথিত ১০০ বছর নয়, বরং পাল যুগ অবসানের পরবর্তী কাল থেকে বাংলার

মূলনিবাসী বহুজন কতিপয় অবাঙ্গালী শোষকদের কাছে পদানত,শৃঙ্খলিত অপমানিত।

এখন প্রশ্ন হল, আপনি কোন মাপক শলাকায় জরিপ করে দাবী করলেন যে,বাংলায় অবঙ্গীয় শাসকদের সুশাসনে দুর্নীতি কম।
এবং এই অবঙ্গীয়দের সুশাসনে বাংলার মূলনিবাসীরা দুধে-ভাতে প্রতিপালিত হচ্ছে। তাদের সন্তানেরা অপুষ্টি নিয়ে জন্মাচ্ছে না।
মহিলারা অ্যানিমিয়াতে ভুগছে না। তাদের সন্তানেরা সুশিক্ষিত  উঠছে। এবং অধিকাধিক সুযোগ পেয়ে বাংলাকে শ্মশান থেকে তুলে

এনে সোনার বাংলায় রূপায়িত করে ফেলেছে।
আপনি কি বোঝাতে চাইছেন যে,অবঙ্গীয় শাসকেরা যেহেতু মূলনিবাসীদের কাঙ্খিত ক্ষমতায়ানের সব কলস ভর্তি করে দিচ্ছে

তাই মূলনিবাসীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ানের কোন প্রয়োজন নেই। তেলা মাথায় বেশী করে তেল ঢাললে সে তেল গড়িয়ে গড়িয়ে

পায়ের তলার ধুলোকেও ভিজিয়ে দেবে। এতেই অনায়াশে ভর্তি হয়ে যাবে প্রান্তজনের পেট। কি দরকার এত কিছু বুঝে? কি

দরকার এত মাথাব্যাথার। বরং তারা সুশাসনের সুবাতাস নিয়ে মিলেনিয়াম, বিলেনিয়াম, সান সিটি বা ফ্যান সিটিতে ঘুরে

বেড়াক। জল-জঙ্গল -জমি বেঁচে দিক। চাষবাসের মত আদিম বৃত্তি ছেড়ে দিয়ে ন্যানো,ফিয়াট বা স্কর্পিওর চাকায় হাওয়া দিক।

রাস্তার পাশে দোকান খুলে বসুক। পিঁয়াজি, ফুলুরি মায় চাউমিন বিক্রি করুক । গ্রামের মেয়েগুলো ঘুঁটে গোবরের আল্পনা ছেড়ে

বিউটিপার্লার আর ম্যাসাজ সেন্টারে গিয়ে ট্রেনিং নিক। রাতের বেলা ব্রথেল গুলোতে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে শিখুক।
উন্নয়নের এটাইতো গতিমুখ। সেটাই যখন তড়িৎ গতিতে তরান্বিত হচ্ছে, তখন মুলনিবাসীদের আলাদা সংরক্ষণ আলাদা করে

ক্ষমতায়ানের কোন দরকার নেই।  

ধন্য আশিস নন্দী। ব্রাহ্মন্যবাদীদের সাথে জলচলের সহবস্থানে আপনার এ অমোঘ পরিণতিতে আমরা বিস্মিত নই। বরং এটাই

কঙ্খিত। কেননা প্রসাদান্ন ভোগ করা ভৃত্যের কাছে প্রভুর মাহাত্ব কীর্তন নতুন কিছু নয়। দাসত্বের এ এক পুরাতনী বিধান। যেটা

আপনি স্বভক্তি পালন করেছেন। আপনার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি।          

আমি জানিনা আপনার সমাজতত্ত্বের বিনম্র অধ্যায়নে ইতিহাসের কতটা মূল্য আছে। শোষণ শাসনের কোন নীতি শ্রম এবং

উৎপাদক শ্রেণির কাছ থেকে তাদের জীবন-জীবিকা,আত্মপরিচয়,মান-মর্যাদা কেড়ে নিয়ে তাদের অপাঙ্কতেয়,অশুচি করে

দেয় তা আপনার আভিধানিক শব্দ সঞ্চয়নের মধ্যে আছে কিনা। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন যে ১৯০৬ সালে মহাত্মা গুরু চাঁদের

নেতৃত্বে  বাংলা এবং আসামের লেপ্টেন্যান্ট ল্যান্সল টের কাছে একটি তালিকা দিয়ে বাংলার দলিত জাতিসমূহের জন্য ভাগিদারী

দাবী করা হয়। সেই তালিকায় বাংলার চন্ডাল সহ যে ৩১ টি জাতির নাম দেওয়া হয়েছিল সেখানে আপনার জাতি তিলি-নবশাখ

তালিকা ভুক্ত ছিল।        
১৯০৭ সালে আসাম বাংলার জন্য এই আইন কার্যকরী হয়। নেটিভরা শিক্ষা, চাকরী ও রাজকার্যে ভাগিদারী পায়।
১৯০৯ সালের মর্লি মিন্টো সংস্কার আইনে গুরচাঁদের দেখানো এই পথ সারা ভারতবর্ষের জন্য স্বীকার করে নেওয়া হয় এবং ১৯১৯

সালের মন্টেগু চেমস ফোরডের ভারত শাসন আইনে সমগ্র ভারতের জন্য তা কার্যকরী হয়। অর্থাৎ আপনার পূর্ব পুরুষদের শিক্ষা

সম্ভব হয়েছিল সংরক্ষণ আইনের জন্যই। আর আপনার এপর্যন্ত  অর্জিত সমস্ত সুখ্যাতির প্রতিটি পালকের গোড়া ছিল সংরক্ষিত।

কিন্তু,আপনি এখন সংরক্ষণ বিরোধী মঞ্চের প্রধান প্রবক্তা।
বেশ বেশ! সমগ্র মূলনিবাসীরা আপনাকে দেখে নিয়েছে! যা বোঝার বুঝে নিয়েছে। যা করবার করেছে। কিন্তু আমরা এখনো

অনেক উত্তর আপনার কাছ থেকে পাইনি।
আপনি কি আমাদের বুঝিয়ে বলবেন,কোন সুশাসনের কল্যাণে মূলনিবাসীদের সমস্ত সম্পদ, স্থাবর-অস্থাবর,জল-জঙ্গল

-জমি মুষ্টিমেয় অবঙ্গীয় শাসকদের হাতে পুঞ্জিভুত হয়? শ্রম এবং উৎপাদক শ্রেণীর পেটের উপর পা দিয়ে পরগাছা,

পরভোগীদের  স্বেচ্ছাচারের ইমারৎ ওঠে। এবং এই প্রক্রিয়াকে সুশাসন বলে মহিমান্বিত করার জন্য আপনার মত একজন জলচল

শূদ্রকে ময়দানে নামানো হয়। সময় পেলে বলবেন। অন্য কোথাও। অন্যখানে। আমরা মূলনিবাসী বঙ্গবাসী এসসি/এস টি,ওবিসি

সমাজ  আপনাকে গৌড়ীয় সুধা পান করতে দেখে ধন্য হব।
ধন্যবাদান্তে
শরদিন্দু উদ্দীপন
সোনারপুর, কোলকাতা-৭০০১৫০        

Thursday, 10 January 2013

হরিচাঁদ ও বাংলার চণ্ডাল বিদ্রোহ-১ম ভাগ


হরিচাঁদ ও বাংলার চণ্ডাল বিদ্রোহ-১ম ভাগ
"Tall and large limbed Chandals were the active and
successful enemy of the Aryan inveders".
ভারতবর্ষের চণ্ডাল জাতি সম্পর্কে ১৮৯১ সালের সেন্সাস কমিশনার, সি.জে ওড়নীল দ্ব্যর্থ হীন ভাষায়
একথা ঘোষণা করেছিলেন।

চণ্ডাল একটি প্রাচীন নরগোষ্ঠী। ভারতবর্ষের সর্বত্র বিরাজমান এই নরগোষ্ঠীর শৌর্য-বীর্য প্রাগার্য ভারতের একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায়। প্রাচীন পালি ও সংস্কৃত সাহিত্যে চণ্ডাল নরগোষ্ঠীর উল্লেখ আছে। মূলতঃ এই নরগোষ্ঠী প্রোটো-অস্ট্রাল নরগোষ্ঠীর একটি বলিষ্ঠ অংশ। বিবর্তনের ধারায় যে জনগোষ্ঠী  পামির, তাকলামাকান হয়ে সমগ্র এশিয়া,আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত জনবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।
অসুরভাষী এই জনগোষ্ঠীই প্রাচীণ নগর সভ্যতার আদি প্রবর্তক,ধারক,বাহক ও প্রতিপালক।  জ্ঞান,বিজ্ঞান,ব্যবসা,বানিজ্য,শিল্পনীতি ও অর্থনীতির যথার্থ প্রয়োগের সমন্বয়ে ভাবিকালের সম্ভাব্য সভ্যতার সোপান প্রস্তুত করতে পরেছিল এই প্রজ্ঞাবানেরা। এই সভ্যতাগুলি যথাক্রমেঃ
১)ক্যাটাল হউক(85000-9000 BC)
২)মেহেরগড় (7000 BC)
৩)আশিরিয়া/অসুরা/মেসোপটেমিয়া(6000 BC)
৪)ফনেশিয়া/আবেস্তা (5500-6000 BC)
৫)ইজিপ্ট (4500-5000 BC)
৬)ইন্দাস (2500-4500 BC)
৭)চায়না (1500-2000 BC)
অসুর ভাষী জনগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা ও অবদানের ফলে প্রাচীণ কলেই গড়ে উঠেছিল একটি সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জ।
সমকালীন সভ্যতার সর্ব উচ্চ শিখরে বিকশিত হয়েছিল তার অনুশাসন এবং পারস্পরিক আদান প্রদান ও সহাবস্থানের নীতি। মেহেরগড়,হড়প্পা,মহেঞ্জোদড়, ধলাভিরা,লোথাল প্রভৃতি অসুর সভ্যতার অবিচ্ছেদ্দ অংশ হলেও শিল্প,সংস্কৃতি, ধম্ম ও দর্শনে একটি সম্পূর্ণ সতন্ত্রতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। অসুরদের সঞ্চিত সম্পদের লোভেই আর্যভাষী বর্বরেরা আক্রমণ সংগঠিত করেছে যুগে যুগে। ধবংস করে দিয়েছে সভ্যতার স্মারক। নৃশংসতার কৃপাণেই সূচীত হয়েছে আর্যায়ন। অসুর সাম্রাজ্যের অন্যতম বলিষ্ঠ জাতি চণ্ডালেরাই এই আর্যায়নের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তু্লতে সক্ষম হয়েছিল এবং  নিজেদের স্বকীয়তা ও স্বধম্ম অক্ষুন্ন রেখে পুনরায় নবকলেবরে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিস্মৃত প্রাগার্যজনের বেদাতীত জ্ঞান।              

লাঙ্গল,জোঙ্গাল,জঙ্গল,ডাঙ্গাল,বোহাল,খেড়ওয়াল,সাঁওতাল,বঙ্গাল প্রভৃতি আদি অস্ট্রাল শব্দগুলির ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলেই চণ্ডাল শব্দের গুনগত এবং অর্থগত অভিব্যক্তিটি যথার্থ প্রতিভাত হয়ে উঠবে। ঋকের অনেকগুলি শ্লোকের রচয়িতা বিশ্বামিত্র ছিলেন চণ্ডাল। গুহক চণ্ডাল,রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী অনন্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। জাতক  কাহিনীতে বোধিসত্ত্বকে সততার প্রতীক হিসেবে চণ্ডাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বহুবার। কার্যসিদ্ধির জন্য সুদাস,মনু,অগ্নী,বরুন প্রভৃতি দাস বা অসুর নেতাদের ও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো বৈদিক সাহিত্যে। অর্থাৎ রক্ষস (পরবর্তী কালে রাক্ষস বলা হয়েছে), অসুর,নাগ,চণ্ডাল শব্দগুলি কোন ভাবেই ঋণাত্মক নয় বরং গুণবাচক এবং ধ্বনাত্মক।

এই ক্ষেত্রে চর্যাপদের কয়েকটি দোহাতে চণ্ডাল শব্দের যে গুণগত এবং অর্থগত ভাব প্রকাশ করেছে তা খানিকটা আলচনা করা যেতে পারেঃ
"কেহো কেহো তোহোরে বিরুআ বোলই
বিদুজণ লোঅ তোঁরে কণ্ঠ ন মেলই।
কাহ্নে গাই তু কাম চন্ডালা।
ডোম্বি ত আগলি নাহি চ্ছিন্নালা" ।। (কাহ্নপাদ ১৮ নং চর্যা পদ)
বা
" কমল কুলিশ মাঝেঁ ভইঅ মিঅলী।
সমতাজো এ জলিঅ চন্ডালী।। (ধামপাদানাম, ৪৭ নং চর্যা পদ)
অথবা
বাজণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
অদঅ বঙ্গালে ক্লেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী।
ণীঅ ঘরণী চণ্ডালী লেলী।। (ভুসুপাদানাম,৪৯ নং চর্যা পদ)    
এখানে পদকর্তাগণ চণ্ডালের প্রকৃত স্বরূপ উল্লেখ করে বলেছেন যে, আত্মশক্তি বিকাশের কঠিনতম পথ পরিক্রমার মাধ্যমেই একমাত্র অদ্বিতীয় বঙ্গালে প্রবেশ ঘটে।
এবং চণ্ডালী স্বরূপ স্বশক্তিকরণ হলে বা প্রজ্ঞার আলো প্রজ্বলিত হলে তবেই বাঙ্গালী হওয়া যায়। অর্থাৎ প্রজ্ঞা ও আত্মশক্তি উপলব্ধির সুসংহত এবং সমতা বোধের
অবস্থা প্রাপ্তিই চণ্ডাল মার্গদর্শন।  চণ্ডালের স্বরূপ বুঝতে না পেরে অনেকে তাকে বিরুপ কথা বলে। কিন্তু বিদুজন বা গুণীজন তার কন্ঠ ত্যাগ করেন না।      

স্মৃতি শাস্ত্র রচনার কালেই আক্রশ বশতঃ চণ্ডাল জাতিকে পঙক্তিচ্যুত করা হয়েছিল এবং রাজ দণ্ডকে ব্যবহার করে টেনে নামানো হয়েছিল সর্ব নিম্ন স্তরে । এই প্রসঙ্গে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের প্রসঙ্গে আলোচনাটি প্রনিধান যোগ্য। "বৈদিক কাল ও বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কেও আমরা সেই কাথা বলতে পারি। এই সুদীর্ঘ সময় ছিল ধ্বংসের যুগ,
অনুকরণের কাল। প্রাচীন দেশীয় শব্দ, লিপি, ভাষা আত্মসাৎ করার অন্ধকার যুগ। অর্থাৎ মূলত এদেশের ভাষা ও শব্দ সম্ভার, সাহিত্যরচনার রীতি এবং লেখকদের আশ্রয় করেই বিজয়ী আর্যরা নিজেদের প্রয়োজন সিদ্ধিমূলক বৈদিক রচনা করে নিয়েছিল। বেদ বা বৈদিক সাহিত্য তাই মূলতঃ ঔপনিবেশিক সংবিধান। ...............
এ সাহিত্য তাই উপনিবেশবাদের মূল সুর, ঘৃণা এবং জাত বিদ্বেষ, শোষণ ও পীড়নের কাহিনী কথায় ভরা।
........চূড়ান্ত বর্ণ -বিদ্বেষ চলেছে, ঈশ্বরের নামে ও ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে"।

আর্যরা অসহিষ্ণু । শিকার এবং সংগ্রহ,পরের ধন অপহরণ এবং বর্বরতাকে তারা পরিহার করতে পারেনি কখনো। আর্যদের ধর্ম পালনের কাঙ্খিত কামনায় অধিকাংশ জুড়েই পরিলক্ষিত হয়েছে অর্থ,সম্পদ,নারী,সুরা এবং যৌনতা প্রাপ্তির প্রবল আকুতি। অসুরদের (সুরা পান করে না যারা) ভাগিদারী ওরা কোন কালেই দিতে চায়নি। বরং অসুরদের শ্রম এবং উৎপাদনের উপর গড়ে ওঠা আর্থ-সামাজিক সম্পদের সমস্তটাই আত্মসাথ করার জন্য ধর্মগ্রন্থ ও অনুশাসনগ্রন্থের আশ্রয় নিয়ে বর্ণ ব্যবস্থাকে স্বর্গীয়
মহিমা প্রদান করেছে। ব্রাহ্মন্যবাদকে সর্বগ্রাসী করে তুলেছে এবং শ্রমজীবি মানুষের মুখে গরল ঢেলে দিয়ে সুধা খাওয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছে। বাংলায় পাল শাসনের পতনের পর একেবারে মুঘল আমলের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন সূচিত  হয়নি।

হরিচাঁদ ঠাকুরের চণ্ডাল বিদ্রোহ ও মতুয়া ধম্ম  তাই ভারতীয়  অসুর ধম্ম ও দর্শনের এক বেগবান প্রবাহ।
মানবতার প্লাবনে বেদ,বিধি,শৌচাচারের বৃত্ত ভেঙ্গে ফেলে বুকের মাঝে বিশ্ব লোকের সাড়া পাওয়ার উদাত্ত আহ্বান। প্রজ্ঞা ও স্বশক্তি করণের অনবদ্য উন্মেষ। অজ্ঞানতা দূর করে সমতা প্রাপ্তির সর্ব উচ্চ মার্গে সমবেত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান। অথবা সহস্র বছরের অবজ্ঞার আবর্তে ঘনীভূত এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়। বাঁধার গণ্ডি ভেঙ্গে ফেলার অদম্য অভিঘাত।
হরি চাঁদ অনুধাবন করেছিলেন ব্রাহ্মন্যবাদ মানবতাবাদের পরিপন্থী। একে স্বীকার করা মানেই গোলামির শৃঙ্খল পরিধান করা। আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদাকে চিরকালীন বিসর্জন দিয়ে ব্রাহ্মনের বিনম্র দাসে পরিণত হওয়া এবং জাত বেজাতের কলঙ্ক চিহ্ন শিরধার্য করে উচ্ছিষ্টভোগীর মত জীবন ধারণ করা। এর কোন অংশই তিনি স্বীকার করেন নি। বরং  বেদ-বিধি, জাগ, যজ্ঞ, তন্ত্র, মন্ত্র, দেব-দ্বিজ প্রভৃতি অনৈতিক অনাচারকে অস্বীকার ও অগ্রাহ্য
করে মতুয়া দর্শনের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।  
"নাহি মানে দেব দ্বিজ আলাহিদা পথ।
ইহারা হয়েছে  এক হরি বলা মত।।
...কেহ বলে জাতিনাশা সকল  মতুয়া ।
দেশ ভরি শব্দ হল মতুয়া মতুয়া।।
...তাহা শুনি ডেকে বলে প্রভু হরিচাঁন
ভিন্ন সম্প্রদায় মোরা মতুয়া আখ্যান"।।

Monday, 26 November 2012



আম্বেদ করের  Social Inclusion Doctrin-1
ব্রাহ্মন্যবাদীদের গোটা রাজনীতিটাই Exclusion theory'র উপর দাঁড়িয়ে। মানুষের মধ্যে বিভেদের বিষ না থাকলে ব্রাহ্মন্যবাদ টেকেনা। মাক্সবাদীরা Inclusion'র কথা বলে। কিন্তু ভারতবর্ষে তার প্রয়োগ করার জন্য যারা বেশী উৎসাহী হলেন তারা কেউই শোষিত শ্রেণীর প্রতিনিধি নয়। ব্রাহ্মন্যবাদের পাঠশালায়  declassed কম্যুনিস্ট নেতা। তারা ভারতীয় পটভূমিতে শোষক-শোষিতের ব্যাখ্যাই দিতে পারলেন না। অথবা সযত্নে এড়িয়ে গেলেন ব্রাহ্মন্যবাদীদের discrimination theory বর্ণবাদ। Class struggle না  Caste struggle বুঝতে বুঝতে নখ-দন্ত ভোঁতা হয়ে গেল । সুযোগ বুঝে ব্রাহ্মন্যবাদীরা পুরো পলিটব্যুরোটাই দখল করে নিল। Declassification তত্ত্বের বহুল প্রয়োগে বামুন ঘরের ছেলে/মেয়েদের জাতীয় স্তর থেকে একেবারে আলু-পটল কারবারীদের ইউনিয়ন পৌঁছে দিল। মাক্সবাদী স্কুলে ১০০ বছর ধরেও কোন শোষিত শ্রেণীর প্রতিনিধি উঠে এলো না। অথবা উঠতে দেওয়া হল না।  ভারতীয় মাক্সবাদ হয়ে দাঁড়ালো চিরাচরিত ব্রাহ্মন্যবাদী বা মনুবাদের প্রয়োগশালা । এটাই আশঙ্কা ছিল ডঃ বি আর আম্বেদকরের। শ্রম মন্ত্রী থাকাকালীন মাক্সবাদী ইউনিয়নকে আর্থিক সুবিধা পেতে সাহায্য করলেও নমুনা দেখে তিনি শঙ্কা বোধ
করেছিলেন ।

ভাগিদারী আন্দোলনের সপক্ষে এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বঞ্চিত জনপুঞ্জের মধ্যে প্রকৃত যে আন্দোলন বা সংস্কারগুলি শুরু হয়েছিল সমকালীন ভারতে তার সাথে মাক্সবাদীরা মিলতে পারেনি। চন্ডাল হরিচাঁদ ঠাকুরের তেভাগা আন্দোলন,মহাত্মা জ্যোতি রাও ফুলের সত্যশোধক সমাজ গঠন,রামস্বামী পেরিয়ারের Self Respect Movement,নারায়নাগুরুর সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন,মহাত্মা গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা,চাকুরী ও রাজনৈতিক ভাগিদারী আন্দোলন এবং সর্বোপরি বাবাসাহেবের জাতপাত, শোষণ মুক্ত সর্বজন সমাজ গঠনের কোন প্রক্রিয়াতেই মাক্সবাদীদের অংশগ্রহণ ছিল না। বা এই আন্দোলনগুলিকে
বঞ্চিত,নিপিড়িত মানুষের  দাসত্বের থেকে মুক্তি বা  ব্রাহ্মন্যবাদের divine slavery থেকে মুক্তির প্রয়াস বলেও
স্বীকার করেনি। বরং মনুবাদীদের মতো এই আন্তরিক উত্থানকে জাতপাতের রাজনীতি বলে উপেক্ষা করেছে।

পাহাড়ী বিদ্রোহ (দুমকা),মুন্ডা বিদ্রহো,তিলকা মাঝির জল-জঙ্গল-জমি-পাহাড়-বনভূমি রক্ষার আন্দোলন,সিধু-কানুর "হুল মাহা" মাতৃভূমি রক্ষার আমরণ লড়াই,বীরসার "উলগুলান" কোনটিই দিকু সমাজের কাছে সমাদর পায়নি।

ভারতবর্ষের কোন রাজনৈতিক দল জাতপাত চূর্ণ করে মানুষের মধ্যে চিরায়ত বিভেদের দেয়ালটিকে ভাঙতে চায়নি। বরং সযত্নে লালন করেছে। পালন করেছে। আলাদা আলাদা কক্ষের(সেল)আলাদা আলাদা তালা ঝুলিয়ে (সংখ্যা লঘু,এসসি/এসটি,ওবিসি ইত্যাদি)বিভেদটিকে একটি চিরস্থায়ী বন্দবস্তে পরিণত করে ফেলেছে। আম্বেদকর  দর্শণ জাতপাত ভাঙ্গার কথা বলে। বহুজনের পারস্পরিক সহাবস্থানের ভিত্তিতে বিভেদের শেকড় সমূলে উৎপাটন করার কথা বলে। আম্বেদকর  দর্শণের এটাই সব থেকে বড় মূলধন। তার  Annihilation of the Caste কে অনুশরণ করে  কাঁসিরাম জি আওয়াজ তুললেন "জাতি তোড়ো সমাজ জোড়ো" 'জয় ভিম, জয় ভারত'। ১৯৮৪ সালে গঠন করা হল বহুজন সমাজ পার্টি। তিনি বললেন এটি একটি রাজনৈতিক মিশন। সমাজ পুনর্বিন্যাসের মিশন। সমাজ নর্বিন্যাসের পরিকল্পনা হবে "যার যত সংখ্যা ভারি,তার তত ভাগিদারী। ভিশন 'বহুজন হিতায়,বহুজন সুখায়'।

 কিন্তু জাত ব্যবসায়ীরা এতে বেজায় অখুশি। উল্টে তারা জাতপাকে রাজনীতির আঙিনায় নিয়ে আসার জন্য বহুজন সমাজ পার্টিকেই দায়ী করতে লাগলেন। ব্যপারটা অদ্ভুত!ভারতীয় বহুজন সমাজ জাতপাতের কারণেই বঞ্চনার স্বীকার । হিন্দু বর্ণ ব্যবস্থায় সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষকেই জাতের জাঁতাকলে সর্বহারা করা হয়েছে যুগ যুগ ধরে। জাতপাতকে ধর্মীয় মহিমা দিয়ে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ রাষ্ট্রীয় উৎপাদনের প্রায় সবটাই আত্মসাৎ করছে এটা অবশ্যই রাজনীতি। যে রাজনীতির পেষা কলে ফেলে সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষকে শুধু সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়নি,মর্যাদাহীন করে পশুসুলভ জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হয়েছে।    
বঞ্চিতের আত্ম বিকাশের অন্তরায়,শোষণ যন্ত্রের এই জগদ্দল পাথরটাকে গুড়িয়ে দেওয়াই আম্বেদকরের মিশন । এই মিশন "Survival for the fittest"নয় । নয় বেঁচে থাকার জন্য শধুই লড়াই এর উন্মত্ত রণহুঙ্কার। বা প্রতিশোধ পরায়ণ ক্ষমতা দখলের দস্তাবেজ ।  যে লড়াইয়ের অন্য প্রান্তে অবস্থান করে শ্রেণী শ্ত্রু।
যাকে রণনীতি বা রণকৌশলের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পরাভূত করে প্রোলেতারিয়েতের শাসন কায়েম করতে হয় ।
এই আদিম হিংস্র মানবিকতার বৈদেশিক ব্যখ্যা আম্বেদকরবাদে জায়গা পায়নি। বরং পরম মিত্রতা বা ভাইচারাই চিরস্থায়ী ভাবে বৈরিতার অবসান ঘটাতে পারে, ভারতীয় দর্শনের এই অমর বাণী তিনি মেনে নিলেন।“NAHI BERENA BERANI SAMANTIDHA KUDACHANANG. ABERENA CHA SAMMANTI ESO DHAMMO SANATANO”।

Friday, 19 October 2012

অসুর-বাঙ্গালী নিধনের জন্য ভৈরবী প্রথা



অসুর-বাঙ্গালী  নিধনের জন্য  ভৈরবী প্রথা  

বাজারে ধর্মের ষাঁড় ছেড়ে দেবার একটা লোকায়ত প্রথা আছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভিতর এইসব ষাঁড়েরা ঋতুবতী গাভীদের নিষিক্ত করে। কৃষিজীবী মানুষেরা উন্নতমানের গোকুল বাড়ানোর জন্য সহমতের ভিত্তিতে এটা করে থাকতো। বিনিময়ে ষাঁড় পেত অবারিত মাঠ। যত্র তত্র বিচরণের অবাধ ছাড়ত্র। ঋতুবতী গাভীদের সঙ্গে সহবাসের অধিকার। এইসব ষাঁড়গুলোকে ভৈরবের প্রতিনিধি হিসেবে সমীহ করার বিষয়টাও লোকায়ত। মেয়ে ষাঁড় বা ষাঁড়নী ছেড়ে দেবার প্রচলন বাংলাতে অন্ততঃ দেখিনা।  

বল্লাল সেন অসুর বাংলাকে কৌলীন্য প্রথার চোলাই গেলাতে শুরু করলে এরকম একটি প্রথা চালু হয় একেবারে মানুষের জন্য। ধর্মের ষাঁড় ছেড়ে দেবার মতো কৌম সমাজ থেকে রূপবতী যুবতী বাছাই করে তৈরী হয় ভৈরবীদের বাহিনী । এরা একদিকে যৌনাচারী কাপালিকের সাধন সঙ্গী। অন্যদিকে দেহপসারিনী । রূপের জালে সুগঠিত যুবককে ধরে এনে কাপালিকের হাতে তুলে দেওয়া ছিল এদের কাজ। কাপালিকের খড়্গ এরকম সহস্র  বাঙ্গালী যুবকের শিরোচ্ছেদ ঘটিয়েছে তার অনেক প্রমাণ আছে। প্রেমের জালে ফাঁসাতে গিয়ে অনেক ভৈরবী নিজেও ফেঁসে গিয়েছে এমন প্রমাণতো কপালকুণ্ডলা। দু একটি অঘটন ছাড়া এই প্রথা যে দারুণ ভাবে অসুরদের নির্বংশ করতে সক্ষম হয়েছিল তাতো ব্রিটিশ পূর্ব ভারতে সবক্ষেত্রে অসুরদের অনুস্থিতি থেকেই অনুমেয়।

দুর্গা আবার ভৈরবীদের সর্দারনী। তিনি দেহপসারিণী মেনকার কন্যা। ইন্দ্রপ্রস্ত বিনিময়ের সন্ধিতে অসুর গিরিরাজ মেনকাকে পেয়েছিলেন। দেবতারা তাকেই মহিশাসুর নিধনের জন্য বিষকন্যা হিসেবে প্রেরণ করে। কিন্তু দুর্গা মহিশাসুরের রূপ,গুন ও খ্যাতি দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হয় । সধর্মিণী হিসেবে অসুরপুরীতে সন্তানদের নিয়ে দিন কাটায়। কাপালিক ইন্দ্র ও ব্রহ্মা এতে ভয়ানক ক্ষেপে যায়। এর পরেই ঘটে বালক শুম্ভ-নিশুম্ভের হত্যা লীলা ও মহিশাসুর বধ।


আজও আত্মবিস্মৃত অসুর বাঙ্গালী ভৈরবীর মোহে আচ্ছন্ন। ঢাকের গগন ভেদী গর্জনে ঢাকা পড়ে গেছে তাঁদের পূর্বপুরুষের আর্তনাদ। ধুপের ধোঁয়া আর ফুল বেলপাতার গন্ধে ঝাপসা হয়ে গেছে দৃষ্টি। ব্রাহ্মন্যবাদের হাড়িকাঠে অসুর বাঙ্গালীর নির্বীর্য করনের এটাই এখন  সব থেকে শক্তিশালী নিধন যজ্ঞ ।  

Monday, 27 August 2012

INCOME GENERATION ACTIVITIES with Mushroom


"Positive steps against hunger and toward self-sufficiency".



Cultivation of Oyster and Paddy straw Mushroom can meet the huge deficiency of nutrition to the marginalized people.


Mushroom is a living organism and biologically known as fungus (pl. fungi). Its body is made up of cells that take the form of long filaments, known as hyphae (sing. hypha), and its structure as well as chemistry distinguishes it from other­ Kingdoms of Living World like Animal, Plant, Protista and Monera. Fungi, numbering about 200,000 species and distributed all over the world, have now earned the distinction of a separate Kingdom.
Mushroom is a fungus but every fungus is not a mushroom. Large macroscopic fleshy fungi are known as mushrooms. In the Kingdom of Fungi, the most species are microscopic and they do not come under the category of mushrooms. The larger fungi, which reproduce by forming mushrooms, flourish best in moist and shady habitats and biologically belong to the two sub-divisions of Ascomycotina and Basidiomycotina, either is characterised by the formation of a special type of sexual spore, the ascospore and the basidiospore respectively. Each of these two sub-divisions of the fungi is further divided into a number of Classes, Orders, Families, Genera and Species. Mushroom growers in India are, however, concerned with only three specific genera of the sub-division of Basidiomycotina for commercial exploitation of the technology of mushroom cultivation. These genera include Agaricus, Pleurotus and Volvariella. Agaricus is commonly known as button mushroom, Pleurotus as oyster mushroom and Volvariella as paddy-straw mushroom. The cultivation of mushrooms in India has earned some considerable popularity in recent years with reference to the two Agaricus species (Agaricus bisporus and Agaricus bitorquis), the two Pleurotus species (Pleurotus sajor-caju and Pleurotus citrinopileatus) and the two Volvariella species (Volvariella diplasia and Volvariella volvacea).
In each of these cultivated species, the fruiting body (commonly known as mushroom) consists of an umbrella-shaped cap (also known as pileus) that is supported on a stalk (also known as stipe) that is produced through aggregation of mycelia in the substratum. A ring-like structure, known as annulus, is found on the stipe of Agaricus, and a cup-like structure, known as volva, is noticed at the base of the stipe of Volvariella. Neither annulus nor volva is present in Pleurotus. The two faces of the gills (also known as lamellae) which are situated underside of the pileus and radiated from the apex of the stipe to the margin of the pileus bear enormous number of spores which are released at intervals and germinate in a suitable substratum to produce a hypha. Each individual hypha is a filament that grows by extension at the apex. While growing in the substratum, it produces enzymes that effect a breaking down of complicated substances into simple molecules. These molecules are 'absorbed by the hypha to provide energy for further growth. The hypha branches out and produces a number of hyphae. These hyphae in the substratum do not behave independently but act as a colony. The interwoven hypha forms a fluffy mass, known as mycelium (pl. mycelia), which gradually spreads throughout the substratum. Under favourable conditions the mycelia aggregate to form small knot-like buds, the beginning of a fruiting body (also known as primordia). It quickly expands and emerges out form the substratum as a fully-grown fruiting body (also known as carpophore or fructification). 

Prepared and circulated by Action Research Institute, 47D Palm Avenue, Kolkata 700 019 


Positive steps against hunger and toward self-sufficiency.


Mushroom is a living organism and biologically known as fungus (pl. fungi). Its body is made up of cells that take the form of long filaments, known as hyphae (sing. hypha), and its structure as well as chemistry distinguishes it from other­ Kingdoms of Living World like Animal, Plant, Protista and Monera. Fungi, numbering about 200,000 species and distributed all over the world, have now earned the distinction of a separate Kingdom.
Mushroom is a fungus but every fungus is not a mushroom. Large macroscopic fleshy fungi are known as mushrooms. In the Kingdom of Fungi, the most species are microscopic and they do not come under the category of mushrooms. The larger fungi, which reproduce by forming mushrooms, flourish best in moist and shady habitats and biologically belong to the two sub-divisions of Ascomycotina and Basidiomycotina, either is characterised by the formation of a special type of sexual spore, the ascospore and the basidiospore respectively. Each of these two sub-divisions of the fungi is further divided into a number of Classes, Orders, Families, Genera and Species. Mushroom growers in India are, however, concerned with only three specific genera of the sub-division of Basidiomycotina for commercial exploitation of the technology of mushroom cultivation. These genera include Agaricus, Pleurotus and Volvariella. Agaricus is commonly known as button mushroom, Pleurotus as oyster mushroom and Volvariella as paddy-straw mushroom. The cultivation of mushrooms in India has earned some considerable popularity in recent years with reference to the two Agaricus species (Agaricus bisporus and Agaricus bitorquis), the two Pleurotus species (Pleurotus sajor-caju and Pleurotus citrinopileatus) and the two Volvariella species (Volvariella diplasia and Volvariella volvacea).
In each of these cultivated species, the fruiting body (commonly known as mushroom) consists of an umbrella-shaped cap (also known as pileus) that is supported on a stalk (also known as stipe) that is produced through aggregation of mycelia in the substratum. A ring-like structure, known as annulus, is found on the stipe of Agaricus, and a cup-like structure, known as volva, is noticed at the base of the stipe of Volvariella. Neither annulus nor volva is present in Pleurotus. The two faces of the gills (also known as lamellae) which are situated underside of the pileus and radiated from the apex of the stipe to the margin of the pileus bear enormous number of spores which are released at intervals and germinate in a suitable substratum to produce a hypha. Each individual hypha is a filament that grows by extension at the apex. While growing in the substratum, it produces enzymes that effect a breaking down of complicated substances into simple molecules. These molecules are 'absorbed by the hypha to provide energy for further growth. The hypha branches out and produces a number of hyphae. These hyphae in the substratum do not behave independently but act as a colony. The interwoven hypha forms a fluffy mass, known as mycelium (pl. mycelia), which gradually spreads throughout the substratum. Under favourable conditions the mycelia aggregate to form small knot-like buds, the beginning of a fruiting body (also known as primordia). It quickly expands and emerges out form the substratum as a fully-grown fruiting body (also known as carpophore or fructification).

Friday, 24 August 2012

THE ASSUR CIVILIZATIONS


THE ASSUR CIVILIZATIONS
CATAL HUYUK, ASSYRIA(asura), EGYPT, MESOPATAMIA, INDUS, CHINA AND FANESIA were the ASURA Civilization.
Renowned scholars are coming into conclusion that, all the ancient CIVILIZATIONs those are discovered were ASUR CIVILIZATION (non-Aryan):
1)      CATAL HUYUK  in modern Turkey (85000-9000B.C.)
2)      MEHERGARH in modern  Pakistan(7000 BC)
3)      ASSYRIA/ASURA/MESOPOTAMIA  in modern Iraq(6000 BC)
4)      FANESIA/ABESTA  in Modern Iran(5500-6000)
5)      EGYPT in modern northern Africa.(4500-5000)
6)      INDUS in modern India and  Pakistan( 2500-4500 BC)
7)      CHINA  (1500-2000BC)


Assyria was a Semitic Akkadian kingdom, extant as a nation state from the late 25th or early–24th century BC to 608 BC[1] centred on the Upper Tigris river, in northern Mesopotamia (present day northern Iraq), that came to rule regional empires a number of times through history. It was named for its original capital, the ancient city of Assur (Akkadian: 𒀸𒋗𒁺 𐎹 Aššūrāyu; Aramaic: ܐܫܘܿܪ Aššur; Hebrew: אַשּׁוּר Aššûr; Arabic: أشور Aššûr). Assyria was also sometimes known as Subartu, and after its fall, from 605 BC through to the late seventh century AD variously as Athura, Syria (Greek), Assyria (Latin) and Assuristan. The term Assyria can also refer to the geographic region or heartland where Assyria, its empires and the Assyrian people were centered. Their descendants still live in the region today, and they form the Assyrian Christian minority in modern Iraq, and exist also in north east Syria, south east Turkey and north west Iran.[2][3]
 
 “A river watering the garden flowed from EDEN, and from there it divided, had four head streams …….The name of the third is the Tigris, it runs along the east of ASSUR. And the fourth river is the Euphrates”.
                                    Genesis, Old Testament, Holly Bible.
The land lying between the two rivers, the Euphrates and Tigris was known as Assyrian Civilization. The southern part of the Assyria was known as Sumer or Sumer-Akkad. Greek literature described the civilization as Mesopotamia the land between two rivers. The main city was as famous as their God’s name ASSUR. NINEV the Gorgeous city was established at the north-west part attained a high level civilized city. We got rock edict by the king ASSURNASIRPAL  and ASSURBANIPAL.
Assurbanipal was a great philosopher and scholar. Holly bible added the story of Noah’s Ark from his library.
Hammurabi the famous Assur king was the founder of judicial system.

And lastly INDUS the neighboring city of ASSUR had a keen socio-cultural and trade relation destroyed by the barbaric Aryans. 

Tuesday, 7 August 2012

MATUA is the Religious Revolution against Heen (rubbish) Dharma


Matuas are the adherents of HARICHAND a CHANDAL religious leader during British time. Chandals (now Namasudra) are the second highest population in West Bengal after partitio
n of Bengal. They are believed to be descendants of the original inhabitants of Bengal. 90% of Muslims of greater Bengal had their origin in Chandals. They dropped off to Islam during Muslim rule leaving only fraction of their original strength. (Chatterjee, S.P: Bengal in Maps, 1948, p.48.). They are the indigenous, aboriginal people of Bengal, who have been living there from time immemorial. ( O’Malley, L.S.S: 1908, 1925).
During Battle of Ten Kings in1300 BC -1100 BC Aryans invaded India, destroyed Indian cities (INDUS) and made the Indian slave. Before that they started to write VEDAS copping the Indian scripts (Aryans didn’t have any script with them). In the 10 mondal (phases) of Rick Vedas they divided the people into 4 Varnas as Brahman, Rajanya, Baisya and Sudra and fixed the rights and duties of the people based on their birth.


GOTAMA the 28th Buddha revolted against the inhuman Aryan religion and united the people under the supreme truth “Dhamma as I understand it consists in recognizing that enmity does not disappear by enmity. It can be conquered by LOVE alone”. But the Satanic elements guided the Brahmans to continue their conspiracy. Again they raised their head and spreaded the poison among the people. They wrote so many books those inspired them to destroying, killing and capturing the properties of aboriginals. ARTHA SASTRA by Kautilya (during 350 BC-280 BC), MANUSMRITI by Bhrigu (the Brahmanical Pinal Code during 185 BC) and SRIMAT BHAGABAT GITA by Sankarachariya(in the name of Vyasas) guided them to do the brutality as their holly duties. During the contra revolution, Brahmans made the 85% of aboriginals slave. In the name of RILIGION they have fragmentized the Indian people into 6748 of castes, adulterating with untouchablity, hate, anger and discriminations. They contaminated the human values pushing vulgar, drinking, smoking of Ganja, sex and polygamy. The religious places were established as brothels. This intoxication made the people inhuman and criminals. Thus BHAKTI MOVEMENT started by the religious leaders of aboriginals. Guru Nanak, Snt. Kabir, Sant. Ravidas, Tukaram, Mirabai so many religious leaders raised their voice against the Heen Dharma introduced by Brahmans.
MATUA the belated Religious Revolution by the CHANDAL leader HARICHAND started against the Brahmans and their Heen Dharma (Hindu). He smashed the chain of slavery by the Brahmans and taught the simplest religion following BUDDHA. He proclaimed MATUA means “Me like You” Dhamma. Every Matua follow his teaching as 12 AGYA(order):
• Be simple.
• Make your nature (character) fresh.
• Feel yourselves in every creature.
• Avoid stealing and untruth.
• Do the right work in hand.
• Avoid the Brahman from your life.
• Keep away VEDAS from your life.
• Do the Garhasta Dhamma(conjugal religion).
• Avoid sensual pleasure and polygamy.
• Avoid alcoholism.
• Be educated and religious.
• Be with agriculture and trade.

The disciples of Harichand Thakur are calle PAGOL (generally stands for mad person) are the wise people organize the villages forming MATUA DAL (groups). Leader of the MATUA DAL is called DALAPATI controls the followers to their religious life.