Pages

Showing posts with label মতুয়া. Show all posts
Showing posts with label মতুয়া. Show all posts

Monday, 5 October 2015

বাজাও ডাংকা উড়াও নিশান : শরদিন্দু উদ্দীপন



 









শরীর জুড়ে ঘুন পোকা
অহরাত্র জীর্ণ করছে হাড়মাস
পঞ্চ ইন্দ্রিয় অসাড়
তাই রূপ রস গন্ধ বিবেচনা যুক্তিহীন।
এমন ঘোরের ঘরেই চোর ঢোকে বারবার
সিঁধেল ছিচকে নানা বেশে
লুটে নেয় পিতৃধন
সঞ্চিত পুঁজি
লুটে নেয় আত্তপরিচয়।
তারপর...
গায়ে ছেড়া কাঁথা
কাঁধে ভাঙ্গা ঢোল
পারের কান্ডারী খুঁজে এ ঘাট ওঘাট
অবিন্যস্ত দিশাহীন
মুখে হরিবোল!!

Thursday, 2 October 2014

মতুয়া জীবন কেমন হওয়া উচিৎ ২ -কালিদাস বারুরী

মতুয়া জীবন কেমন হওয়া উচিৎ ২ -কালিদাস বারুরী
প্রথম অধ্যায়ে যথার্থ মতুয়া জীবন গঠনতন্ত্রের উপর হরি-গুরুচাঁদীয় দর্শনের ভাবাদর্শ আপনাদের কাছে উপস্থান করা হয়েছে । এবার দ্বিতীয় পর্ব। (মতুয়া দর্পণ ৫৮সংখ্যা  থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হ'ল) 
     রাজর্ষি গুরুচাঁদ ঠাকুরের ক্ষুরধার শিক্ষাবপ্লবের ফলে লক্ষ লক্ষ উচ্চ শিক্ষিত ফসল দিয়ে গোলা ভরেছে শত লক্ষ পরিবার। সেসব অর্থমূল্যে মূল্যায়িত শক্ষিত সমাজ এখন 'এলিট' শ্রেনীতে পৌছে গিয়ে ভুলে গেছেন হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরকে তাঁদের কাছে চালচুলাবিহীন সাদামাটা হরিভক্তরা তুচ্ছ-চাচ্ছিল্লে হরিব্বোলার দল নামে অভিহিত । কিন্তু বৈদিক অনুশাসনে সমৃদ্ধ বহিরাঙ্গ রঞ্জিত বাক্‌পটু সুকৌশলী বর্ণচোরা শোষক গুরুদের পদলেহন করে ওনারা ধন্য হন। নিজেদের পিতৃপরিচয় লুকিয়ে জাতে ওঠার সিড়ি খুঁজে বেড়ান। অথচ তপসিলী কোটায় সরকারি সুযোগ সুবিধার নিযার্সটুকু নির্লজ্জের মত চুষে খাচ্ছেন  বংশ পরম্পরায়। পিছনে পড়ে থাকা ভাইবোনদের দিকে একবারও তাকান না । সামাজিক দায়িত্ব বোধ তাদের মধ্যে কদাচিৎ দেখা যায় মাত্র।
     অথচ সরকারি চাকুরির কোটা তাদের জন্য প্রথম আদায় করেছিলেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। নিজের জন্য নয়, সমাজের জন্য, স্ব-জাতির জন্য। দূরদর্শী গুরুচাঁদ ঠাকুর বহুপূর্বে তাঁদের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন,-
                      "আজি যারা তপসিলী জাতি সাজিয়েছে।
                       শিক্ষা ছাড়া উন্নতি কি সম্ভব হয়েছে।।"
     ঘৃণক আর দলকের নিষ্পেষণি ধর্মীয় ফতোয়ার বিরুদ্ধে, আর্ত-ক্ষুধার্ত বহুজনের পরিত্রাণের জন্য হরি-গুরুচাঁদের ছিল আপোষহীন মুক্তি সংগ্রাম। এই ইতিহাস যারা স্বীকার করেন না, তাদের কি মতুয়া বলা যায় ? তাঁরা কি বিবেকীবিধানে 'মানুষ' পদবাচ্যে পড়ে ? তারা কি সত্যদর্শী শিক্ষিত? 
    শুধু মতুয়া ঘরাণায় কথা ভাবলে ভুল হবে । তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় পতিত বহুজন সমাজের ছেলেমেয়েদের যেমন শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ছিল না তেমনি তাঁদের জন্য শিক্ষার কোনো ব্যবস্থাও ছিল না । এমন কঠিক পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে রাজর্ষি গুরুচাঁদ ঠাকুর শিক্ষার বন্ধ দুয়ার খুলে দিলেন । রাতারাতি তাঁর শিক্ষারূপ কল্পবৃক্ষ থেকে উঠে এলো শত সহস্র মাণিক রতন ।
     এখন তাদের বংশধরেরা হরি-গুরুচাঁদকে চেনে না -চিনতে চায়ও না । এভাবেই সমাজে জন্ম হয় অকৃতজ্ঞ, বেইমান, বিভীষণদের । তাঁরা নিজেদের প্রতিপত্তি নিয়েই ব্যস্ত । গুরুচাঁদের মত সমাজ গড়ার কারিগর হয়ে বন্ধুত্বের বা স্ব-জাতি উন্নয়নী চেতনাদ্দীপ্ত ভ্রাতৃত্ববোধদিপনায় হাত পম্প্রসারিত করে না । অথচ গুরুচাঁদ ঠাকুর প্রেম প্রক্ষালনী দরদী ভাষায় বারবার বললেন-
             "জাতির উন্নতি লাগি, হও সবে স্বার্থত্যাগী
              দিবারাত্র চিন্তা কর তাই
              জাতি ধর্ম, জাতিমান, জাতি মোর ভগবান
              জাতি ছাড়া অন্য চিন্তা নাই ।।"
     আহা রে ! এমন দরদ দিয়ে আমার চিন্তা অতীত এবং বর্তমান কুচক্রী সমাজ ব্যবস্থায়  আর কে করেছে ? শিক্ষিত সমাজ জীবন কেমন হওয়া উচিৎ , একটু ভেবে দেখবেন কি ?  
    গুরুচাঁদীয় শিক্ষা বিপ্লবের তীব্রতায় দ্রুতগতিতে বেরিয়ে আসা শিক্ষিত যুবকদের সরকারী চাকুরীর ব্যবস্থাও রাজর্ষি নিজ ক্ষমতায় করে দিলেন । তিনি বললেন-
              "বিদ্যাহীন নর যেমন পশুর সমান ।
               বিদ্যার আলোকে প্রাণে জ্বলে ধর্মজ্ঞান ।।
               -----------------------------------
              আইন সভায় যাও আমি বলি রাজা হও ।
               ঘুচাও এ জাতির মনের ব্যথা ।।"
    কিন্তু গুরুচাঁদ ঠাকুর পশুবৎ জীবন থেকে যাঁদের শিক্ষা, ধন, মান, যশ প্রতিষ্ঠা এনে দিয়েছিলেন পরবর্তীকালে তাঁদের বংশধরেরা কেউ জাতির মনের ব্যথা ঘুচাতে এগিয়ে আসেনি । গুরুচাঁদের মনের ব্যথা গুরুতর হল নাকি ? প্রশ্ন থেকে যায়,  বিদ্যার আলোকে তাঁদের অন্তরে মতুয়া ধর্মজ্ঞান জ্বলে উঠেছিল কি ? সমাজিক দায়বদ্ধতা, ঋণ জ্ঞানে ভাবা উচিৎ ছিল নাকি ?
     আমরা সংঘব্দধ হতে পারি নাই । নিজেদের মধ্যে হিংসা, দ্বেষ, ঈর্ষা, স্বার্থপরতা ছড়িয়ে দিয়েছি । আমরা ব্রাহ্মণবাদীর বর্ণাশ্রয়ী  শিক্ষা নিতে ভালবাসি । তাই নিজেদের মধ্যে বিবাদ করি, হিংসাকরি, শিক্ষিত অশিক্ষিত বিভাজন করি । হরি-গুরুচাঁদীয় শিক্ষায় আছে প্রেম-জ্ঞান-সাম্য-স্বাধীনতার তত্ত্ব-দর্শন, চেতনা প্রদীপ্ত চৈতন্য শক্তির উষ্ণ-প্রস্রবণ । ভ্রাতৃপ্রেম, সঙ্গ এবং সংঘবদ্ধ এককিভুত মানব কল্যাণকামী সৃজনশীল প্রবহমান মহানশক্তির উৎস এই মতুয়াধর্ম । আমরা এই মহান ধর্মের মর্মকথা না বুঝে মুখপোড়া বাঁদরের মত এই ধর্মকে কালিমা লিপ্ত করে বলেছি "লোকায়ত ধর্ম" । পক্ষান্তরে কল্পিত হিংসাশ্রয়ী দেব-দেবী আরাধনায় মেতে উঠে  হারিয়ে ফেলেছি মাণীক রতন, ভুলে গেছি ভ্রাতৃপ্রেম, শিথিল করেছি স্ব-জাতি উন্নয়ন ।
     গুরুত্ব দিয়ে গুরুর কথা না মেনে গরুবৎ বিশৃঙ্খল জীবন-যাপন করতে করতে আমার আর রাজা হওয়া হল না বরং বরণ করেছি প্রভু ভক্ত দাসত্বের জীবন ।
                 "ইতর পশুরা আছে বেঁছে যেই ভাবে
                  তোরাও তাদের মত কাজে কি স্বভাবে
                  এমন জীবনে বল বেঁচে কিবা ফল ।
                  আকারে মানুষ বটে পশু একদল ।।"
    বহুস্থানে দলপতিদের মধ্যে ভেদাভেদ অর্থাৎ সহাবস্থানের আন্তরিক ফারাক লক্ষ্য করেছি । যেমন, মল্লিক বাবুর বাড়ির হরিসভায় 'রামের দল' গেলে শ্যামের দল যাবে না । কারণ, ওদের মধ্যে মতবিরোধ বা মনোমালিন্য । অথচ উভয় দল মতুয়া, 'হরিবোল' নামগানে আসর মাতায়, অশ্রু পাত করে, শতবার পদ ধূলি মাথায় নেয় । প্রশ্ন এখানে, আমরা কি মতুয়া না ভন্ড ? আমরা ভ্রাতৃপ্রেমে বিশ্বাসী না ভ্রাতৃবিচ্ছেদে বিশ্বাসী ? মতুয়া জীবন কেমন হওয়া উচিৎ ভেবে দেখার সময় এসেছে । ব্রাহ্মণ্যবাদীরা তাদের সুখসুবিধার জন্য কৌশলী বর্ণ প্রকরণ করে মানুষকে  শত শত জনগোষ্ঠীতে বিভক্ত করে গোষ্ঠীদাঙ্গা বাঁধিয়ে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে । আর আমরা নিজেরা নিজেদের বিচ্ছন্ন করে কি উপকার করছি ? এই বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে দলিত বহুজন পরিত্রাতা হরি-গুরুচাঁদ বললেন,-
             "যে জাতির দল নেই, সে জাতির বল নেই ।
              যে জাতির রাজা নেই, সে জাতি তাজা নেই ।।
              ------------------------------------
              ভিন্ন ভিন্ন দল কেহ কর না গোসাঁই ।
              ---------------------------------------
             দুই ভাই এক ঠাই রহ মিলেমিশে ।
              ভাই মেরে বল কেন মর হিংসা বিষে ।।"
   স্বজনের অশ্রুসিক্ত সুর মুর্ছনায় আমাকে টেনে নিয়ে গেছে বাংলার অজানা প্রান্ত সীমায় । সর্বত্র লক্ষ্য করেছি ভেদাভেদহীন অকাতরে প্রণাম নিবেদনের দৃশ্য । যে দৃশ্য স্মরণ করায়, নবদিগন্তের নিষ্পাপ আত্মজাগরণী মন্ত্র "আত্ম দীপ ভব", হে সচ্চিদানন্দময় আনন্দ এসো মোর মন মন্দিরে ।
              "প্রেমের নিগড়ে বাঁন্ধি, সবে করে কাঁদাকাঁদি
                ভ্রাতৃভাব আনিল সংসারে ।"
    কিন্তু পরক্ষণেই দেখি শিক্ষিত অশিক্ষিতের ভেদাভেদ । তাদের কথা, "নেহা ফড়া জানা বাবুরা আমাগো ফচন্দ করে না । ওয়াগো সাথে মেলামেশা নাই । ওনারা মতুয়া ধম্মে দীক্কা মানে না, গুরুকরণ মানে না, নক্কীপূজা কালীপূজা, দুগ্‌গা পূজা - কোনো পূজাই মানে না । ঠাহুর তো খ্যারোদের সাঁদ । উনি গুরু অয় ক্যাম্বালে । ওনারা বামুন ঠাহুরেও মানে না । য-ত্‌-ত্য সব নোম্বার শিক্ষিতের দল ।"--ইত্যাদি ।
    এনারা যুক্তিতর্কের ধার ধারে না । বোঝালেও বুঝতে চান না, কারণ এই শিক্ষা তাঁরা তাঁদের দীক্ষাগুরুর কাছ থেকে পেয়েছে । তাঁরা দীক্ষাগুরুর ছবি ঠাকুরের আসনে রেখে ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে ডঙ্কা কাশী বাজিয়ে পূজা করেন । হরি-গুরুচাঁদ ঝুলে থাকে দেওয়ালে । এনাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে যে, ঠাকুর ক্ষীরোদের সাঁই । তিনি থাকেন অমৃতলোকে । ধরাধামের লীলা শেষ করে আবার অমৃত লোকে চলে গেছেন । যিনি ক্ষীরোদসাঁই , স্বর্গধামে যাঁর বিশ্রামাগার । তিনি দীক্ষা দেবেন কমন করে । অতএব গুরুর মধ্য দিয়ে তাঁর পূজা পূর্ণতা পায় ।
গুরুচাঁদ ঠাকুর বজ্রকন্ঠে বললেন,-
"বিদ্যার অভাবে অন্ধ হয়ে সবে ।
অন্ধকারে আছো পড়ে ।।
জ্বেলে দাও আলো মোহ দূরে ফেলো ।
আঁধার ছুটিবে দূরে ।।
    মতুয়া ধর্মে যেনারা গুরুগিরি করছেন তাদের সর্বনাশা ব্যাক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে সাবধান হওয়া উচিৎ । ভুল পথে ভক্তদের পরিচালিত করে মহান মতুয়া ধর্মের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না । ব্রাহ্মণ্য ভেদনীতি পূর্ণ বৈদিক আচরণ ও গুরুবাদ বর্জন করে ভক্তদের হরি গুরুচাঁদীয় বেদ-বিধি তন্ত্র-মন্ত্র মুক্ত শিক্ষার আলোতে নিয়ে আসুন । তাতে আপনারাও বাঁচবেন, দেশ-জাতি পঙ্কিল বাতাবরণ থেকে স্ব-মহিমায় জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করবে । সাবধান । বেশী চালাচালি করতে গিয়ে চুলোচুলি না হয়ে যায় । বিদ্যার অভাবে ভক্তদের অন্ধ করে রেখেছেন কেন ? তাদের জীবনে জ্ঞানের আলো জ্বালালেন ন কেন ? গুরুচাঁদের নামে ধ্বনি দিচ্ছেন অথচ তাঁর শিক্ষা নীতি মানছেন না কেন ? গুরু-গোসাঁই-পাগল-দলপতিদের একটাই প্রশ্নকরি,- গুরুচাঁদ ঠাকুর উঠে যাবার পর(১৯৩৭-২০১৪)-৭৭ বৎসরে লেখাপড়া না শিখে তাঁদের প্রবর্তিত মহান মতুয়া ধর্মের সহজ-সরল নীতি বিধির অর্থ বুঝে অথবা না বুঝে ভক্তদের ভুল পথে পরিচালিত করে এসেছেন বলেই ভক্তজন মানসে নিগুড় ভ্রাতৃত্ববোধের বিবেকী দানা বাঁধতে পারে নাই ।
          আপনাদের কাছে জানতে চাই
     ক) গুরুচাঁদ ঠাকুরের শিক্ষা বিপ্লবের প্রথম সারির সৈনিক হয়েও নিজেরা শিক্ষিত (অন্তত সীমিত শিক্ষায়) হলেন না ? আর পর্যন্ত কোনো শিক্ষা আন্দোলন করেছেন কি ?
     খ) আপনারা গুরুগিরি করছেন অথচ ঘরে ঘরে শিক্ষা বিপ্লব না করে ভক্তদের অশিক্ষার অন্ধকারে রেখে কোন চাঁদের হাট মিলিয়েছেন ?
    গ) মতুয়াধর্মে বেদ-বিধি কল্পিত মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আপনাদের উৎসাহে ঘরে ঘরে এসবের প্রচলন বিদ্যমান কেন ?
                 "হরিবোলা মোতোদের ভক্তি অকামনা ।
                  নাহি মানে তন্ত্র-মন্ত্র বজ্র উপাসনা ।।
                  বিশুদ্ধ চরিত্র প্রেমে হরি হরি বলে।
                   অন্য তন্ত্র-মন্ত্র এরা মাব পদে ঠেলে ।।
                   তন্ত্র-,মন্ত্র ভেক ঝোলা সব ধাঁ ধাঁ বাজী ।
                   পবিত্র চরিত্র থেকে হও কাজে কাজী ।।(" হঃ লীঃ)
    ঘ) শিক্ষিত মতুয়ারা আপনাদের চক্ষুশূল কেন ? তাঁরা হরি-গুরুচাঁদের মূল আদর্শ অনুযায়ী  সমাজ পরিবর্তনের পথে বিপ্লব ঘটাতে চায়  বলেই কি আপনাদের ঘরে ঘরে অমাবস্যা নেমে আসার ভয়ে শিক্ষার বিরুদ্ধাচারণ করে ছলেছেন ?
    আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আবেদন করছি, "অনুগ্রহ করে শিক্ষাকে মর্যাদা দিন, 'ভুল' কে 'ভুল' বলুন, সত্যকে জানুন এবং সত্য প্রচার করুন । গুরুচাঁদ ঠাকুরের মর্মস্পর্শী ইচ্ছা ও নির্দেশ,-
                 "অনুন্নত জাতি যদি বাঁচিবারে চাও
                  যাক প্রাণ সেও ভাল বিদ্যা শিখে লও ।"
ভক্তদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসুন ।
    বহু শিক্ষিত মতুয়া পরিবারে ও জাঁকজমকপূর্ণ বেদাচারী আচার অনুষ্ঠান ও দেব-দেবী পূজা পার্বণের প্রাচুর্যতা লক্ষ্যনীয় । আপনারা ঠাকুরের প্রিয়জন হয়ে ঠোক্কর খাবেন কেন ? আপনারা মতুয়া ঘরাণার যথার্থ ক্রিয়াকাজে উদাহরণ হয়ে উঠলে পিছনের সবাই আপনাদের অনুকরণ ও অনুসরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠবে সন্দেহ নেই । শিক্ষা আনে চেতনা । চেতনা আনে বিপ্লব । এই বিপ্লবে আপনারাই সৈনিক । ঘরে ঘরে বিপ্লবের প্লাবন বইয়ে মতুয়া ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করার গুরুদায়িত্ব আপনাদের । দলিত বহুজন সমাজের হরি-গুরুচাঁদের মত পরিত্রাতা পেয়েও যদি দৈব দাসত্বের অর্গল কল্পিত ঐশ্বরিক শৃঙ্খল ভেঙে শিক্ষিত সমাজ যদি এগিয়ে না আসে তবে এই জাতি কোনোদিন জাগবে না । তাঁরা বিবেক হীন চামচেয় পরিণত হবে । আসুন আমরা স্মরণ করি দলিত মহাজনের অমৃত বাণী-
              "ব্রাহ্মণ্য ধর্মেতে পুষ্ট ভেদবুদ্ধি দ্বারা দুষ্ট ।
               স্বার্থলোভী ব্রাহ্মণের দল ।।
                ---------------------
               হিংসা দ্বেষ দন্দনীতি আনে ঘরে ঘরে ।
                আর্য মল হিন্দু হল বীর্য গেল মরে ।।
                ----------------------
               অন্ধজনে দিতে আলো অমানীরে মান ।
              ওড়াকান্দি অবতীর্ণ হলো ভগবান ।।"
    প্রশ্ন থেকে যায়, সহজ সরল দলিত বহুজন সমগোত্রীয়দের মধ্যে ভেদাভেদ দ্বন্দ্ব, বৈষম্য, হিংসা, দ্বেষ অতি সুক্ষ্মচাতুর্যে প্রবেশ করালো ব করাচ্ছে কারা ? তাকি একবার ভেবে দেখেছি ? আমার মনে হয়, আমরা যতটা মনোযোগ দিয়ে ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্র দর্শন অধ্যয়ন করি তার সিকি ভাগ মনোনিবেশ করি না শ্রীশ্রী হরিচাঁদ জ্ঞান-দর্শন তত্ত্বের উপর । যে দর্শন মতুয়াদের জীবনে এনেছে অপরা-বিদ্যা শিক্ষার তিরন্দাজী জোয়ার । আমরা ভুলে গেছি আমাদের পূর্বের অবস্থানের কথা ।
                "অনুন্নত জাতি যত এ বঙ্গ মাঝারে ।
                শিক্ষাশূন্য ছিল সবে ঘোর অন্ধকারে ।।"
    সেই অন্ধকার অজ্ঞানতা থেকে আজকের শিক্ষা সভ্যতা, গাড়ি, বাড়ি, এক কথায় বিশ্ব এসেছে হাতের মুঠোয়- যার আঙ্গুলী লেহনে, তাঁকে স্মরণ ,মনন,তর্পণ করবো না ? তিনিই তো আমার জীবন প্রদীপ, একমাত্র আরাধ্য দেবতা । সেই মধুমাখা হরিনাম বেজে উঠুক আমার মনোবীণায় । এসো হে মনের মানুষ থাকো মোর হৃদয় জুড়ে । এসো হে মতুয়াধীশ তাপিত তৃষিত প্রাণে তুমি প্রাণারাম ।
    বহুস্থানে লক্ষ্য করেছি, নানাস্থান থেকে আগত ভক্তেরা ডঙ্কা, কাশী, নিশান নিয়ে শ্রীহরি মহোৎসব আসরে মন্দির পরিক্রমা করে হরিনামের মাতাম দিয়ে ছড়িয়ে পড়েন আশে পাশের বাড়ি বা পাড়ায় । শুরু করেন আষাঢ়ে গল্প । নিন্দা মন্দের ধামা উবুড় করে জাহির করেন নিজের বুদ্ধিমত্তার কেরামতির অলীক ভক্তবিটেল চর্চা । অন্যান্য শ্রোতা বর্গ রসিয়ে কসিয়ে উপভোগ করেন । অপ্রচলিত বিশেষণ প্রয়োগ চলতে থাকে পরনিন্দা পরচর্চা এবং বক্তার বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানগরিমার পদাবলী । গপ্প দাদুর গালভরা গপ্পে  মশগুল ভক্তরা হাসি ঠাট্টায় বুঁদ হয়ে যায় । ওদিকে হরিবাসর ফাঁকা । হরি ভক্তের চলন এমন হওয়া উচিৎ কি ? তাঁদের উচিত ছিল, শ্রী বিগ্রহের মন্দির পরিক্রমা ও মাতাম দিয়ে উপবেশন করে ধ্যানস্থ হওয়া । এতে শরীর মন শান্ত হয়, কূ-চিন্তা দূরে সরে যায় ।
    মতুয়া ভক্তেরা পেটুক আখ্যা পেয়েছে । এনাদের অন্নপ্রসাদ গ্রহণ বা ভোজনের নির্দিষ্ট কোন সময় নেই । আমি নিজে দেখেছি এক বাড়ির হরিসভায় হরিভক্তরা ভোর ৪টার সময় গোগ্রাসে গরম গরম ডাল, ভাত তরকারি আহারে ব্যস্ত । রাত বারোটার পর সকাল ৬-৭টা পর্যন্ত এরূপ ভোজন করতে আমি বহু স্থানে দেখেছি । প্রত্যুষ কাল থেকে সকাল সাড়ে ছটার মধ্যেকার সময়টুকু "ব্রাহ্ম মুহুর্ত" বলে । সাধারণত ভজন সাধন-পূজা পাঠ -প্রার্থনা ইত্যাদি করার এটাই উপযুক্ত সময় । অথচ এই ঊষাকালে ভক্তদের মচমচে শুকনো লঙ্কা ভাজা দিয়ে মহানন্দে পান্তা ভাত খেতে দেখেছি । অর্থাৎ ভোজন পর্বের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাধা নিষেধ মানামানির বালাই নেই । এটা স্বাস্থের পক্ষে হানিকর । অন্ন প্রসাদ গ্রহণের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত হওয়া শরীর স্বাস্থ্য ও সাধন ভজনের পক্ষে অতি উত্তম প্রবন্ধ । একে মেনে চলা উচিত বলে মনে করি । আবার অধিক ভোজন রোগের কারণ । অতএব পরিমিত আহার করা মহাজনের নির্দেশ । এতে দেহরথ ভালো থাকে । দীর্ঘ পরমায়ু সহ গতি সম্পন্ন হয় । সাধন ভজনে মনস্থির হয় । আপনি স্থির করুন, মতুয়া জীবন কেমন হওয়া উচিত । (চলবে)







Thursday, 10 January 2013

হরিচাঁদ ও বাংলার চণ্ডাল বিদ্রোহ-১ম ভাগ


হরিচাঁদ ও বাংলার চণ্ডাল বিদ্রোহ-১ম ভাগ
"Tall and large limbed Chandals were the active and
successful enemy of the Aryan inveders".
ভারতবর্ষের চণ্ডাল জাতি সম্পর্কে ১৮৯১ সালের সেন্সাস কমিশনার, সি.জে ওড়নীল দ্ব্যর্থ হীন ভাষায়
একথা ঘোষণা করেছিলেন।

চণ্ডাল একটি প্রাচীন নরগোষ্ঠী। ভারতবর্ষের সর্বত্র বিরাজমান এই নরগোষ্ঠীর শৌর্য-বীর্য প্রাগার্য ভারতের একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায়। প্রাচীন পালি ও সংস্কৃত সাহিত্যে চণ্ডাল নরগোষ্ঠীর উল্লেখ আছে। মূলতঃ এই নরগোষ্ঠী প্রোটো-অস্ট্রাল নরগোষ্ঠীর একটি বলিষ্ঠ অংশ। বিবর্তনের ধারায় যে জনগোষ্ঠী  পামির, তাকলামাকান হয়ে সমগ্র এশিয়া,আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত জনবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল।
অসুরভাষী এই জনগোষ্ঠীই প্রাচীণ নগর সভ্যতার আদি প্রবর্তক,ধারক,বাহক ও প্রতিপালক।  জ্ঞান,বিজ্ঞান,ব্যবসা,বানিজ্য,শিল্পনীতি ও অর্থনীতির যথার্থ প্রয়োগের সমন্বয়ে ভাবিকালের সম্ভাব্য সভ্যতার সোপান প্রস্তুত করতে পরেছিল এই প্রজ্ঞাবানেরা। এই সভ্যতাগুলি যথাক্রমেঃ
১)ক্যাটাল হউক(85000-9000 BC)
২)মেহেরগড় (7000 BC)
৩)আশিরিয়া/অসুরা/মেসোপটেমিয়া(6000 BC)
৪)ফনেশিয়া/আবেস্তা (5500-6000 BC)
৫)ইজিপ্ট (4500-5000 BC)
৬)ইন্দাস (2500-4500 BC)
৭)চায়না (1500-2000 BC)
অসুর ভাষী জনগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা ও অবদানের ফলে প্রাচীণ কলেই গড়ে উঠেছিল একটি সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জ।
সমকালীন সভ্যতার সর্ব উচ্চ শিখরে বিকশিত হয়েছিল তার অনুশাসন এবং পারস্পরিক আদান প্রদান ও সহাবস্থানের নীতি। মেহেরগড়,হড়প্পা,মহেঞ্জোদড়, ধলাভিরা,লোথাল প্রভৃতি অসুর সভ্যতার অবিচ্ছেদ্দ অংশ হলেও শিল্প,সংস্কৃতি, ধম্ম ও দর্শনে একটি সম্পূর্ণ সতন্ত্রতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। অসুরদের সঞ্চিত সম্পদের লোভেই আর্যভাষী বর্বরেরা আক্রমণ সংগঠিত করেছে যুগে যুগে। ধবংস করে দিয়েছে সভ্যতার স্মারক। নৃশংসতার কৃপাণেই সূচীত হয়েছে আর্যায়ন। অসুর সাম্রাজ্যের অন্যতম বলিষ্ঠ জাতি চণ্ডালেরাই এই আর্যায়নের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তু্লতে সক্ষম হয়েছিল এবং  নিজেদের স্বকীয়তা ও স্বধম্ম অক্ষুন্ন রেখে পুনরায় নবকলেবরে প্রতিষ্ঠিত করেছিল বিস্মৃত প্রাগার্যজনের বেদাতীত জ্ঞান।              

লাঙ্গল,জোঙ্গাল,জঙ্গল,ডাঙ্গাল,বোহাল,খেড়ওয়াল,সাঁওতাল,বঙ্গাল প্রভৃতি আদি অস্ট্রাল শব্দগুলির ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ করলেই চণ্ডাল শব্দের গুনগত এবং অর্থগত অভিব্যক্তিটি যথার্থ প্রতিভাত হয়ে উঠবে। ঋকের অনেকগুলি শ্লোকের রচয়িতা বিশ্বামিত্র ছিলেন চণ্ডাল। গুহক চণ্ডাল,রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনী অনন্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। জাতক  কাহিনীতে বোধিসত্ত্বকে সততার প্রতীক হিসেবে চণ্ডাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বহুবার। কার্যসিদ্ধির জন্য সুদাস,মনু,অগ্নী,বরুন প্রভৃতি দাস বা অসুর নেতাদের ও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হতো বৈদিক সাহিত্যে। অর্থাৎ রক্ষস (পরবর্তী কালে রাক্ষস বলা হয়েছে), অসুর,নাগ,চণ্ডাল শব্দগুলি কোন ভাবেই ঋণাত্মক নয় বরং গুণবাচক এবং ধ্বনাত্মক।

এই ক্ষেত্রে চর্যাপদের কয়েকটি দোহাতে চণ্ডাল শব্দের যে গুণগত এবং অর্থগত ভাব প্রকাশ করেছে তা খানিকটা আলচনা করা যেতে পারেঃ
"কেহো কেহো তোহোরে বিরুআ বোলই
বিদুজণ লোঅ তোঁরে কণ্ঠ ন মেলই।
কাহ্নে গাই তু কাম চন্ডালা।
ডোম্বি ত আগলি নাহি চ্ছিন্নালা" ।। (কাহ্নপাদ ১৮ নং চর্যা পদ)
বা
" কমল কুলিশ মাঝেঁ ভইঅ মিঅলী।
সমতাজো এ জলিঅ চন্ডালী।। (ধামপাদানাম, ৪৭ নং চর্যা পদ)
অথবা
বাজণাব পাড়ী পঁউআ খালে বাহিউ।
অদঅ বঙ্গালে ক্লেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসু বঙ্গালী ভইলী।
ণীঅ ঘরণী চণ্ডালী লেলী।। (ভুসুপাদানাম,৪৯ নং চর্যা পদ)    
এখানে পদকর্তাগণ চণ্ডালের প্রকৃত স্বরূপ উল্লেখ করে বলেছেন যে, আত্মশক্তি বিকাশের কঠিনতম পথ পরিক্রমার মাধ্যমেই একমাত্র অদ্বিতীয় বঙ্গালে প্রবেশ ঘটে।
এবং চণ্ডালী স্বরূপ স্বশক্তিকরণ হলে বা প্রজ্ঞার আলো প্রজ্বলিত হলে তবেই বাঙ্গালী হওয়া যায়। অর্থাৎ প্রজ্ঞা ও আত্মশক্তি উপলব্ধির সুসংহত এবং সমতা বোধের
অবস্থা প্রাপ্তিই চণ্ডাল মার্গদর্শন।  চণ্ডালের স্বরূপ বুঝতে না পেরে অনেকে তাকে বিরুপ কথা বলে। কিন্তু বিদুজন বা গুণীজন তার কন্ঠ ত্যাগ করেন না।      

স্মৃতি শাস্ত্র রচনার কালেই আক্রশ বশতঃ চণ্ডাল জাতিকে পঙক্তিচ্যুত করা হয়েছিল এবং রাজ দণ্ডকে ব্যবহার করে টেনে নামানো হয়েছিল সর্ব নিম্ন স্তরে । এই প্রসঙ্গে শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের প্রসঙ্গে আলোচনাটি প্রনিধান যোগ্য। "বৈদিক কাল ও বৈদিক সাহিত্য সম্পর্কেও আমরা সেই কাথা বলতে পারি। এই সুদীর্ঘ সময় ছিল ধ্বংসের যুগ,
অনুকরণের কাল। প্রাচীন দেশীয় শব্দ, লিপি, ভাষা আত্মসাৎ করার অন্ধকার যুগ। অর্থাৎ মূলত এদেশের ভাষা ও শব্দ সম্ভার, সাহিত্যরচনার রীতি এবং লেখকদের আশ্রয় করেই বিজয়ী আর্যরা নিজেদের প্রয়োজন সিদ্ধিমূলক বৈদিক রচনা করে নিয়েছিল। বেদ বা বৈদিক সাহিত্য তাই মূলতঃ ঔপনিবেশিক সংবিধান। ...............
এ সাহিত্য তাই উপনিবেশবাদের মূল সুর, ঘৃণা এবং জাত বিদ্বেষ, শোষণ ও পীড়নের কাহিনী কথায় ভরা।
........চূড়ান্ত বর্ণ -বিদ্বেষ চলেছে, ঈশ্বরের নামে ও ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে"।

আর্যরা অসহিষ্ণু । শিকার এবং সংগ্রহ,পরের ধন অপহরণ এবং বর্বরতাকে তারা পরিহার করতে পারেনি কখনো। আর্যদের ধর্ম পালনের কাঙ্খিত কামনায় অধিকাংশ জুড়েই পরিলক্ষিত হয়েছে অর্থ,সম্পদ,নারী,সুরা এবং যৌনতা প্রাপ্তির প্রবল আকুতি। অসুরদের (সুরা পান করে না যারা) ভাগিদারী ওরা কোন কালেই দিতে চায়নি। বরং অসুরদের শ্রম এবং উৎপাদনের উপর গড়ে ওঠা আর্থ-সামাজিক সম্পদের সমস্তটাই আত্মসাথ করার জন্য ধর্মগ্রন্থ ও অনুশাসনগ্রন্থের আশ্রয় নিয়ে বর্ণ ব্যবস্থাকে স্বর্গীয়
মহিমা প্রদান করেছে। ব্রাহ্মন্যবাদকে সর্বগ্রাসী করে তুলেছে এবং শ্রমজীবি মানুষের মুখে গরল ঢেলে দিয়ে সুধা খাওয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করেছে। বাংলায় পাল শাসনের পতনের পর একেবারে মুঘল আমলের শেষ পর্যন্ত এই ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন সূচিত  হয়নি।

হরিচাঁদ ঠাকুরের চণ্ডাল বিদ্রোহ ও মতুয়া ধম্ম  তাই ভারতীয়  অসুর ধম্ম ও দর্শনের এক বেগবান প্রবাহ।
মানবতার প্লাবনে বেদ,বিধি,শৌচাচারের বৃত্ত ভেঙ্গে ফেলে বুকের মাঝে বিশ্ব লোকের সাড়া পাওয়ার উদাত্ত আহ্বান। প্রজ্ঞা ও স্বশক্তি করণের অনবদ্য উন্মেষ। অজ্ঞানতা দূর করে সমতা প্রাপ্তির সর্ব উচ্চ মার্গে সমবেত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান। অথবা সহস্র বছরের অবজ্ঞার আবর্তে ঘনীভূত এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়। বাঁধার গণ্ডি ভেঙ্গে ফেলার অদম্য অভিঘাত।
হরি চাঁদ অনুধাবন করেছিলেন ব্রাহ্মন্যবাদ মানবতাবাদের পরিপন্থী। একে স্বীকার করা মানেই গোলামির শৃঙ্খল পরিধান করা। আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদাকে চিরকালীন বিসর্জন দিয়ে ব্রাহ্মনের বিনম্র দাসে পরিণত হওয়া এবং জাত বেজাতের কলঙ্ক চিহ্ন শিরধার্য করে উচ্ছিষ্টভোগীর মত জীবন ধারণ করা। এর কোন অংশই তিনি স্বীকার করেন নি। বরং  বেদ-বিধি, জাগ, যজ্ঞ, তন্ত্র, মন্ত্র, দেব-দ্বিজ প্রভৃতি অনৈতিক অনাচারকে অস্বীকার ও অগ্রাহ্য
করে মতুয়া দর্শনের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।  
"নাহি মানে দেব দ্বিজ আলাহিদা পথ।
ইহারা হয়েছে  এক হরি বলা মত।।
...কেহ বলে জাতিনাশা সকল  মতুয়া ।
দেশ ভরি শব্দ হল মতুয়া মতুয়া।।
...তাহা শুনি ডেকে বলে প্রভু হরিচাঁন
ভিন্ন সম্প্রদায় মোরা মতুয়া আখ্যান"।।

Tuesday, 7 August 2012

MATUA is the Religious Revolution against Heen (rubbish) Dharma


Matuas are the adherents of HARICHAND a CHANDAL religious leader during British time. Chandals (now Namasudra) are the second highest population in West Bengal after partitio
n of Bengal. They are believed to be descendants of the original inhabitants of Bengal. 90% of Muslims of greater Bengal had their origin in Chandals. They dropped off to Islam during Muslim rule leaving only fraction of their original strength. (Chatterjee, S.P: Bengal in Maps, 1948, p.48.). They are the indigenous, aboriginal people of Bengal, who have been living there from time immemorial. ( O’Malley, L.S.S: 1908, 1925).
During Battle of Ten Kings in1300 BC -1100 BC Aryans invaded India, destroyed Indian cities (INDUS) and made the Indian slave. Before that they started to write VEDAS copping the Indian scripts (Aryans didn’t have any script with them). In the 10 mondal (phases) of Rick Vedas they divided the people into 4 Varnas as Brahman, Rajanya, Baisya and Sudra and fixed the rights and duties of the people based on their birth.


GOTAMA the 28th Buddha revolted against the inhuman Aryan religion and united the people under the supreme truth “Dhamma as I understand it consists in recognizing that enmity does not disappear by enmity. It can be conquered by LOVE alone”. But the Satanic elements guided the Brahmans to continue their conspiracy. Again they raised their head and spreaded the poison among the people. They wrote so many books those inspired them to destroying, killing and capturing the properties of aboriginals. ARTHA SASTRA by Kautilya (during 350 BC-280 BC), MANUSMRITI by Bhrigu (the Brahmanical Pinal Code during 185 BC) and SRIMAT BHAGABAT GITA by Sankarachariya(in the name of Vyasas) guided them to do the brutality as their holly duties. During the contra revolution, Brahmans made the 85% of aboriginals slave. In the name of RILIGION they have fragmentized the Indian people into 6748 of castes, adulterating with untouchablity, hate, anger and discriminations. They contaminated the human values pushing vulgar, drinking, smoking of Ganja, sex and polygamy. The religious places were established as brothels. This intoxication made the people inhuman and criminals. Thus BHAKTI MOVEMENT started by the religious leaders of aboriginals. Guru Nanak, Snt. Kabir, Sant. Ravidas, Tukaram, Mirabai so many religious leaders raised their voice against the Heen Dharma introduced by Brahmans.
MATUA the belated Religious Revolution by the CHANDAL leader HARICHAND started against the Brahmans and their Heen Dharma (Hindu). He smashed the chain of slavery by the Brahmans and taught the simplest religion following BUDDHA. He proclaimed MATUA means “Me like You” Dhamma. Every Matua follow his teaching as 12 AGYA(order):
• Be simple.
• Make your nature (character) fresh.
• Feel yourselves in every creature.
• Avoid stealing and untruth.
• Do the right work in hand.
• Avoid the Brahman from your life.
• Keep away VEDAS from your life.
• Do the Garhasta Dhamma(conjugal religion).
• Avoid sensual pleasure and polygamy.
• Avoid alcoholism.
• Be educated and religious.
• Be with agriculture and trade.

The disciples of Harichand Thakur are calle PAGOL (generally stands for mad person) are the wise people organize the villages forming MATUA DAL (groups). Leader of the MATUA DAL is called DALAPATI controls the followers to their religious life.