Tuesday, 13 December 2016
Monday, 28 November 2016
নৈরাজ্য, মন্বন্তর, মহামারীর বাহক নরেন্দ্র মোদিঃ
আকারে একেবারে খর্বাকৃতি হলেও “বামন” রাজা মহাবলীকে হত্যা করতে পারে তার প্রতীকী কাহিনী আমরা ভগবত পুরাণে পেয়েছি। এই কাহিনীতে গর্বভরে দাবী করা হয়েছে যে বামন আকারে ক্ষুদ্র হলেও কূটকৌশল এবং বুদ্ধিতে অপ্রতিরোধ্য দুর্জেয়। এখানে বামন ভারতবর্ষের ৩.৫% ব্রাহ্মণের প্রতিনিধি এবং রাজা মহাবলী মূল ভারতের ৯৬.৫% জনগণের শাসক। এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে যে বুদ্ধি এবং কৌশলে গোলামীর জঞ্জির পরিয়ে একেবারে প্রসাদান্নভোগী বা উচ্ছিষ্টভোগী পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হয় তার নাম ব্রাহ্মন্যবাদ।
বেদ থেকে একেবারে খ্রিষ্টীয় বার শতক পর্যন্ত লেখা ব্রাহ্মন্যবাদি গ্রন্থগুলি সতর্ক ভাবে পাঠ করলেই আমরা বুঝতে পারব যে ব্রাহ্মন্যবাদ টিকে আছে সম্পূর্ণ আবেগ ও অন্ধবিশ্বাসের উপরে। আর এই অন্ধ বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্রাহ্মণেরা মানুষের শরীরে বেড়ি না পরিয়ে মস্তিষ্কতে ঠুলি বসিয়ে দিয়েছে এবং মানুষের আবেগকে ধর্মীয় রসায়নে জারিত করে ব্রাহ্মণের বানীকে অমৃত ভক্ষন এবং তাদের কাজগুলিকে দৈবশক্তির মহিমা হিসবে চিরস্থায়ী করে তুলেছে। তাই এখনো ভারতের মানুষ ব্রাহ্মণের জালিয়াতি, লাম্পট্য, মিথ্যাচার, শঠতা, ভেদনীতি, নরহত্যা, গুপ্তহত্যা এবং নৈরাজ্যকে অন্ধের মত অনুসরণ করে। দেব লীলা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন ।
ভারতের আরএসএস এবং তার তৈরি বিজেপি এই ব্রাহ্মন্যবাদী ব্রিগেড। এদের প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে এই জালিয়াতির প্রকৌশল। নৈরাজ্য, অরাজকতা, খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, মহামারী, মন্বন্তর এবং মহাপ্রলয়কে এরা এদের ধর্ম প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত সন্ধিক্ষণ বলে মনে করে। তাই সুযোগ পেলেই, ক্ষমতা পেলেই ব্রাহ্মণ্যশক্তি ধর্মপরায়ণ হয়ে ওঠে। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম মানে অব্রাহ্মণের সর্বনাশ সাধন।
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি এই ব্রাহ্মন্যবাদীদের পুতবারি সিঞ্চিত এবং নরমেধ যজ্ঞের মনোনীত কান্ডারী। তার গোটা জীবনের প্রোফাইলটাই জালিয়াতী প্রামাণ্য দলিল। তার চা বিক্রেতা ভূমিকা থেকে গত নভেম্বরের ৮/১১/২০১৬ তারিখে নোটবন্দি সবই জালি কারবার।
মোদিজী একেবারে ধুমকেতুর মত ভারতের দূরদর্শনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি এক জরুরী ঘোষণা করে বলেন যে আজ মধ্য রাত্রের পরে ভারতের ৫০০টাকা এবং ১০০০টাকার নোট আর বাজারে চলবে না। সেগুলি এখন ছেড়া কাগজের টুকরা। এই ঘোষণাকে দূরদর্শনে লাইভ টেলিকাস্ট হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু গবেষক এবং সাংবাদিক সত্যেন্দ্র মুরালীর করা RTI (PMOIN / R / 2016/53416) এবং DOEAF / R / 2016/80904 and MOIAB / R / 2016/80180 থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে প্রধানমন্ত্রীর এই টেলিকাস্ট লাইভ ছিল না। ধরা পড়ে যাবার ভয়ে এখনো এই তথ্য জানানো হচ্ছেনা। ঘোরানো হচ্ছে এ দপ্তর থেকে সে দপ্তরে। প্রশ্ন উঠছে এর পরেও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নরেন্দ্র মোদির দেশের এক মহান দপ্তরে পদ আঁকড়ে থাকা উচিৎ কি না?
নোট বদলের আসল উদ্দেশ্য কি?
নোট বদলের পরের দিনই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আমি দাবী করেছিলাম যে এটি মোদির নেতৃত্বে “ভারতের খাজানা লুট” এর সব থেকে বড় কেলেঙ্কারি। সেই দাবীর সমর্থন মিলেছে ভূতপূর্ব রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী মনোমোহন সিংহের কাছ থেকে। মোদিজীর এই প্রক্রিয়াকে 'Organised Loot, Legalised Plunder' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন যে পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবেন কিন্তু তুলতে পারবেন না। এটা জোর করে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া।
আসল ঘটনাঃ
এই মহুর্তে দেশের ব্যাঙ্কে মোট অনাদায়ী লোন (Bad loan) এর পরিমান হলো ৬,০০,০০০ কোটি৷
কয়েক সপ্তাহ আগে Credit Rating Agency মোদী সরকারকে রিপোর্ট দেয় যে এই মহুর্তে ভারতীয় ব্যাঙ্ককে ১.২৫ লক্ষ কোটি Capital Infusion দরকার৷
জুলাই ২০১৬ তে ১৩টি ব্যাঙ্ককে ২৩,০০০ কোটি টাকা inject করা হয়৷
২০১৫ সালে অর্থমন্ত্রী অরুন জেঠলি বলেন যে আগামী ৪ বছরে (PSU) ব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে আরো ৭০,০০০ কোটি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র৷
এই পরিমাণে টাকা বাড়াতে পারলেই শিল্পপতিদের লোন মাফ করা যাবে এবং আবার তাদের নতুন লোন দেওয়া যাবে!
ব্যাঙ্ককে টাকা বাড়ানো এবং প্রিয় শিল্পপতিদের ঋণ মকুব ক্রবার জন্য মোদী ২০০০টাকার নোট বাজারে এনে ৫০০টাকা এবং ১০০০টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষণা করে দিলেন। ঘোষণা করলেন এই টাকা ব্যাঙ্কে রাখা যাবে কিন্তু যেমন খুশি টাকা তোলা যাবে না। সংসার চালানোর জন্য সামান্য টাকা তুলতে পারবেন।
মোদী সরকার, মোদিপন্থী এবং তাদের পোষা মিডিয়াগুলি ঢাক পেটাতে শুরু করলেন যে এটি কালো টাকা উদ্ধার, জাল টাকা বন্ধ করা এবং সন্ত্রাসবাদীদের আটকানোর জন্য সঠিক পদক্ষেপ যা ৭০ বছর ধরে কোন সরকার করে নি। এই প্রক্রিয়ায় মোদিজী ভারতকে একেবারে ডিজিটাল দুনিয়ার সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে টক্কর দেবেন।
RBI এর তথ্যানুযায়ী ১৪লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮% নোট ১০০০টাকার, আর ৪৯% নোট ৫০০ টাকার৷
'Bussiness World' এর তথ্যানুযায়ী দেশে 'Fake note' 0.002% of Rs 1,000 notes, and 0.009% of Rs 500 notes.
কাদের দিয়ে খাজানা লুট করলেন মোদি ?
১) ভারতের সেরা ১০০ জন Wilful ডিফল্টার দের মধ্যে State bank of India ৬৩ জনের ৭,০১৬ কোটি টাকা যার মধ্যে Kingfisher এর বিজয় মালিয়ার ১,২০১ কোটি টাকা মুকুব (Write off) করলো সরকার৷
২) রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক অনিল আম্বানি মোদীর এবং বিজেপির খুব স্নেহভাজন৷তিনি দেশের সবচেয়ে বড়ো ডিফল্টার৷
টাকার পরিমান মার্চ ২০১৫ তে ১.২৫ লক্ষ কোটি৷
৩)বেদান্ত গ্রুপের মালিক অনিল আগরওয়াল৷ ধাতু ও খনির ব্যাবসায়ী দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিফল্টার যার পরিমান ১.০৩ লক্ষ্য কোটি৷
৪) ইএসএসআর গ্রুপের মালিক রুইয়া ব্রাদার্স (শশী রুইয়া ও রবি রুইয়া) ডিফল্টার, ঋনের পরিমান ১.০১ লক্ষ কোটি৷
৫) আদানী গ্রুপের মালিক গৌতম আদানি, মোদীর খাস লোক৷ডিফল্টার ৯৬,০৩১ কোটি টাকা৷
৬)জয়াপি গ্রুপের মালিক মনোজ গৌড় ৭৫,১৬৩ কোটি টাকার ডিফ্লটার।
৭) #JSW Group: মালিক সজ্জন জিন্ডাল৷ডিফল্টার রাশি ৫৮,১৭১ কোটি
৮) #GMR Group: মালিক প্রোমোটার GM Rao. যিনি দিল্লী T3 International Airprt Terminal বানালেন৷ ডিফল্টার রাশি ৪৬,৯৭৬ কোটি টাকা৷
৯) #Lanco Group: যার মালিক মধূসুদন রাও৷ডিফল্টার রাশির পরিমান ৪৭,১০২কোটি টাকা৷
১০) #Videocon Group: মালিক বেণুগোপাল৷ডিফল্টার রাশি ৪৫,৪০৫ কোটি টাকা৷
১১) #GVK Group: মালিক GVK Reddy৷ডিফল্টার ৩৩,৯৩৩ কোটি টাকা৷
১২) #Usha Ispat: ডিফল্টার ১৬,৯৭১ কোটি টাকা৷কোম্পানিটির বর্তমানে কোনো হদিস নেই৷একটি সংবাদ সংস্থা তদন্ত করতে গিয়ে দেখে যে কোম্পানীটি বন্ধ এবং রহস্যময় ভাবে কোম্পানীর মালিকের অস্তিত্বই নেই৷
১৩) #Lloyeds Steel: ডিফল্টার ৯,৪৭৮ কোটি টাকা৷কোম্পানীটি বর্তমানে অন্য একটি কোম্পানী অধিকৃত৷
১৪) #Hindustan Cables Ltd.:ডিফল্টার ৪,৯১৭ কোটি টাকা৷বর্তমানে ব্যাবসা গুটিয়ে নিয়েছে৷
১৫) #Hindustan Petroliam Mfg.Co.: ডিফল্টার ৩,৯২৮ কোটি টাকা৷বর্তমানে কোম্পানীটি বন্ধ৷
১৬) #Zoom Developer: ডিফল্টার ৩,৮৪৩ কোটি টাকা৷কোম্পানীটির অস্তিত্ব মেলেনি৷
১৭) #Prakash Industry: ডিফল্টার ৩,৬৬৫ কোটি টাকা৷কোম্পানী চালু অাছে৷
১৮) #Crane Software International: ডিফল্টার ৩,৫৮০ কোটি টাকা৷কোং চালু অাছে৷
১৯) #Prag Bosimi International: ডিফল্টার ৩,৫৫৮ কোটি টাকা৷কোং চালু অাছে৷
২০) #Kingfisher Airlines: ডিফল্টার ৩,২৫৯ কোটি টাকা৷এখানে বলে রাখা প্রয়োজন এটা PNB অর্থাৎ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া৷অার অাগে যেটা মাফ হয়েছে বললাম সেটা শুধু মাত্র SBI অর্থাৎ state bank of india র ৬৩ জনের তারমধ্যে Kingfisher এর বিজয় মালিয়া একজন৷kingfisher aviation ekhon বন্ধ৷
২১) #Malvika Steel: ডিফল্টার ৩,০৫৭ কোটি টাকা৷কোম্পানীটি বন্ধ৷
(তথ্য সংগৃহীত)
ইতি মধ্যে মাননীয় রঘুরাম রাজন হিসেব করে দেখিয়েছেন যে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার রাজস্য, ১.৫ লক্ষ কোটি জিডিপি এবং ৩০ কোটি শ্রমদিবস নষ্ট হয়েছে। আরো ৫০ দিন এই ভাবে চললে যে পরিমাণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে তা কালো টাকার কয়েক গুন বেশি।
প্রখ্যাত নোবেল জয়ী এবং অর্থনীতিবিদ মাননীয় অমর্ত্য সেন এই প্রক্রিয়াকে স্বৈরতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কোন অর্থনৈতিকই বিশেষজ্ঞ মোদির এই নোট কাণ্ডকে কালোটাকা ফিরিয়ে আনা বা নোটের জাল কারবার রোখার জন্য সঠিক পদক্ষেপ বলে স্বীকার করেন নি। বরং মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এই অর্থনৈতিক অবরোধ দেশের চরম ক্ষতি এবং নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আমরা দাবী করছি মোদি আসলে ব্রাহ্মন্যবাদী নৈরাজ্যের বাহক। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম অনুসারেই মোদির এই জালিয়াতি দেশে মহামারী এবং মন্বন্তর ডেকে আনবে। এখনি সতর্ক হওয়া দরকার।
Monday, 10 October 2016
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হেঃ
শরদিন্দু উদ্দীপন
প্রকৃতি লালিত করে
আমাদের রক্ত বীজ
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
আমাদেরই চেতনায় রূপময়
এ দেশের জল-জংল-জমিন
আকাশ, বাতাস।
দিকুর ঝলসে ওঠা খড়্গ কৃপাণ,
ঘোড়ার পায়ের শব্দ
বিষকন্যা, দেবীর প্রতারণা
পিঞ্জর ফুঁড়ে দেওয়া ত্রিশূল
মস্তক ছেদন করা সুদর্শন
আমাদের ছিন্ন ভিন্ন করলেও
এ মাটির জঠরে জঠরে আমরা অসুর।
শহর জুড়ে ওদের জৌলুস
চোখ ধাঁধানো উল্লাস
ঢাকের গগনভেদী বীভৎস নিনাদ
ভগ-লিঙ্গ কারণের ব্যপক আয়োজন
বলির খড়্গ, হাড়িকাঠ।

এদিকে, একান্তে আমরা সবাই কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
তুংদা, টমাক, চিড়চিড়ি
আর আমাদের দাসাই।
আমদের অসুর গাঁথা
আমাদের সোহরাই।
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
আমরা সবাই।
শব্দ পরিচিতিঃ ১। ভুঁইপোতা- ভূমিপুত্র ২। দিকু - শত্রু ৩। কারণ- মদ ৪। তুংদা- মাদল ৫। টমাক- ধমসা (এক প্রকারের বাদ্যযন্ত্র) ৬। চিড়চিড়ি- নাকড়া ( বাদ্য যন্ত্র) ৭। দাসাই- অসুর স্মরণ উৎসব ৮। সোহরাই- শারদ কালীন প্রাচীন উৎসব (আমদের প্রাচীন লোকগাঁথা পরিবেশন করা হয়)
প্রকৃতি লালিত করে আমাদের রক্ত বীজ
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
আমাদেরই চেতনায় রূপময়
এ দেশের জল-জংল-জমিন
আকাশ, বাতাস।
দিকুর ঝলসে ওঠা খড়্গ কৃপাণ,
ঘোড়ার পায়ের শব্দ
বিষকন্যা, দেবীর প্রতারণা
পিঞ্জর ফুঁড়ে দেওয়া ত্রিশূল
মস্তক ছেদন করা সুদর্শন
আমাদের ছিন্ন ভিন্ন করলেও
এ মাটির জঠরে জঠরে আমরা অসুর।
শহর জুড়ে ওদের জৌলুস
চোখ ধাঁধানো উল্লাস
ঢাকের গগনভেদী বীভৎস নিনাদ
ভগ-লিঙ্গ কারণের ব্যপক আয়োজন
বলির খড়্গ, হাড়িকাঠ।
এদিকে, একান্তে আমরা সবাই কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
তুংদা, টমাক, চিড়চিড়ি
আর আমাদের দাসাই।
আমদের অসুর গাঁথা
আমাদের সোহরাই।
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
আমরা সবাই।
শব্দ পরিচিতিঃ ১। ভুঁইপোতা- ভূমিপুত্র ২। দিকু - শত্রু ৩। কারণ- মদ ৪। তুংদা- মাদল ৫। টমাক- ধমসা (এক প্রকারের বাদ্যযন্ত্র) ৬। চিড়চিড়ি- নাকড়া ( বাদ্য যন্ত্র) ৭। দাসাই- অসুর স্মরণ উৎসব ৮। সোহরাই- শারদ কালীন প্রাচীন উৎসব (আমদের প্রাচীন লোকগাঁথা পরিবেশন করা হয়)
শুভ ধম্মবিজয়ঃ
শুভ ধম্মবিজয়ঃ

মহাবংশম, কুলবংশম এবং দ্বীপবংশম অনুসারে দেখা যায় যে বোঙ্গা দিশমের সন্তান বিজয় সিংহ মাদুরাই এর রাজা পাণ্ডুর কন্যাকে বিবাহ করে রাজ্য অভিষেকের সময় শাদীয় উৎসবের দিনে “ধম্মবিজয়” পালন করেন। মাদুরাইয়ের রাজা পাণ্ডু বিজয়ের ৭০০ অনুগামীর জন্যও ৭০০টি কন্যা দান করেন। এই সময়টি গোতমা বুদ্ধের জন্মপূর্ব কাল। এই ধম্মবিজয়ের দিনে রাজা বিজয় সিংহ সহ তার ৭০০ অনুগামী বুদ্ধধম্ম দিশা গ্রহণ করেন।
শারদ উৎসব যে অতিপ্রাচীন একটি লোক
কল্যাণকারী উৎসব তারও প্রমান পাওয়া যায় প্রাচীন তামিল সাহিত্যে ও ওনাম
উৎসবের ইতিহাসে।
Friday, 9 September 2016
দলিত-বহুজন স্বাধিকার আন্দোলন ঃ পথ নির্দেশিকা
আমাদের নিবেদন
পত্র ও নির্দেশিকা
কান্ধামালের দানা মাঝির শবযাত্রা থেকে আমাদের অনুভূত হয়েছে
যে ভারতবর্ষে এখনো জাতপাতের ভেদনীতি সমান ভাবে কার্যকরী। যদিও গর্বের সাথে
স্বাধীনতার ৬৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওড়ানো
হয়েছে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকা। আমরা সচেতন ভাবেই অনুভব করেছি যে একটি মনুবাদী
সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই এই বিভেদজনিত ঘৃণা, বঞ্চনা হিংসা এবং প্রতিহিংসার বহর উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। স্বঘোষিত স্বয়ংশাসকদের হাতে নিহত হয়েছেন গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকর এবং এম এম কুলবর্গিদের মত মানুষ।
Tuesday, 19 July 2016
আলোর বৃত্তে
আলোর বৃত্তে
শরদিন্দু উদ্দীপন
10.07.2016
শ্রাবণের ঘনঘোর হামা দেওয়া রাত
ঝগড়ুটে ঝঞ্ঝার ক্রমাগত হানা
জানলার ফাঁক দিয়ে বেয়াড়া বাতাস
শিস দিয়ে বলে যায় সামাল সামাল।
সামাল সামাল হো সামাল সামাল
দামাল মেঘের পাল ঘিরেছে আকাশ
ভাঙনের কুলে কুলে ঝপাং ঝপাং
হুড়মুড় ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের বাঁধ
জোড়াতালি দেওয়া ঘরে অসহায় একা
কিলবিল সরীসৃপ ঘোরে চারিধার।
যেটুকু সলতে ছিল পুড়ে পুড়ে শেষ
হাত দিয়ে আগলে রাখি নিভু নিভু বাতি
ঝাপসা চোখ ভিজে যায় শ্রাবনের জলে
প্রতিক্ষায় তবু এক রাত জাগা পাখি।
একটু ভোরের আলো একটি প্রত্যূষ
একটি শিশুর মুখ উষ্ণ ভালবাসা
একমুঠো রোদ্দুর সেওতো অনেক
আলোর বৃত্তে তবু ঘুরে ফিরে আসা।
যেতে হবে
শরদিন্দু উদ্দীপন
যেতে হবে আরো কিছু দূরে
আরো কিছু অগম প্রান্তর
আনাবিষ্কৃত মেরুচূড়া
পেঙ্গুইন ঈপ্সিত
অনন্ত আরো কিছু অসম নুড়ির সন্ধানে
যেতে হবে।
পথ পড়ে আছে বিস্তর
দুস্তর দুরন্ত উৎরাই
আঁতেলের অপকীর্তি
প্রত্যয় কুয়াশানিলীন
পড়ে আছে এই পথে
কালান্তক সাপেদের বিষাক্ত খোলস।
বহুতর পৃথিবীর ঊর্ধ্বতন ভাঁড়
ভাগাড়ে ভাঁড়ার ভরে গেছে
শ্রান্তি কেন ?
শ্রাবস্তী এখনো সুদূর
বুকে বাঁধ সাহস কাঁচুলি
তারপর হেঁটে চলো
কেমন সহজে হাঁটা যায়।
এখনো যক্ষের গাছে অনিকেত ফুল
ফাগুয়ার পরাগ বাহার
প্রজাপতি ঝিলমিল সরল বৈকালী
এখনো অলক্ষ্যে আছে
জোনাকির গাঢ় তমোবোধ।
যেতে হবে
আরো কিছু দূরে...
আরো কিছু অগম প্রান্তর
নীল নীল শৈবাল
অতলান্তিক সফেন সৈকত
ঈপ্সিত নুড়ির খোঁজ
পেঙ্গুইন পেয়ে যাবে
চলো যেতে যেতে
দুস্তর দুরন্ত উৎরাই
আঁতেলের অপকীর্তি
প্রত্যয় কুয়াশানিলীন
পড়ে আছে এই পথে
কালান্তক সাপেদের বিষাক্ত খোলস।
বহুতর পৃথিবীর ঊর্ধ্বতন ভাঁড়
ভাগাড়ে ভাঁড়ার ভরে গেছে
শ্রান্তি কেন ?
শ্রাবস্তী এখনো সুদূর
বুকে বাঁধ সাহস কাঁচুলি
তারপর হেঁটে চলো
কেমন সহজে হাঁটা যায়।
এখনো যক্ষের গাছে অনিকেত ফুল
ফাগুয়ার পরাগ বাহার
প্রজাপতি ঝিলমিল সরল বৈকালী
এখনো অলক্ষ্যে আছে
জোনাকির গাঢ় তমোবোধ।
যেতে হবে
আরো কিছু দূরে...
আরো কিছু অগম প্রান্তর
নীল নীল শৈবাল
অতলান্তিক সফেন সৈকত
ঈপ্সিত নুড়ির খোঁজ
পেঙ্গুইন পেয়ে যাবে
চলো যেতে যেতে
Wednesday, 13 July 2016
রবীন্দ্রনাথের “নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ” গোতমা বুদ্ধের ‘আত্তদীপ ভব” উপলব্ধির গভীরতম অনুরণনঃ
“Attā hi attanō nāthō
kō hi nāthō parō siyā
attanā hi sudanténa
nātham labhati dullabham” (Dhammapada verse 160)
আত্ত মগ্নতায় নিজের অস্তিত্বের খোঁজে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক অনন্য পরিব্রাজক ভাবুক কবি। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের মার্গে বিচরণ এবং আত্তোপলব্ধির সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠায় উত্তীর্ণ হয়ে নিব্বানা লাভের মাধ্যমে সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত জীবন এবং বিশ্বমানবতার বিজয় কেতন ওড়ানোই ছিল তার অভিলাষ। “আত্তোদীপ ভব” মহামতি গোতমা বুদ্ধের এই প্রগাঢ় সনাতন বাণী তাঁর জীবন প্রকোষ্ঠের কন্দরে কন্দরে ছড়িয়ে দিয়েছিল এক শুচি শুভ্র চেতনার আলো। বুদ্ধের দয়া, প্রেম, করুণা এবং আত্তমগ্নতা তার জীবনকে এমন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার প্রকাশ পাই “নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ” কবিতায়। কবিতাটি তার ২২ বছর বয়সের একটি অনন্য রচনা যা “কড়ি ও কোমল” কাব্যে প্রকাশিত হয়েছিল।
kō hi nāthō parō siyā
attanā hi sudanténa
nātham labhati dullabham” (Dhammapada verse 160)
আত্ত মগ্নতায় নিজের অস্তিত্বের খোঁজে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক অনন্য পরিব্রাজক ভাবুক কবি। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের মার্গে বিচরণ এবং আত্তোপলব্ধির সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠায় উত্তীর্ণ হয়ে নিব্বানা লাভের মাধ্যমে সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত জীবন এবং বিশ্বমানবতার বিজয় কেতন ওড়ানোই ছিল তার অভিলাষ। “আত্তোদীপ ভব” মহামতি গোতমা বুদ্ধের এই প্রগাঢ় সনাতন বাণী তাঁর জীবন প্রকোষ্ঠের কন্দরে কন্দরে ছড়িয়ে দিয়েছিল এক শুচি শুভ্র চেতনার আলো। বুদ্ধের দয়া, প্রেম, করুণা এবং আত্তমগ্নতা তার জীবনকে এমন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার প্রকাশ পাই “নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ” কবিতায়। কবিতাটি তার ২২ বছর বয়সের একটি অনন্য রচনা যা “কড়ি ও কোমল” কাব্যে প্রকাশিত হয়েছিল।
Tuesday, 12 July 2016
কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ...
সাম্প্রতি
আমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বাৎসরিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মধ্যে
মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। জুন মাসের শেষে
দেশ বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলি যে প্রতিবেদন পেশ করেছে তা
বাংলাদেশের পক্ষে লজ্জাজনক। এই সংগঠনগুলি জানিয়েছে যে মে মাসেই
সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭৪জন মানুষ। রাজনৈতিক কারণে আহত ১৩৩২ জন।
হত্যা করা হয়েছে ১৪জন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০ জন নারী ও শিশু ।
এদের মধ্যে শিশু ২১ জন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০১৬ব সালের প্রথম তিন
মাসে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ২০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪ জনকে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে টাঙ্গাইলের নিখিল জোয়ারদার নামে এক ধর্মীয়
সংখ্যালঘুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বান্দারবনে হত্যা করা হয়েছে অহিংসের
পূজারী এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে। ১লা জুনে প্রকাশিত এইবেলা ফাউন্ডেশন নামে
একটি মানবাধিকার সংগঠন তার প্রতিবেদনে জানাচ্ছে যে, মে মাসে সংখ্যালঘুদের
উপর কম করে ৮৩টি জানঘাতী আক্রমণ করা হয়েছে জতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম করে
৫১০টি পরিবার। অসংখ্য সংখ্যালঘু গ্রাম অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হচ্ছে।
জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলছে। ভিটে ছাড়া করা
হয়েছে অসংখ্য পরিবারকে। সম্পত্তি দখল এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য
সংখ্যালঘু নারী ও শিশু।
যে ভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু, মুক্তমনা লেখক,
সাহিত্যিক, নারী, শিশু ও সমকামীদের উপর একের পর এক জীবনঘাতী আক্রমণ সংঘটিত
হয়ে চলেছে তা এক কথায় অমানবিক। পরিকল্পিত জাতিসংঘের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ
দেখিয়ে ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের উপর যে নির্মম রাষ্ট্রীয়
সন্ত্রাস চলছে তা একবগগা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও নিকেশ নীতির ইঙ্গিত বহন করে।
এই দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এটাই প্রমানিত হয় যে সরকার রাজনৈতিক
কারণেই চাপাতি সংস্কৃতিকে পোষণ করে চলেছে এবং ইচ্ছে করেই ঘাতক এবং তাদের
উন্মাদ ধর্মীয় গুরুদের নরহত্যার ময়দানে ছেড়ে দিয়ে রেখেছে। এই নরপিশাচদের
প্রতি সরকারের নিস্ক্রিয়তা থেকে প্রমানিত হয় যে বাংলাদেশ বিশ্বমানবিকতার
বোধ একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে
সন্ত্রাসী হামলার পরে বাংলাদেশের মাথায় সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর হিসেবে আর
একটি পালক উঠে এসেছে। ডি কে হোয়াং নামের কোরিয়ান ভদ্রলোকের গোপন ক্যামেরা
এবং আইসিস প্রকাশিত সন্ত্রাসীদের তালিকা থেকে একেবারে পরিষ্কার হয়েগেছে যে,
বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সন্তান সন্ততিরাও চাপাতি
সংস্কৃতি থেকে কাফের নিধনের জান্নাত সংস্কৃতিতে উঠে এসেছে। এই নিতিহীন, নির্মম বাতাবরণে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে আর একদল জল্লাদ। ইতিমধ্যে তারাও ত্রিশূল-তলোয়ারে ধার দিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। নির্লজ্জ ভাবে হুঙ্কার দিচ্ছে যে ওপারে হিন্দুদের গায়ে নখের আঁচড় পড়লে এপারের সমস্ত মসজিদ মাদ্রাসা থেকে ইমাম শুন্য হয়ে যাবে। অর্থাৎ আমদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে এই জল্লাদেরা আসলে একে অন্যের পরিপূরক। একজনের রাজনৈতিক পুষ্টি বাড়াতে আর একজন সম্পূর্ণভাবে ইন্ধন যোগায়। নিরীহ জনগণকে ধর্মীয় আবেগে আবিষ্ট করে ভ্রাতৃঘাতি দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করে। হাতে তুলে দেয় চাপাতি, খড়গ, ত্রিশূল-তলোয়ার। নিরীহ মানুষের লাশের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় এদের ক্ষমতার মন্দির-মসজিদ।
আদিম হিংস্রতার এই নিষ্ঠুর প্রবণতা দেখে নিজেদের সভ্য বলতে সত্যি আমাদের ঘৃণা হয়। রাষ্ট্র পরিচালকদের এই নির্লজ্জ আহম্মকি দেখে মনে হয়, জান্তব জীবন ছেড়ে আমারা এক পা ও এগোতে পারিনি। পৃথিবীর সত্যি বড় দুর্দিন আজ। নেতৃত্বের বড় অভাব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছদ ছেড়ে এখনো বেরোতে পারছি না। জড়ত্ব ঝেড়ে ফেলে এখনো উদাত্ত কন্ঠে বলতে পারছিনা, “কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র”।
Wednesday, 29 June 2016
হুল শেঙ্গেল
পাহাড়
কেন ডাকে?
জ্যৈষ্ঠের
কাঠ ফাটা রোদের পর আষাঢ়ের এক পশলা বৃষ্টি পেয়েই পাহাড়টা ডাকে! গম্ভীর এই ডাক! ঝিম মারা গাছগুলি
চমকে ওঠে। একটা দমকা হাওয়ার মত খবরটা ছড়িয়ে
যায় কুলি কুলি ডুংরিতে ডুংরিতে!
শালগিরা……শালগিরা।
সিধু
মাঝি, কানু মাঝি শালগিরা পাঠিয়েছে।
পাতা
সমেত ছোট শালের এই ডাল পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে।
তাই
বুঝি পাহাড়টা আজ ডাকছে।
নিদারুন
যন্ত্রণায়, আহত অভিমান নিয়ে আত্তসম্মান ফিরে পাবার জন্য অনবরত ডেকে চলেছে পাহাড়টা।
এই ডাক অবসম্ভাবী এক ঝড়ের বার্তা বহন করে টাইড়, বাইদ, বোহাল, কানালী পেরিয়ে ডুংরিতে ডুংরিতে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।
এই ডাক অবসম্ভাবী এক ঝড়ের বার্তা বহন করে টাইড়, বাইদ, বোহাল, কানালী পেরিয়ে ডুংরিতে ডুংরিতে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।
পাহাড় ডাকছে......
আর বাঁশী ফুঁকা মানুষগুলি, জোষ্ঠা রাতের তুংদা, টমাক বাজানো মানুষগুলি, ছেঁড়া টেনা পরা মানুষগুলি পাথর ভাঙ্গা গতর নিয়ে শার্দূলের মতো ক্ষিপ্রতায় কাঁড়বাঁশ, টাঙ্গি, তরোয়াল, বল্লম নিয়ে হাজির হচ্ছে ভগনা ডিহি গ্রামে। তাঁরা ধরে রাখতে চায় তাঁদের মাটি। তাঁরা ফিরে পেতে চায় জল-জঙ্গলের অবাধ অধিকার। তাঁরা প্রাণ দিয়ে আগলে রাখতে চায় তাঁদের লাই লাকচার, আড়িচালি।
আর বাঁশী ফুঁকা মানুষগুলি, জোষ্ঠা রাতের তুংদা, টমাক বাজানো মানুষগুলি, ছেঁড়া টেনা পরা মানুষগুলি পাথর ভাঙ্গা গতর নিয়ে শার্দূলের মতো ক্ষিপ্রতায় কাঁড়বাঁশ, টাঙ্গি, তরোয়াল, বল্লম নিয়ে হাজির হচ্ছে ভগনা ডিহি গ্রামে। তাঁরা ধরে রাখতে চায় তাঁদের মাটি। তাঁরা ফিরে পেতে চায় জল-জঙ্গলের অবাধ অধিকার। তাঁরা প্রাণ দিয়ে আগলে রাখতে চায় তাঁদের লাই লাকচার, আড়িচালি।
ভগনা ডিহির সভায় পাহাড় ডাকা ক্ষোভ
নিয়ে সিধু, কানু, চাঁদ, বৈরভ গর্জে উঠে বলেন, সুদখোর
মহাজন
এবং
গোরা
পল্টন আমাদের সব কিছু কেড়ে নিতে চায়।
সাঁওতালদের সুখসাচ্ছন্দ দেখতে চায় না দিকু জমিদার। তাঁরা জোর করে আদিবাসীদের কাছে
থেকে খাজনা আদায় করতে চাইছে। অন্যায় ভাবে আমাদের চুরির দায়ে অপরাধী করছে।
প্রকাশ্যে অপমান করছে এবং জোর জবরদস্তি গরু, ছাগল, ভেড়া, মোষ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
জমিদারের সঙ্গে জুটেছে পুলিশ, পাইক, পেয়াদা, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট। এরা সবাই মিলে
আদিবাসীদের শেষ করে দিতে চায়। এটা চরম অন্যায়। আমরা
স্ত্রী-পুত্রের
জন্য, জমি-জায়গা
বাস্তু-ভিটার
জন্য, গো-মহিষ
লাঙ্গল ধন-সম্পত্তির
জন্য “হুল সেঙ্গেল” করতে চাই। আমরা আমাদের
মান সম্মান এবং হৃতগৌরব ফিরে পেতে চাই।
Tuesday, 28 June 2016
ব্রাহ্মণবাদীদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য আম্বেদকরঃ
গত ২৬শে জুন রাতের অন্ধকারে বুলডোজার লাগিয়ে সম্পূর্ণ চুরমার
করে দেওয়া হয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকরের স্মৃতি বিজড়িত দাদারের বাড়িটি। যে বাড়ির
প্রেস থেকে প্রকাশিত হত “মূকনায়ক” এবং “বহিষ্কৃত ভারত” নামে ঐতিহাসিক দুটি
পত্রিকা। যে বাড়ি থেকে বাবা সাহেবে তাঁর সমস্ত আন্দোলন পরিচালনা করতেন। যে বাড়িতে
গড়ে উঠেছিল দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সমন্বয়ে একটি বিরল লাইব্রেরী, সাংঠনিক দুর্বলতাকে
কাজে লাগিয়ে সেই বাড়িটিকেই চুরমার করে দিল মহারাষ্ট্রের বিজেপি শাসিত সরকার এবং তাদের
বশংবদেরা।
এই বাড়ি
রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাবা সাহেব “পাবলিক ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাষ্ট” গঠন করে তাদের
হাতেই সমস্ত সম্পত্তি তুলে দেন। সাম্প্রতি এই ট্রাষ্টের পরিচালন সমিতিতে ঢুকে পড়ে
আরএসএস এবং শিবসেনার কট্টর সমর্থকেরা। মধুকর কাম্বলে এবং রত্নাকর গাইকোয়াড় এই দলের
পাণ্ডা। শোনা যাচ্ছে রামদাস আতাউলেও আছে এই আত্তহননের মূলে। এরাই তস্করদের ডেকে
এনে নিজ গৃহের সুলুক সন্ধান দিয়েছে। সংস্কারের নামে বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেছে এবং পুনরায়
নির্মাণের নামে বাড়িটিকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেবার ষড়যন্ত্র করেছে। দলিত-বহুজন
স্বাধিকার আন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এই কাপুরুষ ষড়যন্ত্রকারীদের চরম
ধিক্কার জানাচ্ছি।
এই বাড়িটি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে এসে গেছে নরেন্দ্র মোদির দ্বিচারিতা।
তাঁর বাবাসাহেব বন্দনা যে আসলে একটি সজানো নাটক তা ধরা পড়ে গেছে। মোদি যে ব্রাহ্মন্যবাদীদের
“জাতি সাফাই”(ethnic
cleansing) অভিযানের জন্য ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।
ব্রাহ্মন্যবাদ ইতিহাস ভয় পায়। ঐতিহাসিক বস্তুতে তাদের গাত্রদাহ
হয়, নৃতাত্ত্বিক বস্তুতে তাদের শিরঃপীড়া হয়, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় তাদের
জীনগত উত্তেজনা বাড়ে তাই এই বাড়িটি ছিল তাদের গাত্রদাহ, শিরঃপীড়া ও জেনেটিক
অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। কেননা এই বাড়িতেই ছিল একটি বিরলতম লাইব্রেরী, বাবাসাহেবের
অপ্রকাশিত ম্যানুস্ক্রিপ্ট, পুরানো অসংখ্য দলিল দস্তাবেজ। এই বাড়িতেই ছিল বাবাসাহেবের
আন্দোলনের অসংখ্য ইতিহাস। আম্বেদকর দর্শনের মূলকেন্দ্র হিসেবে এই বাড়ির সঞ্চিত রসদ
যে সকল প্রগতিশীল মেধাকে উদ্দীপনা যোগাচ্ছিল তা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কাছে ছিল
অত্যন্ত অস্বস্তিকর শিরঃপীড়ার কারণ।
এছাড়া যে ভাবে আইটিআই, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের
ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে আম্বেদকরবাদী সংগঠন বিপুল সাড়া জাগিয়ে ব্রাহ্মন্যবাদকে
প্রতিহত করার জন্য নীল ঝান্ডা নিয়ে “ জয় জয় জয় জয় জয় ভীম” শ্লোগানে আকাশ বাতাস
মুখরিত করে তুলছে তাতে এক অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছে ব্রাহ্মন্যবাদী মোড়লরা।
এই মোড়লরা পর্যুদস্ত বামপন্থীদের দেখে স্বস্তির নিশ্বাস
ফেলেছিল। মার্ক্সবাদকে একটি পরিত্যক্ত বিদেশী মতবাদ বলে ছুড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে
পরিতৃপ্ত হয়েছিল, মার্ক্সবাদীদের অস্তিত্বহীনতা ও অকার্যকারিতা দেখে উল্লসিত
হয়েছিল, তাদের মতবাদ ভারতরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের সামিল বলে উচ্চকিত হয়ে
কানাইয়া কুমার, অনির্বাণ, ওমর খলিদদের বিরুদ্ধে “সেডিশন” নামক সুদর্শনচক্রে শান
দিতে শুরু করেছিল, তখনই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আম্বেদকর এবং তাঁর হাতে তৈরি ভারতের
জাতীয় পতাকা। ব্রাহ্মনবাদীরা লক্ষ্য করেন যে অতিবাম ছাত্রছাত্রীরাও হাতে ত্রিবর্ণ
পতাকা নিয়ে, রোহিত পোষাকে সজ্জিত হয়ে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি উত্তোলন করে
সিংহনাদে উচ্চারণ করছে “জয় ভীম”। অনুরণিত হচ্ছে, “জাতপাত কি টক্কর মে, জয় ভীম
হামারা নারা হ্যায়, ব্রাহ্মনবাদ কি টক্কর মে, জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়, পুঁজিবাদ
কি টক্কর মে, জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়, ফ্যাসিবাদ কি টক্কর মে জয় ভীম হামারা নারা
হ্যায়”। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা হতচকিত হয়ে পড়েন এই Paradigm Shift এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে।
ব্রাহ্মণ্যবাদীদের ঘোষিত মহাপ্রলয়ের তাণ্ডব নর্তনকে প্রতিহত করার জন্য যে আম্বেদকরবাদী
মহাজনপ্লাবন প্রবল শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তার ঘূর্ণাবর্তে একেবারে ভোঁতা হয়ে
যাচ্ছে সুদর্শন ও সেডিশনের ধার তা তারা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে।
অন্যদিকে আম্বেদকরের ভাগীদারী দর্শন মেনে গুজারাটের প্যাটেলরাও
এসসি কোটায় রিজার্ভেশনের দাবীতে স্তব্ধ করে দিচ্ছে রাম রথের চাকা। ধীরে ধীরে ওবিসি
সমাজের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তুলছে আম্বেদকর। বিচ্ছিন্নতার ধোকাবাজী ছেড়ে নিজস্ব
সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তীব্র ভাবে এগিয়ে আসছে আদিবাসী রেজিমেন্ট। মুসলিমরাও আম্বেদকরের
মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন তাদের হারিয়ে যাওয়া দলিত স্বভিমান। সার্বিক ভাবে সর্বসমাজের এই
উত্থান ব্রাহ্মন্যবাদের কাছে ভয়ঙ্কর বিপদ বলে মনে হচ্ছে। তাই সরাসরি আম্বেদকরকেই
আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাহ্মন্যবাদ।
সাম্প্রতি রোহিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ মা রাধিকা এবং রোহিতের ছোট ভাই এক ভাব গম্ভীর পরিবেশের মধ্যে এই বাড়িতেই বুদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। শোষিত, নিষ্পেষিতের আশ্রয় হিসেবে এই বাড়িটির আরো একটি দিগন্ত উন্মোচিত হয় এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তাই অবিলম্বে এই বাড়িটি চূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাম্প্রতি রোহিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ মা রাধিকা এবং রোহিতের ছোট ভাই এক ভাব গম্ভীর পরিবেশের মধ্যে এই বাড়িতেই বুদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। শোষিত, নিষ্পেষিতের আশ্রয় হিসেবে এই বাড়িটির আরো একটি দিগন্ত উন্মোচিত হয় এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তাই অবিলম্বে এই বাড়িটি চূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দাদারের এই আম্বেদকর ভবন গুড়িয়ে দেওয়া একটি সংকেত।
এর
মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মন্যবাদীরা পরখ করে নিতে চাইছে দলিত-বহুজনের প্রতিক্রিয়া। পরখ করে
নিতে চাইছে সর্বসমাজের গুনগত অবস্থান। এই ধ্বংসের সংকেতের জবাবে আমরা নিরবতা পালন
করলে ওরা আবার সুদর্শনে শান দিতে শুরু করবে। চেপে বসবে শেষ নাগের পিঠে। শঙ্খে ফুঁ
দিয়ে শুরু করে দেবে প্রলয় নাচন।
আসুন ভারতের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য এই ভ্রষ্টাচারীদের
জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। সর্বসমাজ ভাইচারা প্রতিষ্ঠা করি।
জয় ভীম, জয় ভারত
দলিত-বহুজন স্বাধিকার আন্দোলন, জিন্দাবাদ।
Monday, 30 May 2016
Good Shepherd: Dalit thinker Kancha Ilaiah on name, caste : Sudipto Mondal, Hindustan Times, Hyderabad
- |
- Updated: May 27, 2016 13:55 IST
Kancha Ilaiah, one of India’s most prominent Dalit thinkers and
author of Why I am not a Hindu, has come under attack for allegedly
calling Brahmins “lazy” and “gluttons”.
(HT File Photo)
Ilaiah, who says he has changed his name to Kancha Ilaiah Shepherd, was repeatedly threatened and insulted – on the phone, social media, the streets and in TV studios – after he delivered a lecture at the Centre of Indian Trade Unions (CITU) conference in Vijayawada.
When Hindustan Times last met him on May 16, two television crews and a large, angry group from a state-level Brahmin association were camped outside his chamber at the Maulana Azad National Urdu University in Hyderabad.
They all wanted to know why he had called Brahmins ‘lazy and gluttonous’, with the ringing landline phone repeatedly interrupting the commotion of a dozen people shouting.
“Who is calling? Are you a terrorist? Can you at least tell me which terrorist organisation you belong to?” he asked an anonymous caller before turning to the men crowding his office; “No, I did not call brahmins lazy or gluttonous.”
But things only got worse.
The professor says he changed his name to highlight his caste’s productive capability – as a shepherd – and break away from the oppressiveness of caste-based hierarchies.
But that hasn’t dampened the attacks.
Prof Shepherd, as he now likes to be known, tells Hindustan Times he is facing the “most significant” attack on his scholarship.
The episode is eerily reminiscent of the campaign against Perumal Murugan, who swore off writing after right-wing controversy and intimidation over his book last year.
Q: What happened?
On May 14, I was invited to deliver a lecture at Vijayawada by the Centre for Indian Trade Unions (CITU). I spoke on the origins of labour and the history of production in India. There I said that the organised labour of the Adivasis and the Dravidians started in the Indus Valley civilisation. They transformed mud into bricks, wood into houses and furniture. They built intricate canals and drainage systems.
This advancement continued till the Aryan invasion and Vedic writing started. Slowly, as the Vedas grew in influence, labour became delegitimised. And in the realm of God, those who do labour work started getting called Chandalas, Shudras and anti-God.
This entire anti-labour theory was built by Brahmin writers later the priests who organised the Vedic religion. This continued till the 6th century BC until Buddha burst on the scene and propagated Sramana philosophy that encouraged hard labour as the duty of every human. The Sramana culture continued until the counter-revolution of the Shakracharya that destroyed Buddhism in large parts of India. Muslim and later Christian rulers interrupted this Vedic reign until independence. And since independence, the Brahmin hegemony has continued.
The critical point I made in my lecture is that historically Brahmins never participated in any production. But a newspaper twisted my point the next day and wrongly quoted me as saying ‘Brahmins are lazy and gluttonous’.
Read: Rohith Vemula, death of a philosopher to purify higher education
Q: Your house was ransacked in 2010. Right-wing groups have been targeting you for several years now. How is this different?
In the past, I was targeted only by lowered-caste members of organisations headed by Brahmins such as the RSS and the VHP. This is the first time that Brahmins have come out in the open to target me. They have been emboldened by the support they have received from both the Telangana and the Andhra governments.
After coming to power both K Chandrasekhar Rao and Chandrababu Naidu have allocated Rs. 100 crore each for the welfare of Brahmins. Headed by retired IAS officers from the Brahmin caste, welfare corporations have been started for the community.
They used an image of Parasurama, with a large axe on his shoulder, as their icon. By showing the axe, they are trying to threaten somebody. This is really scary for Dalit Bahujans and minorities because these groups are state-sponsored.
Q: What kind of threats have you received this time?
On May 16, I got a call from somebody saying they are representatives of IYR Krishna Rao, the former chief secretary of Andhra Pradesh (and the present chairman of the Andhra Brahmin Welfare Association). The same man had made a public statement the previous day that I should be punished for my statement at the CITU conference. His statement triggered hysteria, my effigies were burnt. Somebody put up my office number on Facebook and abusive calls started pouring in.
I asked them for statistics to show how Brahmins had contributed to production. How many of them are employed as cobblers, potters, construction workers, agricultural labourers, sanitation workers? How many of them are registered under the NGREGA programme? I argued that we live in a society where people who turn mud into food are called muddy people and considered inferior. How will the country progress like this? Not only did they turn the debate into a shouting match, they went out of my room and told the media that I had apologised for my statement. Why would I apologise for a statement i never made? From this, it is clear that they are trying to provoke people against me.
Q: But how did this lead to the change in your name?
I have explained this in my poem. By changing my name I am owning up to my ancestry. My caste, the shepherds, is called by different names in different parts of the country; Kurubas in Karnataka, in Telangana they are Kurumas. Whereas Brahmins have their names in a Sanskritic, pan-Indian forms such as Sharma and Shastri.
But we could not get a pan-Indian name in the Sanskritic tradition or in any language derived from it. Now, I have adopted English as the language to identify my ancestry. When I take on a name that symbolises my productive capacity, I am getting out of the caste system. I am taking pride in my productive contribution.
I am a shepherd and my job is to look after sheep. You know, the image of God as a shepherd is popular in many cultures. Why is this? It is because a shepherd treats every individual in his flock equally. I am a follower of that democratic and powerful Shepherd God. Because of the Vedic, anti-labour philosophy, our people have never been able to see the power of a good and inclusive God.
I call upon all SC/ST, OBC people to adopt their caste occupations as their surnames in English. Potter, Butcher, Tanner, Cobbler, Tiller, Gardner. So you have an all-India name which incidentally connects to the rest of the globalised world.
Q: Why do we need a new God?
Because the Constitution protects only our political democracy and has no influence over spiritual matters. Things will not change unless we campaign in a big way for spiritual democracy. Gautam Buddha did this. Jesus and Prophet Muhammad, who came later, did the same thing.
I have now realised, in my 64th year, that God is not regional or national. God is universal. God is now active in the world and is working toward creating oneness, including in language. Once upon a time, Greek and Latin were considered God’s language. In Israel, Hebrew was considered God’s language. In West Asia, it was Arabic and in South Asia it was Sanskrit. My feeling is now English has become God’s language. This language is reforming religions and taking God to the people.
Dalits, Adivasis and backward classes have to start learning English in a big way. They need to adopt universal identities such as Potter, Shepherd, Weaver and Sweeper. This way, they will be able to connect to international sub-populations that have been excluded.
Thursday, 12 May 2016
আপনি কি স্বর্গে যেতে চান ?
প্রস্তাবটি নিয়ে সুতো খুলছি এই কারণে যে
ধার্মিক লোকেদের কাছে স্বর্গ প্রাপ্তিই জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। এখানে
পৌঁছতে পারলেই আত্মার পরম শান্তি হয়। পুনঃ পুনঃ জন্ম নিতে হয় না। জঠর
যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় না। অসুখ, বিসুখ, জরা, ব্যাধি, মৃত্যুর হাত থেকে
চিরকালের জন্য মুক্তি ঘটে। এখানে অনন্ত যৌবন। উচ্ছল প্রেম। রূপের খোলা
বাজার। উর্বশী, অপ্সরাদের সাহচর্য। কিন্নর কিন্নরীদের নুপুর নিক্কন। সুরা,
মদিরার অঢেল ফোয়ারা। সমস্ত জৈবিক অনুভূতি দিয়ে জীবনকে চেটেপুটে আস্বাদন
করার এক অবিকল্প লীলা ক্ষেত্র এই স্বর্গ। যদি আপনি স্বর্গ অভিলাষী হন এবং
স্বর্গ প্রাপ্তিকেই একমাত্র অভীষ্ট মনে করেন তবে নানা উপায়ে আপনার জন্য
স্বর্গের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। আপনি শুধু জেনে নিন কোন দরজা দিয়ে আপনি
স্বর্গে যেতে চান?
স্বর্গে যাবার প্রথম রাস্তাঃ
পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি ধর্মই মানুষের জন্য স্বর্গ বাসের ব্যবস্থা করেছে। আমি শুধু ব্রাহ্মণ ধর্মের ব্যবস্থাগুলি আপনাদের সামনে উপস্থিত করছি। আপনি আপনার সাধ্য মত খাপ খাইয়ে নিন,ব্যবস্থা অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করুণ, নির্দেশ মত কাজ করুণ তবেই দেখবেন স্বর্গে যাবার ব্যবস্থা আপনার পাকা হয়ে গেছে। তবে একটি কথা প্রথমেই বলে রাখি যে স্বর্গে যাবার একেবারে প্রাথমিক শর্ত হল মৃত্যু। কঠিন হলেও এই শর্তটি আপনাকে পূরণ করতেই হবে। সশরীরে স্বর্গে যাবার রাস্তা আপনার জন্য খোলা নেই।
স্বর্গে যাবার দ্বিতীয় রাস্তাঃ
এই শ্রাদ্ধ ব্যপারটি আপনার মৃত্যুর পরে ঘটবে। আর একজন বামুন পুরুত এসে আপনার চোদ্দ পুরুষের আদ্যশ্রাদ্ধ করে আপনাকে স্বর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এই বামুন আপনার বাড়িতে ঢুকে আপনার ছেলে মেয়েদের দাস (গোলাম) হিসেবে সম্বোধন করবে। তিনি জানাবেন যে আপনি মরে গিয়ে এখন প্রেতলোকে নানা জ্বালাযন্ত্রণায় ছটফট করছেন। আপনার বিদেহ আত্মা মুক্তির জন্য হাহাকার করে বেড়াচ্ছে। ব্রাহ্মণকে নানা প্রকার দান ধ্যান করলেই আপনার আত্মার শান্তি হবে এবং আপনার জন্য স্বর্গের দ্বার খুলে যাবে।
স্বর্গে যাবার তৃতীয় রাস্তাঃ
আদ্যশ্রাদ্ধের পরে বামুনকে ভোজন না করালে আপনার আত্মার স্থায়ী স্বর্গবাস হবেনা। আপনার ছেলেমেয়েদের এ কাজটি করতেই হবে। আপনি যদি কিছু পয়সা কড়ি রেখে আসেন তো ভাল, নতুবা সোনাদানা অথবা জমিজমা বিক্রি করেও এই ভোজন করাতেই হবে। যদি তারা শাকান্ন ভোজন করায় তো আপনার ৩ মাস স্বর্গ বাস হবে। যদি মাছ খাওয়ায় তবে ৬ মাস, যদি মোষের মাংস খাওয়ায় তবে ১০ মাস, যদি পাখির মাংস খাওয়ায় তবে ১ বছর, যদি গরুর মাংস খাওয়ায় তবে ১২ বছর, যদি কালশিরা মৃগ, গণ্ডার, লাল ছাগলের মাংসের সাথে মধু মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ায় তবে অনন্ত কাল আপনার স্বর্গবাস হবে।
স্বর্গে যাবার চতুর্থ রাস্তাঃ
আজ্ঞ হ্যা এটিই বোধ হয় সব থেকে কঠিন এবং অন্তিম রাস্তা। একটি ভয়ঙ্কর বেগবান নদী বৈতরণী। পচারক্তমাংশে পরিপূর্ণ দুর্গন্ধযুক্ত ও ফুটন্ত জলের মধ্য দিয়ে একটি গরুর লেজ ধরে আপনাকে পার হতে হবে। আপনি যদি পূন্যবান হন পার হয়ে স্বর্গে যেতে পারবেন আর যদি পাপী হন তবে নির্ঘাত যমের দুয়ার নরক।
কি পাবেন স্বর্গে ?
দেখবেন চির বসন্তে প্রস্ফুটিত পারিজাত ফুলের নন্দনকানন, শ্বেত ঐরাবত, উচ্চৈঃশ্রবাঃ অশ্ব। আপনার কামনা বাসনা পূরণের জন্য অষ্টাদশী মেনকা , উর্বশী, রম্ভা। পান পাত্র নিয়ে হাজির হবে কিঙ্কর- কিঙ্করী। গন্ধর্ব, কিন্নর চিরযৌবনা, দীর্ঘ নয়না, লাস্যময়ী, লাবণ্যময়ী, তন্বী, পিনবক্ষা, গুরু নিতম্বা রমণীগণ আপনার মনোহরণ করে রাখবে সব সময়। আপনি যাকে খুশি তার সাথে সুখ সাগরে নিমজ্জিত হতে পারবেন। এখানে কোন বাঁধা নেই। কোন সম্পর্কের বেড়ি নেই। আপনার পিতা যদি পূন্যবান হন তবে তিনিও আপনার সামনে স্বর্গীয় রমণীদের সাথে শারীরিক বিভঙ্গে লিপ্ত হবেন। আপনার মা পুণ্যবতী হলে তিনিও স্বর্গে এসে পানপাত্র হাতে নিয়ে আপনার সাথে যৌবনের জ্বালা নিভানোর জন্য আপনাকেই বেছে নিতে পারে। অথবা আপনার সামনে একাধিক স্বর্গবাসীর সাথে যৌনকেলীতে মেতে উঠতে পারেন!
আপনি স্বর্গে যেতে চান?
স্বর্গে পাঠাতে চান আপনার মা, বাবা, ভাই-বোন, সন্তান সন্ততিদের?
স্বর্গে যাবার প্রথম রাস্তাঃ
পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি ধর্মই মানুষের জন্য স্বর্গ বাসের ব্যবস্থা করেছে। আমি শুধু ব্রাহ্মণ ধর্মের ব্যবস্থাগুলি আপনাদের সামনে উপস্থিত করছি। আপনি আপনার সাধ্য মত খাপ খাইয়ে নিন,ব্যবস্থা অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করুণ, নির্দেশ মত কাজ করুণ তবেই দেখবেন স্বর্গে যাবার ব্যবস্থা আপনার পাকা হয়ে গেছে। তবে একটি কথা প্রথমেই বলে রাখি যে স্বর্গে যাবার একেবারে প্রাথমিক শর্ত হল মৃত্যু। কঠিন হলেও এই শর্তটি আপনাকে পূরণ করতেই হবে। সশরীরে স্বর্গে যাবার রাস্তা আপনার জন্য খোলা নেই।
স্বর্গে যাবার দ্বিতীয় রাস্তাঃ
এই শ্রাদ্ধ ব্যপারটি আপনার মৃত্যুর পরে ঘটবে। আর একজন বামুন পুরুত এসে আপনার চোদ্দ পুরুষের আদ্যশ্রাদ্ধ করে আপনাকে স্বর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এই বামুন আপনার বাড়িতে ঢুকে আপনার ছেলে মেয়েদের দাস (গোলাম) হিসেবে সম্বোধন করবে। তিনি জানাবেন যে আপনি মরে গিয়ে এখন প্রেতলোকে নানা জ্বালাযন্ত্রণায় ছটফট করছেন। আপনার বিদেহ আত্মা মুক্তির জন্য হাহাকার করে বেড়াচ্ছে। ব্রাহ্মণকে নানা প্রকার দান ধ্যান করলেই আপনার আত্মার শান্তি হবে এবং আপনার জন্য স্বর্গের দ্বার খুলে যাবে।
স্বর্গে যাবার তৃতীয় রাস্তাঃ
আদ্যশ্রাদ্ধের পরে বামুনকে ভোজন না করালে আপনার আত্মার স্থায়ী স্বর্গবাস হবেনা। আপনার ছেলেমেয়েদের এ কাজটি করতেই হবে। আপনি যদি কিছু পয়সা কড়ি রেখে আসেন তো ভাল, নতুবা সোনাদানা অথবা জমিজমা বিক্রি করেও এই ভোজন করাতেই হবে। যদি তারা শাকান্ন ভোজন করায় তো আপনার ৩ মাস স্বর্গ বাস হবে। যদি মাছ খাওয়ায় তবে ৬ মাস, যদি মোষের মাংস খাওয়ায় তবে ১০ মাস, যদি পাখির মাংস খাওয়ায় তবে ১ বছর, যদি গরুর মাংস খাওয়ায় তবে ১২ বছর, যদি কালশিরা মৃগ, গণ্ডার, লাল ছাগলের মাংসের সাথে মধু মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ায় তবে অনন্ত কাল আপনার স্বর্গবাস হবে।
স্বর্গে যাবার চতুর্থ রাস্তাঃ
আজ্ঞ হ্যা এটিই বোধ হয় সব থেকে কঠিন এবং অন্তিম রাস্তা। একটি ভয়ঙ্কর বেগবান নদী বৈতরণী। পচারক্তমাংশে পরিপূর্ণ দুর্গন্ধযুক্ত ও ফুটন্ত জলের মধ্য দিয়ে একটি গরুর লেজ ধরে আপনাকে পার হতে হবে। আপনি যদি পূন্যবান হন পার হয়ে স্বর্গে যেতে পারবেন আর যদি পাপী হন তবে নির্ঘাত যমের দুয়ার নরক।
কি পাবেন স্বর্গে ?
দেখবেন চির বসন্তে প্রস্ফুটিত পারিজাত ফুলের নন্দনকানন, শ্বেত ঐরাবত, উচ্চৈঃশ্রবাঃ অশ্ব। আপনার কামনা বাসনা পূরণের জন্য অষ্টাদশী মেনকা , উর্বশী, রম্ভা। পান পাত্র নিয়ে হাজির হবে কিঙ্কর- কিঙ্করী। গন্ধর্ব, কিন্নর চিরযৌবনা, দীর্ঘ নয়না, লাস্যময়ী, লাবণ্যময়ী, তন্বী, পিনবক্ষা, গুরু নিতম্বা রমণীগণ আপনার মনোহরণ করে রাখবে সব সময়। আপনি যাকে খুশি তার সাথে সুখ সাগরে নিমজ্জিত হতে পারবেন। এখানে কোন বাঁধা নেই। কোন সম্পর্কের বেড়ি নেই। আপনার পিতা যদি পূন্যবান হন তবে তিনিও আপনার সামনে স্বর্গীয় রমণীদের সাথে শারীরিক বিভঙ্গে লিপ্ত হবেন। আপনার মা পুণ্যবতী হলে তিনিও স্বর্গে এসে পানপাত্র হাতে নিয়ে আপনার সাথে যৌবনের জ্বালা নিভানোর জন্য আপনাকেই বেছে নিতে পারে। অথবা আপনার সামনে একাধিক স্বর্গবাসীর সাথে যৌনকেলীতে মেতে উঠতে পারেন!
আপনি স্বর্গে যেতে চান?
স্বর্গে পাঠাতে চান আপনার মা, বাবা, ভাই-বোন, সন্তান সন্ততিদের?
Subscribe to:
Posts (Atom)









