Pages

Saturday, 26 August 2017

ধর্ষণ এক বৈদিক শিষ্ট সংস্কৃতিঃ

delete





“ধর্ষণ”
হিন্দু সংস্কৃতির কত গভীরে শিকড় গাড়তে পারে তার উলঙ্গ উন্মোচন ঘটল ২০০২ সালে পাঞ্জাব হরিয়ানা হাইকোর্টের দাখিল করা একটি ধর্ষণ ঘটিত মামলার রায়ের মাধ্যমে। সিবিআই’এর উকিল জগদীপ সিং কোর্টের রায় পড়ে শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে ধর্ষণ কেসের মূল আসামী ডেরা সাচা সৌদার স্বঘোষিত ঈশ্বর পুরুষ গুরমিত সিং রামরহিমের অন্ধ ভক্তরা যে ভাবে এই ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে দুটি রাজ্যে প্রশাসনকে একেবারে অকেজ করে দিল এবং জনজীবনের মধ্যে প্রলয় সংকেত নামিয়ে আনল তা অবশ্যই ভারতরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের পক্ষে এক নৈরাজ্যের সংকেত।বলার অপেক্ষা রাখেনা যে কিছু রাজনৈতিক দলের সরাসরি মদতে এই নৈরাজ্য আরো ব্যপক আকার ধারণ করল।
প্রশ্ন আসছে এইভাবে নৈরাজ্যের বাতাবরণ তৈরি করে কি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলি ভারতের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছে? ধ্বংস করে দিতে চাইছে ভারতের সংবিধান?

বিজেপির সাংসদ সাক্ষী মহারাজের বয়ানে কিন্তু সেই রকমই সংকেতের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। তিনি ধর্ষক রামরহিমের পক্ষ নিয়ে এই দৈবপুরুষদের দ্বারা সাধ্বী বা নারিদের ধর্ষণ হওয়ার ঘটনাকে নৈতিক শিষ্টাচার বলে বর্ণনা করেছেন। শুধু তাই নয় তিনি ধর্ষকের বিরুদ্ধে আনা আদালতের রায়কে খারিজ করারও দাবী জানিয়েছেন। অর্থাৎ ভারতীয় ন্যায়ের শাসনকে ধুলিস্যাত করে তিনি ব্রহ্মার বিধান বা বেদের বিধানকে মান্যতা দেবার সংকেত দিয়েছেন এবং হিন্দু নৈতিক শিষ্টাচারের কথা উত্থাপন করেছেন। সম্ভবত উদ্ভূত সঙ্কট কালে সাক্ষী মহারাজের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছে ব্রাহ্মন্য ধর্ম সংস্থাপনের একটি সুপ্রাচীন বার্তা।
কী এই নৈতিক শিষ্টাচার?
ভারতের একটি ন্যায়পালিকা একজন ধর্ষকের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর তাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন এবং তার প্রাপ্য সাজা শোনাবেন এটাইতো নিয়ম। কিন্তু ন্যায়পালিকার সেই নিয়মকে ব্রাহ্মণ্য শিষ্টাচারের বিরুদ্ধে বলতে গেলেন কেন সাক্ষী মহারাজ? প্রশ্নটা এখানেই। কী সেই ব্রাহ্মণ্য শিষ্টাচার যা রামরহিমের মত দৈবপুরুষরা ধারণ করে আছেন? কি সেই অমোঘ ভিত্তি যা রামরহিমের মত ধর্ষকদের দৈব লীলার সাথে যুক্ত।
২০০২ সালে ভূতপূর্ব প্রধানমন্ত্রী মাননীয় অটলবিহারী বাজপায়ীকে লেখা পাঞ্জাবের এক সাধ্বীর চিঠিতে বোধ হয় এই প্রশ্নের খানিকটা উত্তর রয়েছে। সাধ্বী লিখেছেন, “আমি পঞ্জাব থেকে আসা মেয়ে। সিরসা (হরিয়ানা)-র ডেরা সচ্চা সৌদায় একজন সাধ্বী হিসেবে সেবা করে চলেছি গত ৫ বছর ধরে । আমার মতো আরও কয়েকশো মেয়ে এখানে রয়েছেন, যাঁরা প্রতি দিন ১৮ ঘণ্টা করে সেবা করে চলেছেন।
কিন্তু এখানে আমরা যৌন নির্যাতনের শিকার। ডেরায় মেয়েদের ধর্ষণ করেন ডেরা মহারাজ (গুরমিত সিংহ)। আমি একজন স্নাতক। ডেরা মহারাজের উপরে আমার পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। পরিবারের সেই অন্ধবিশ্বাসের জেরেই আজ আমি একজন সাধ্বী। সাধ্বী হওয়ার বছর দুয়েক পর এক দিন রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ এক মহিলা ভক্ত আমার ঘরে আসেন। জানান, মহারাজ আমাকে ডেকেছেন। মহারাজ স্বয়ং ডেকে পাঠিয়েছেন শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। সাধ্বী হওয়ার পর সেটাই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে তাঁর ঘরে ঢুকি। দেখলাম ওনার হাতে একটা রিমোট এবং টিভিতে তিনি ব্লু ফিল্ম দেখছেন। বিছানায় তাঁর বালিশের পাশে একটা পিস্তল রাখা ছিল। এ সব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এর পর মহারাজ টিভিটা বন্ধ করে দেন। আমাকে ঠিক তাঁর পাশে নিয়ে গিয়ে বসান। খাওয়ার জন্য এক গ্লাস জল দেন। তার পর খুব আস্তে করে বলেন, ডেকে পাঠানোর কারণ আমাকে তিনি নিজের খুব কাছের বলে মনে করেন। এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।
এর পরই তিনি এক হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে তাঁর আরও কাছে টেনে নেন। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলেন, আমাকে তিনি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসেন। আমার সঙ্গে সহবাস করতে চান। বলেন, তাঁর শিষ্যা হওয়ার সময়ই আমার সমস্ত সম্পদ, আমার শরীর এবং আত্মা তাঁর কাছে উৎসর্গ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বর, এতে তো কোনও সন্দেহ নেই’। আমি তাঁকে বলি, ঈশ্বর কখনও এ রকম করেন না। আমাকে বাধা দিয়ে তিনি বলেন:
১) শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তাঁর ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাঁদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর বলে মানে। এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই”। ( রাম রহিমের বিরুদ্ধে সাধ্বীর সেই চিঠি, পড়লে শিউরে উঠবেন ঃ নিজস্ব প্রতিবেদন, আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৬ অগস্ট, ২০১৭, ১৩:৪৫:৫৬)।
হ্যা, এটাই দৈবপুরুষদের লীলা এবং বেদের শিষ্টাচার এই লীলাকেই মান্যতা দিয়েছে। ঋকের একেবারে প্রথম দিকের শ্লোক বা গায়ত্রীর মন্ত্র (Mandala 3.62.10) বা বীর্যমন্ত্র। গায়ত্রীকে ভাষাতাত্ত্বিক ভাবে বিশ্লেষণ করলেই বুঝতে পারা যায় যে পরাজিত দেশের সব নারী এবং অনুঢ়া মেয়রা (যস্যবিতুবরেন্যায়ম ভর্গোদেবস্যধীমোহি। ধীয়োযোনা প্রচোদায়ত।) যাদের রাজার মৃত্যু হয়েছে এবং ন্যায়ের শাসন ধ্বংস হয়ে গেছে তারা দেবতাদের ভোগ্য হবে। অথবা যে রাজা নিঃসন্তান তিনি পুত্রকামষ্ঠী যজ্ঞের মাধ্যমে দেবপুরুষ বা ঋষিদের দ্বারা নিজ পত্নীগণের গর্ভে সন্তান উৎপাদন করতে পারবেন।
বেদের এই পারম্পরিক শিষ্টাচারের রাজসূয় ব্যবস্থা দেখা যায় রামায়ণের বালকাণ্ডে। যেখানে নিঃসন্তান রাজা দশরথ ঋষ্যশৃঙ্গ নামক দেবপুরুষকে দিয়ে নিজের চার পত্নীর গর্ভে সন্তান উৎপাদন করেন। বেদধ্যয়নরত বৈদিক ঋষিদের স্ত্রীসহবাস সুখ অবগত করার জন্য পরমাসুন্দরী রমণী বা বরাঙ্গনাদের সহযোগিতা নেওয়া হত তাও বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে রামায়ণের বালকান্ডে।
মহাভারতেও একই ভাবে ঋষিক্রিয়ার এই বৈদিক শিষ্টাচার আমরা দেখতে পাই আদিপর্বে। বিচিত্রবীর্যের অকাল মৃত্যু হলে মা সত্যবতী ভাইয়ের পরমাসুন্দরী স্ত্রীদের গর্ভে ভীষ্মকে সন্তান উৎপাদন করে পিতার বংশ রক্ষা করার অনুমতি দেন। ভীষ্ম দারপরিগ্রহ না করার পূর্ব সংকল্প হেতু সত্যবতীর এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন কিন্তু ক্ষেত্রজ উৎপাদনের বৈদিক দৃষ্টান্তের ব্যাখ্যা করে কোন ব্রাহ্মণ বা ঋষির দ্বারা ভাইয়ের স্ত্রীদের গর্ভে সন্তান উৎপাদনের আদেশ দেন। ভীষ্ম আরো বলেন যে এই ক্ষেত্রজ গ্রহণ ধর্মানুবদ্ধ, অর্থানুবদ্ধ এবং কামানুবদ্ধ।
এরপর মা সত্যবতী দৈবপুরুষ ঋষি ব্যাসকে দিয়ে তার পুত্রবধূদের নিষিক্ত করেন। অম্বিকার গর্ভে ধৃতরাষ্ট্র এবং অম্বালিকার গর্ভে পা্রেন্র জন্ম হয়। মা সত্যবতী নিজের দাসীকেও ব্যাসদেবের দ্বারা নিষিক্ত করেন এবং সেই দাসী বিদুর নামে এক বুদ্ধিমান, জ্ঞানী পুত্রের জন্ম দেন।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে মা সত্যবতীও যৌবনে পরাসর নামে এক ঋষির কামনার শিকার হয়ে দীপের মধ্যে একটি সন্তানের জন্ম দেন। যে সন্তান ছিলেন ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। কৃষ্ণবর্ণ শরীর এবং দীপে জন্মানো এই সন্তান বেদভ্যাসের দ্বারা মহাপাণ্ডিত্য অর্জন করেন; তাই তার নাম হয় কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদব্যাস। আর এই বেদব্যাসের জন্মদাত্রী ধর্ষিতা মায়ের নাম ছিল মৎসগন্ধা।ভীষ্মের পিতা শান্তনু তাকে বিয়ে করেন। রাজমহিষী হিসেবে তার নাম হয় সত্যবতী।

ঋষিক্রিয়া বা ঋষভ ক্রিয়ার উৎপত্তিঃ
বাজারে ধর্মের ষাঁড় ছেড়ে দেবার একটা লোকায়ত প্রথা আছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভিতর এইসব ষাঁড়েরা ঋতুবতী গাভীদের নিষিক্ত করে। কৃষিজীবী মানুষেরা উন্নতমানের গোকুল বাড়ানোর জন্য সহমতের ভিত্তিতে এটা করে থাকতো এক কালে। বিনিময়ে ষাঁড় পেত অবারিত মাঠ। যত্র তত্র বিচরণের অবাধ ছাড়ত্র। ঋতুবতী গাভীদের সঙ্গে সহবাসের অধিকার। এখনো কৃষি প্রধান এলাকার এটাই প্রচলিত প্রজনন বিদ্যা। ঋতুবতী গাভীদের ডিম্বাণুর সাথে ধর্মের ষাঁড়দের শুক্রাণুর নিষিক্ত করণের এই ক্রিয়া প্রক্রিয়াকে ঋষি ক্রিয়া বলতে পারেন। তাই সংস্কৃত ভাষায় নির্দিষ্ট গোয়ালহীন ধর্মের ষাঁড়দের ঋষভ বলা হয়।

ভারতীয় জনপুঞ্জের এই লোকায়ত বিদ্যাটিকে বৈদিক যাযাবরেরা গভীর ভাবে অধ্যায়ন করে। আত্মস্থ্য করে এবং তাদের সামাজিক আচারের সাথে একেবারে অঙ্গীভূত করে নেয় এবং উন্নত মানবকুল বাড়ানোর জন্য ব্যভিচারে সম্মত ও সামর্থ মানুষকে ঋষি ক্রিয়াতে উদ্বুদ্ধ করে ময়দানে নামায়। পাশাপাশি ভরণ পোষণের নৈবেদ্য জুটতে থাকে লোকালয় থেকে। লোকালয়ের থেকে দূরে এই সব ঋষিগণ যখন যেমন খুশি যার তার সাথে যৌনাচারের স্বীকৃতি পায়।
ঋষভ ক্রিয়া ধর্মানুবদ্ধঃ
এই যে ঋষিক্রিয়া বা যৌনাচার বৈদিক সমাজে এমন এক উচ্চ শিষ্টাচারে পউছেছিল যে পাত্রী নির্বাচনে বৈদিক ঋষিদের মা,মাসি, কন্যা, ভাই, বোন বলে কোন বাদবিচার ছিল না বরং এই যৌনাচারকে ধর্ম সম্মত করে নানা শাস্ত্র প্রণয়ন করে। বৈদিক শাস্ত্রেই দেখা যায় যে, ব্রাহ্মণদের আদিপিতা ব্রহ্মা তার নিজের মেয়ে সরস্বতীকে ধর্ষণ করছে, এবং তার গর্ভে গর্ভ সঞ্চার করছে। সরস্বতী এবং ব্রহ্মার সন্তান স্বয়ম্ভূ মনু তার নিজের মা সরস্বতীর(শতরূপা ) সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে, সন্তান উৎপাদন করছে।
“Saraswati Purana”. One is that Brahma created his beautiful daughter Saraswati direct from his “vital
strength” or seminal fluid. The other is that Brahma used to collect his semen in a pot whenever he masturbated fixing his carnal eyes on the celestial beauty Urvasi. Brahma’s semen in the pot gave birth to Saraswati. Thus,Saraswati had no mother.
This daughter or grand-daughter of Brahma is the Hindu goddess of learning. When Brahma saw the beauty of Saraswati he became amorous. To escape from her father’s passionate approach Saraswati ran to the lands in all four directions, but she could not escape from her father. She succumbed to Brahma’s wish. Brahma and his daughter Saraswati lived as husband and wife indulging in incest for 100 years. They had a son Swayambhumaru. Swayambhumaru made love with his sister Satarpa. Through the incest of Brahma’s son and daughter Brahma got two grandsons and two grand-daughters.
আর একটি সূত্র হলঃ
“Prajapati(Brahma) desired his daughter( SARASWATI) and made love to her. This was a sin in the eyes of the gods, who said to the god who rules over beasts [Pasupati, Rudra], ‘He commits a sin, acting in this way towards his own daughter, our sister. Pierce him.’ Rudra took aim and pierced him. Half his seed fell to the ground. The gods cured Prajapati and cut out Rudra’s dart, for Prajapati is the sacrifice. To utilize [the seed], the gods said, ‘Take care that this may not be lost, but that it may be less than the oblation.’ They gave it to Bhaga to eat, but it burnt his eyes and he became blind. Then they gave it to Pusan to eat, but it knocked out his teeth. At last they gave it to Savitr [the sun] and it did not injure him, for he appeased it.” — Ref : Satapatha Brahmana 1:7:4:1-7.

বৈদিক এই শিষ্টাচার বা যৌন সংস্কৃতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, একজন ঋষি যৌনাচারে লিপ্ত হলে অন্যজন কুকুরের মতো অপেক্ষা করতো বা দলবদ্ধ ভাবে যৌনাচারে লিপ্ত হত।
অনেক নারী কোলের থেকে বাচ্চা নামিয়ে রেখে ঋষির যৌন ক্ষুধা মেটাতে বাধ্য হত। এমনি এক ঘটনার শিকার হয়েছিল যাজ্ঞবল্ক। ধর্ষিতা যবালা পুত্র সত্যকাম তো তার বাপের নামই বলতে পারেনি! এই ধর্মাচার এমন মহান হয়ে উঠেছিল যে, রাজারা পুত্র কামনার জন্য এই সব ঋষিদের ভাড়া করে রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন করে তাদের স্ত্রীদের গর্ভে ঋষিদের বীর্য পাত ঘটিয়ে তেজস্বী সন্তান উৎপাদন করতেন।

এই ঋষভ ক্রিয়া বা মহাযজ্ঞ বৈদিক যাযাবরদের ধর্মাচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উন্নত মানবকুল বাড়ানো বীজমন্ত্র। ঋষি সংস্কৃতির আদি নাদ।
বিবর্তনের সাথে সাথে এই ঋষভ সংস্কৃতি জনগণের মধ্যেও প্রথিত করতে সামর্থ হয়েছিল বৈদিক যাযাবরেরা। স্থায়ী ভাবেগোটা ভারতকেই ঋষিদের চারণভূমিতে পরিণত করতে পেরেছিল এই বৃত্যিজীবিরা।

বৌদ্ধ বিহারগুলি দখল করে সেগুলিকে মন্দিরে পরিণত করা (মন্দির = মন্দ+ইর বা মন্দ কামনা বাসনা চরিতার্থ করার সুরক্ষিত স্থান।)পরিণত করা,মন্দিরের মধ্যে দেবদাসী প্রথার প্রবর্তন,মন্দির সংলগ্ন এলাকাকে বেশ্যা পল্লী বানানো, গুরুকরণী প্রথার নামে কিশোরীদের দিনের পর দিন ধর্ষণ করা,কুল রক্ষার নামে বহু বিবাহ চালিয়ে যাওয়া, এ সকলই ঋষভ সংস্কৃতির গলিত দুর্গন্ধময় বর্জ্য। বৈদিক যাযাবরদের ঈশ্বর,দেব, দেবী বা ঋষিদের একালের বংশধর রজনিস, সাইবাবা, বাবা নিত্যানন্দ, রবিশঙ্কর, রামদেব এই বর্জ্য পদার্থের কারবারী।
এই গুরমিত সিং রামরহিম, আশারামেরা একালে ধর্মের ষাঁড়। বর্তমানের দৈবপুরুষ যৌনাচারী প্রাচীন ঋষভ ধারাকেই এরা বেগবান করে তুলেছে। বৈদ্যুতিন মাধ্যমের দ্বারা প্রতিদিন চলছে প্রস্তুতি। ধর্ষণের প্রস্তুতি। ধ্বংসে প্রস্তুতি। রামরহিমকে ধর্ষক হিসেবে সাব্যস্ত করার পর পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা জুড়ে যে তান্ডব দেখা গেল তা পরিকল্পিত মহাপ্রলয়ের একটি মহড়া মাত্র। মনুবাদীরা নিরঙ্কুশ ভাবে ভারতের প্রত্যেক প্রদেশে ক্ষ্মতায় আসলে এই ভয়ঙ্কর প্রলয় নেমে আসবে। আর সেই প্রলয়ের মধ্য দিয়েই ধর্ম সংস্থাপন করতে নেমে আসবেন আর এক অবতার।

Thursday, 12 January 2017

বিবেকানন্দ এবং কিছু ভিত্তিহীন প্রচার




শি
কাগো ধর্মমহাসভা নিয়ে বিবেকানন্দের সুখ্যাতির অন্ত নেই। প্রচারের ঢাকটির  মাত্রারিক্ত শব্দ বাঙালীর কানে এমন ক্যাকাফোনির ঝঙ্কার তুলেছে যে এই একটি বক্তৃতাকে কেন্দ্র করেই তিনি হিন্দু ধর্মের অবতারের পর্যায়ে উঠে এসেছেন। এই মহিমা কীর্তনের সাথে সাথে এমন সব আজগুবি, ভিত্তিহীন কাহিনী সংযোজিত করা হচ্ছে যে যার সাথে তথ্য, তত্ত্ব ও ইতিহাসের নামমাত্র সংযোগ নেই। আর রাষ্ট্রীয় সহায়তায় এই সমস্ত আজগুবি প্রচারগুলি নির্দ্বিধায় করে চলেছে রামকৃষ্ণ মিশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। 

Tuesday, 13 December 2016

হামরা সাঁওতাল বটে , শরদিন্দু উদ্দীপন





যেখানে কামিন মরদ 
দিন রাত গতর খাটে
ধান পুঁতে, জনার ফলায়
থালা ভরা শাকভাঁজা মাড়ভাত খায়্যে
তুদের ছানার মুখে অন্ন জোগায়
যেখানে পলাশ রাঙা বাগালের বাঁশি
ঝিম ধরা দুপুরের বেহাগী বাতাস
শাল, মহুল আর শিমুলের বনে
দিনরাত খেলা করে মাতাল ভ্রমর। 

Monday, 28 November 2016

নৈরাজ্য, মন্বন্তর, মহামারীর বাহক নরেন্দ্র মোদিঃ



কারে একেবারে খর্বাকৃতি হলেও “বামন” রাজা মহাবলীকে হত্যা করতে পারে তার প্রতীকী কাহিনী আমরা ভগবত পুরাণে পেয়েছি। এই কাহিনীতে গর্বভরে দাবী করা হয়েছে যে বামন আকারে ক্ষুদ্র হলেও কূটকৌশল এবং বুদ্ধিতে অপ্রতিরোধ্য দুর্জেয়। এখানে বামন ভারতবর্ষের ৩.৫% ব্রাহ্মণের প্রতিনিধি এবং রাজা মহাবলী মূল ভারতের ৯৬.৫% জনগণের শাসক। এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে যে বুদ্ধি এবং কৌশলে গোলামীর জঞ্জির পরিয়ে একেবারে প্রসাদান্নভোগী বা উচ্ছিষ্টভোগী পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হয় তার নাম ব্রাহ্মন্যবাদ।
বেদ থেকে একেবারে খ্রিষ্টীয় বার শতক পর্যন্ত লেখা ব্রাহ্মন্যবাদি গ্রন্থগুলি সতর্ক ভাবে পাঠ করলেই আমরা বুঝতে পারব যে ব্রাহ্মন্যবাদ টিকে আছে সম্পূর্ণ আবেগ ও অন্ধবিশ্বাসের উপরে। আর এই অন্ধ বিশ্বাসকে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্রাহ্মণেরা মানুষের শরীরে বেড়ি না পরিয়ে মস্তিষ্কতে ঠুলি বসিয়ে দিয়েছে এবং মানুষের আবেগকে ধর্মীয় রসায়নে জারিত করে ব্রাহ্মণের বানীকে অমৃত ভক্ষন এবং তাদের কাজগুলিকে দৈবশক্তির মহিমা হিসবে চিরস্থায়ী করে তুলেছে। তাই এখনো ভারতের মানুষ ব্রাহ্মণের জালিয়াতি, লাম্পট্য, মিথ্যাচার, শঠতা, ভেদনীতি, নরহত্যা, গুপ্তহত্যা এবং নৈরাজ্যকে অন্ধের মত অনুসরণ করে। দেব লীলা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন ।
ভারতের আরএসএস এবং তার তৈরি বিজেপি এই ব্রাহ্মন্যবাদী ব্রিগেড। এদের প্রতিটি পদক্ষেপেই রয়েছে এই জালিয়াতির প্রকৌশল। নৈরাজ্য, অরাজকতা, খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, মহামারী, মন্বন্তর এবং মহাপ্রলয়কে এরা এদের ধর্ম প্রতিষ্ঠার উপযুক্ত সন্ধিক্ষণ বলে মনে করে। তাই সুযোগ পেলেই, ক্ষমতা পেলেই ব্রাহ্মণ্যশক্তি ধর্মপরায়ণ হয়ে ওঠে। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম মানে অব্রাহ্মণের সর্বনাশ সাধন। 
 
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদি এই ব্রাহ্মন্যবাদীদের পুতবারি সিঞ্চিত এবং নরমেধ যজ্ঞের মনোনীত কান্ডারী। তার গোটা জীবনের প্রোফাইলটাই জালিয়াতী প্রামাণ্য দলিল। তার চা বিক্রেতা ভূমিকা থেকে গত নভেম্বরের ৮/১১/২০১৬ তারিখে নোটবন্দি সবই জালি কারবার। 

মোদিজী একেবারে ধুমকেতুর মত ভারতের দূরদর্শনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি এক জরুরী ঘোষণা করে বলেন যে আজ মধ্য রাত্রের পরে ভারতের ৫০০টাকা এবং ১০০০টাকার নোট আর বাজারে চলবে না। সেগুলি এখন ছেড়া কাগজের টুকরা। এই ঘোষণাকে দূরদর্শনে লাইভ টেলিকাস্ট হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু গবেষক এবং সাংবাদিক সত্যেন্দ্র মুরালীর করা RTI (PMOIN / R / 2016/53416) এবং DOEAF / R / 2016/80904 and MOIAB / R / 2016/80180 থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে প্রধানমন্ত্রীর এই টেলিকাস্ট লাইভ ছিল না। ধরা পড়ে যাবার ভয়ে এখনো এই তথ্য জানানো হচ্ছেনা। ঘোরানো হচ্ছে এ দপ্তর থেকে সে দপ্তরে। প্রশ্ন উঠছে এর পরেও নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নরেন্দ্র মোদির দেশের এক মহান দপ্তরে পদ আঁকড়ে থাকা উচিৎ কি না?
নোট বদলের আসল উদ্দেশ্য কি?
নোট বদলের পরের দিনই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আমি দাবী করেছিলাম যে এটি মোদির নেতৃত্বে “ভারতের খাজানা লুট” এর সব থেকে বড় কেলেঙ্কারি। সেই দাবীর সমর্থন মিলেছে ভূতপূর্ব রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর এবং প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রী মনোমোহন সিংহের কাছ থেকে। মোদিজীর এই প্রক্রিয়াকে 'Organised Loot, Legalised Plunder' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন যে পৃথিবীতে এমন কোন দেশ নেই যেখানে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখবেন কিন্তু তুলতে পারবেন না। এটা জোর করে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া।
আসল ঘটনাঃ
এই মহুর্তে দেশের ব্যাঙ্কে মোট অনাদায়ী লোন (Bad loan) এর পরিমান হলো ৬,০০,০০০ কোটি৷
কয়েক সপ্তাহ আগে Credit Rating Agency মোদী সরকারকে রিপোর্ট দেয় যে এই মহুর্তে ভারতীয় ব্যাঙ্ককে ১.২৫ লক্ষ কোটি Capital Infusion দরকার৷
জুলাই ২০১৬ তে ১৩টি ব্যাঙ্ককে ২৩,০০০ কোটি টাকা inject করা হয়৷
২০১৫ সালে অর্থমন্ত্রী অরুন জেঠলি বলেন যে আগামী ৪ বছরে (PSU) ব্যাঙ্ককে চাঙ্গা করতে আরো ৭০,০০০ কোটি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র৷
এই পরিমাণে টাকা বাড়াতে পারলেই শিল্পপতিদের লোন মাফ করা যাবে এবং আবার তাদের নতুন লোন দেওয়া যাবে!
ব্যাঙ্ককে টাকা বাড়ানো এবং প্রিয় শিল্পপতিদের ঋণ মকুব ক্রবার জন্য মোদী ২০০০টাকার নোট বাজারে এনে ৫০০টাকা এবং ১০০০টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষণা করে দিলেন। ঘোষণা করলেন এই টাকা ব্যাঙ্কে রাখা যাবে কিন্তু যেমন খুশি টাকা তোলা যাবে না। সংসার চালানোর জন্য সামান্য টাকা তুলতে পারবেন।
মোদী সরকার, মোদিপন্থী এবং তাদের পোষা মিডিয়াগুলি ঢাক পেটাতে শুরু করলেন যে এটি কালো টাকা উদ্ধার, জাল টাকা বন্ধ করা এবং সন্ত্রাসবাদীদের আটকানোর জন্য সঠিক পদক্ষেপ যা ৭০ বছর ধরে কোন সরকার করে নি। এই প্রক্রিয়ায় মোদিজী ভারতকে একেবারে ডিজিটাল দুনিয়ার সর্বোচ্চ দেশ হিসেবে টক্কর দেবেন।
RBI এর তথ্যানুযায়ী ১৪লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে ৩৮% নোট ১০০০টাকার, আর ৪৯% নোট ৫০০ টাকার৷
'Bussiness World' এর তথ্যানুযায়ী দেশে 'Fake note' 0.002% of Rs 1,000 notes, and 0.009% of Rs 500 notes.
কাদের দিয়ে খাজানা লুট করলেন মোদি ?
১) ভারতের সেরা ১০০ জন Wilful ডিফল্টার দের মধ্যে State bank of India ৬৩ জনের ৭,০১৬ কোটি টাকা যার মধ্যে Kingfisher এর বিজয় মালিয়ার ১,২০১ কোটি টাকা মুকুব (Write off) করলো সরকার৷
২) রিলায়েন্স গ্রুপের মালিক অনিল আম্বানি মোদীর এবং বিজেপির খুব স্নেহভাজন৷তিনি দেশের সবচেয়ে বড়ো ডিফল্টার৷
টাকার পরিমান মার্চ ২০১৫ তে ১.২৫ লক্ষ কোটি৷
৩)বেদান্ত গ্রুপের মালিক অনিল আগরওয়াল৷ ধাতু ও খনির ব্যাবসায়ী দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিফল্টার যার পরিমান ১.০৩ লক্ষ্য কোটি৷
৪) ইএসএসআর গ্রুপের মালিক রুইয়া ব্রাদার্স (শশী রুইয়া ও রবি রুইয়া) ডিফল্টার, ঋনের পরিমান ১.০১ লক্ষ কোটি৷
৫) আদানী গ্রুপের মালিক গৌতম আদানি, মোদীর খাস লোক৷ডিফল্টার ৯৬,০৩১ কোটি টাকা৷
৬)জয়াপি গ্রুপের মালিক মনোজ গৌড় ৭৫,১৬৩ কোটি টাকার ডিফ্লটার।
৭) #JSW Group: মালিক সজ্জন জিন্ডাল৷ডিফল্টার রাশি ৫৮,১৭১ কোটি
৮) #GMR Group: মালিক প্রোমোটার GM Rao. যিনি দিল্লী T3 International Airprt Terminal বানালেন৷ ডিফল্টার রাশি ৪৬,৯৭৬ কোটি টাকা৷
৯) #Lanco Group: যার মালিক মধূসুদন রাও৷ডিফল্টার রাশির পরিমান ৪৭,১০২কোটি টাকা৷
১০) #Videocon Group: মালিক বেণুগোপাল৷ডিফল্টার রাশি ৪৫,৪০৫ কোটি টাকা৷
১১) #GVK Group: মালিক GVK Reddy৷ডিফল্টার ৩৩,৯৩৩ কোটি টাকা৷
১২) #Usha Ispat: ডিফল্টার ১৬,৯৭১ কোটি টাকা৷কোম্পানিটির বর্তমানে কোনো হদিস নেই৷একটি সংবাদ সংস্থা তদন্ত করতে গিয়ে দেখে যে কোম্পানীটি বন্ধ এবং রহস্যময় ভাবে কোম্পানীর মালিকের অস্তিত্বই নেই৷
১৩) #Lloyeds Steel: ডিফল্টার ৯,৪৭৮ কোটি টাকা৷কোম্পানীটি বর্তমানে অন্য একটি কোম্পানী অধিকৃত৷
১৪) #Hindustan Cables Ltd.:ডিফল্টার ৪,৯১৭ কোটি টাকা৷বর্তমানে ব্যাবসা গুটিয়ে নিয়েছে৷
১৫) #Hindustan Petroliam Mfg.Co.: ডিফল্টার ৩,৯২৮ কোটি টাকা৷বর্তমানে কোম্পানীটি বন্ধ৷
১৬) #Zoom Developer: ডিফল্টার ৩,৮৪৩ কোটি টাকা৷কোম্পানীটির অস্তিত্ব মেলেনি৷
১৭) #Prakash Industry: ডিফল্টার ৩,৬৬৫ কোটি টাকা৷কোম্পানী চালু অাছে৷
১৮) #Crane Software International: ডিফল্টার ৩,৫৮০ কোটি টাকা৷কোং চালু অাছে৷
১৯) #Prag Bosimi International: ডিফল্টার ৩,৫৫৮ কোটি টাকা৷কোং চালু অাছে৷
২০) #Kingfisher Airlines: ডিফল্টার ৩,২৫৯ কোটি টাকা৷এখানে বলে রাখা প্রয়োজন এটা PNB অর্থাৎ পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া৷অার অাগে যেটা মাফ হয়েছে বললাম সেটা শুধু মাত্র SBI অর্থাৎ state bank of india র ৬৩ জনের তারমধ্যে Kingfisher এর বিজয় মালিয়া একজন৷kingfisher aviation ekhon বন্ধ৷
২১) #Malvika Steel: ডিফল্টার ৩,০৫৭ কোটি টাকা৷কোম্পানীটি বন্ধ৷
(তথ্য সংগৃহীত)


ইতি মধ্যে মাননীয় রঘুরাম রাজন হিসেব করে দেখিয়েছেন যে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার কোটি টাকার রাজস্য, ১.৫ লক্ষ কোটি জিডিপি এবং ৩০ কোটি শ্রমদিবস নষ্ট হয়েছে। আরো ৫০ দিন এই ভাবে চললে যে পরিমাণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে তা কালো টাকার কয়েক গুন বেশি।

 প্রখ্যাত নোবেল জয়ী এবং অর্থনীতিবিদ মাননীয় অমর্ত্য সেন এই প্রক্রিয়াকে স্বৈরতান্ত্রিক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কোন অর্থনৈতিকই বিশেষজ্ঞ মোদির এই নোট কাণ্ডকে কালোটাকা ফিরিয়ে আনা বা নোটের জাল কারবার রোখার জন্য সঠিক পদক্ষেপ বলে স্বীকার করেন নি। বরং মানুষের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এই অর্থনৈতিক অবরোধ দেশের চরম ক্ষতি এবং নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আমরা দাবী করছি মোদি আসলে ব্রাহ্মন্যবাদী নৈরাজ্যের বাহক। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম অনুসারেই মোদির এই জালিয়াতি দেশে মহামারী এবং মন্বন্তর ডেকে আনবে। এখনি সতর্ক হওয়া দরকার।


Monday, 10 October 2016

অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হেঃ

 শরদিন্দু উদ্দীপন

প্রকৃতি লালিত করে
আমাদের রক্ত বীজ
অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
আমাদেরই চেতনায় রূপময়
এ দেশের জল-জংল-জমিন
আকাশ, বাতাস।
দিকুর ঝলসে ওঠা খড়্গ কৃপাণ,
ঘোড়ার পায়ের শব্দ
বিষকন্যা, দেবীর প্রতারণা
পিঞ্জর ফুঁড়ে দেওয়া ত্রিশূল
মস্তক ছেদন করা সুদর্শন
আমাদের ছিন্ন ভিন্ন করলেও
এ মাটির জঠরে জঠরে আমরা অসুর।


শহর জুড়ে ওদের জৌলুস
চোখ ধাঁধানো উল্লাস
ঢাকের গগনভেদী বীভৎস নিনাদ
ভগ-লিঙ্গ কারণের ব্যপক আয়োজন
বলির খড়্গ, হাড়িকাঠ।


এদিকে, একান্তে আমরা সবাই কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
তুংদা, টমাক, চিড়চিড়ি
আর আমাদের দাসাই।
আমদের অসুর গাঁথা
আমাদের সোহরাই।


অসুর আমরা, ভুঁইপোতা হে
কালের নিভৃত নীড়ে সমাগত
আমরা সবাই।
শব্দ পরিচিতিঃ ১। ভুঁইপোতা- ভূমিপুত্র ২। দিকু - শত্রু ৩। কারণ- মদ ৪। তুংদা- মাদল ৫। টমাক- ধমসা (এক প্রকারের বাদ্যযন্ত্র) ৬। চিড়চিড়ি- নাকড়া ( বাদ্য যন্ত্র) ৭। দাসাই- অসুর স্মরণ উৎসব ৮। সোহরাই- শারদ কালীন প্রাচীন উৎসব (আমদের প্রাচীন লোকগাঁথা পরিবেশন করা হয়)

শুভ ধম্মবিজয়ঃ




শুভ ধম্মবিজয়ঃ  
 



হাবংশম, কুলবংশম এবং দ্বীপবংশম অনুসারে দেখা যায় যে বোঙ্গা দিশমের সন্তান বিজয় সিংহ মাদুরাই এর রাজা পাণ্ডুর কন্যাকে বিবাহ করে রাজ্য অভিষেকের সময় শাদীয় উৎসবের দিনে ধম্মবিজয়পালন করেন। মাদুরাইয়ের রাজা পাণ্ডু বিজয়ের ৭০০ অনুগামীর জন্যও ৭০০টি কন্যা দান করেন। এই সময়টি গোতমা বুদ্ধের জন্মপূর্ব কাল। এই ধম্মবিজয়ের দিনে রাজা বিজয় সিংহ সহ তার ৭০০ অনুগামী বুদ্ধধম্ম দিশা গ্রহণ করেন।

শারদ উৎসব যে অতিপ্রাচীন একটি লোক কল্যাণকারী উৎসব তারও প্রমান পাওয়া যায় প্রাচীন তামিল সাহিত্যে ও ওনাম উৎসবের ইতিহাসে।

Friday, 9 September 2016

দলিত-বহুজন স্বাধিকার আন্দোলন ঃ পথ নির্দেশিকা



আমাদের নিবেদন পত্র ও নির্দেশিকা
কান্ধামালের দানা মাঝির শবযাত্রা থেকে আমাদের অনুভূত হয়েছে যে ভারতবর্ষে এখনো জাতপাতের ভেদনীতি সমান ভাবে কার্যকরী। যদিও গর্বের সাথে স্বাধীনতার ৬৯ বছর পূর্তি  উপলক্ষে ওড়ানো হয়েছে ত্রিবর্ণ রঞ্জিত জাতীয় পতাকা। আমরা সচেতন ভাবেই অনুভব করেছি যে একটি মনুবাদী সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার সাথে সাথেই এই বিভেদজনিত ঘৃণা, বঞ্চনা হিংসা এবং প্রতিহিংসার  বহর উত্তরোত্তর বেড়েই  চলেছে। স্বঘোষিত স্বয়ংশাসকদের  হাতে নিহত হয়েছেন গোবিন্দ  পানসারে, নরেন্দ্র  দাভোলকর এবং এম এম কুলবর্গিদের মত মানুষ

Tuesday, 19 July 2016

আলোর বৃত্তে



আলোর বৃত্তে
শরদিন্দু উদ্দীপন
10.07.2016
 
শ্রাবণের ঘনঘোর হামা দেওয়া রাত
ঝগড়ুটে ঝঞ্ঝার ক্রমাগত হানা
জানলার ফাঁক দিয়ে বেয়াড়া বাতাস
শিস দিয়ে বলে যায় সামাল সামাল।


সামাল সামাল হো সামাল সামাল
দামাল মেঘের পাল ঘিরেছে আকাশ


ভাঙনের কুলে কুলে ঝপাং ঝপাং
হুড়মুড় ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের বাঁধ
জোড়াতালি দেওয়া ঘরে অসহায় একা
কিলবিল সরীসৃপ ঘোরে চারিধার।

যেটুকু সলতে ছিল পুড়ে পুড়ে শেষ
হাত দিয়ে আগলে রাখি নিভু নিভু বাতি
ঝাপসা চোখ ভিজে যায় শ্রাবনের জলে
প্রতিক্ষায় তবু এক রাত জাগা পাখি।

একটু ভোরের আলো একটি প্রত্যূষ
একটি শিশুর মুখ উষ্ণ ভালবাসা
একমুঠো রোদ্দুর সেওতো অনেক
আলোর বৃত্তে তবু ঘুরে ফিরে আসা।




 যেতে হবে
শরদিন্দু উদ্দীপন


যেতে হবে আরো কিছু দূরে
আরো কিছু অগম প্রান্তর
আনাবিষ্কৃত মেরুচূড়া
পেঙ্গুইন ঈপ্সিত
অনন্ত আরো কিছু অসম নুড়ির সন্ধানে
যেতে হবে।

পথ পড়ে আছে বিস্তর
দুস্তর দুরন্ত উৎরাই
আঁতেলের অপকীর্তি
প্রত্যয় কুয়াশানিলীন
পড়ে আছে এই পথে
কালান্তক সাপেদের বিষাক্ত খোলস।
বহুতর পৃথিবীর ঊর্ধ্বতন ভাঁড়
ভাগাড়ে ভাঁড়ার ভরে গেছে

শ্রান্তি কেন ?
শ্রাবস্তী এখনো সুদূর
বুকে বাঁধ সাহস কাঁচুলি
তারপর হেঁটে চলো
কেমন সহজে হাঁটা যায়।

এখনো যক্ষের গাছে অনিকেত ফুল
ফাগুয়ার পরাগ বাহার
প্রজাপতি ঝিলমিল সরল বৈকালী
এখনো অলক্ষ্যে আছে
জোনাকির গাঢ় তমোবোধ।

যেতে হবে
আরো কিছু দূরে...
আরো কিছু অগম প্রান্তর
নীল নীল শৈবাল
অতলান্তিক সফেন সৈকত
ঈপ্সিত নুড়ির খোঁজ
পেঙ্গুইন পেয়ে যাবে
চলো যেতে যেতে

Wednesday, 13 July 2016

রবীন্দ্রনাথের “নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ” গোতমা বুদ্ধের ‘আত্তদীপ ভব” উপলব্ধির গভীরতম অনুরণনঃ




 “Attā hi attanō nāthō
kō hi nāthō parō siyā
attanā hi sudanténa
nātham labhati dullabham” (Dhammapada verse 160)

ত্ত মগ্নতায় নিজের অস্তিত্বের খোঁজে  রবীন্দ্রনাথ ছিলেন এক অনন্য পরিব্রাজক ভাবুক কবি। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা, অজ্ঞানতা থেকে জ্ঞানের মার্গে বিচরণ এবং আত্তোপলব্ধির সর্বোচ্চ পরাকাষ্ঠায় উত্তীর্ণ হয়ে নিব্বানা লাভের মাধ্যমে সমস্ত বন্ধন থেকে মুক্ত জীবন এবং বিশ্বমানবতার বিজয় কেতন ওড়ানোই ছিল তার অভিলাষ। “আত্তোদীপ ভব” মহামতি গোতমা বুদ্ধের এই প্রগাঢ় সনাতন বাণী তাঁর জীবন প্রকোষ্ঠের কন্দরে কন্দরে ছড়িয়ে দিয়েছিল এক শুচি শুভ্র চেতনার আলো। বুদ্ধের দয়া, প্রেম, করুণা এবং আত্তমগ্নতা তার জীবনকে এমন ভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তার প্রকাশ পাই “নির্ঝরের স্বপ্ন ভঙ্গ” কবিতায়। কবিতাটি তার ২২ বছর বয়সের একটি অনন্য রচনা যা “কড়ি ও কোমল” কাব্যে প্রকাশিত হয়েছিল।  

Tuesday, 12 July 2016

কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ...



সাম্প্রতি আমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর বাৎসরিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। জুন মাসের শেষে দেশ বিদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলি যে প্রতিবেদন পেশ করেছে তা বাংলাদেশের পক্ষে লজ্জাজনক। এই সংগঠনগুলি জানিয়েছে যে মে মাসেই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৭৪জন মানুষ। রাজনৈতিক কারণে আহত ১৩৩২ জন। হত্যা করা হয়েছে ১৪জন শিশুকে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪০ জন নারী ও শিশু । এদের মধ্যে শিশু ২১ জন। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০১৬ব সালের প্রথম তিন মাসে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছিল ২০ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৪ জনকে। রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে টাঙ্গাইলের নিখিল জোয়ারদার নামে এক ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বান্দারবনে হত্যা করা হয়েছে অহিংসের পূজারী এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে। ১লা জুনে প্রকাশিত এইবেলা ফাউন্ডেশন নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন তার প্রতিবেদনে জানাচ্ছে যে, মে মাসে সংখ্যালঘুদের উপর কম করে ৮৩টি জানঘাতী আক্রমণ করা হয়েছে জতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কম করে ৫১০টি পরিবার। অসংখ্য সংখ্যালঘু গ্রাম অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হচ্ছে। জমিজমা, ঘরবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চলছে। ভিটে ছাড়া করা হয়েছে অসংখ্য পরিবারকে। সম্পত্তি দখল এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে অসংখ্য সংখ্যালঘু নারী ও শিশু।

যে ভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু, মুক্তমনা লেখক, সাহিত্যিক, নারী, শিশু ও সমকামীদের উপর একের পর এক জীবনঘাতী আক্রমণ সংঘটিত হয়ে চলেছে তা এক কথায় অমানবিক। পরিকল্পিত জাতিসংঘের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের উপর যে নির্মম রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে তা একবগগা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও নিকেশ নীতির ইঙ্গিত বহন করে। এই দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে এটাই প্রমানিত হয় যে সরকার রাজনৈতিক কারণেই চাপাতি সংস্কৃতিকে পোষণ করে চলেছে এবং ইচ্ছে করেই ঘাতক এবং তাদের উন্মাদ ধর্মীয় গুরুদের নরহত্যার ময়দানে ছেড়ে দিয়ে রেখেছে। এই নরপিশাচদের প্রতি সরকারের নিস্ক্রিয়তা থেকে প্রমানিত হয় যে বাংলাদেশ বিশ্বমানবিকতার বোধ একেবারেই হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পরে বাংলাদেশের মাথায় সন্ত্রাসীদের আঁতুড়ঘর হিসেবে আর একটি পালক উঠে এসেছে। ডি কে হোয়াং নামের কোরিয়ান ভদ্রলোকের গোপন ক্যামেরা এবং আইসিস প্রকাশিত সন্ত্রাসীদের তালিকা থেকে একেবারে পরিষ্কার হয়েগেছে যে, বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সন্তান সন্ততিরাও চাপাতি সংস্কৃতি থেকে কাফের নিধনের জান্নাত সংস্কৃতিতে উঠে এসেছে।

এই নিতিহীন, নির্মম বাতাবরণে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে আর একদল জল্লাদ। ইতিমধ্যে তারাও ত্রিশূল-তলোয়ারে ধার দিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। নির্লজ্জ ভাবে হুঙ্কার দিচ্ছে যে ওপারে হিন্দুদের গায়ে নখের আঁচড় পড়লে এপারের সমস্ত মসজিদ মাদ্রাসা থেকে ইমাম শুন্য হয়ে যাবে। অর্থাৎ আমদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে এই জল্লাদেরা আসলে একে অন্যের পরিপূরক। একজনের রাজনৈতিক পুষ্টি বাড়াতে আর একজন সম্পূর্ণভাবে ইন্ধন যোগায়। নিরীহ জনগণকে ধর্মীয় আবেগে আবিষ্ট করে ভ্রাতৃঘাতি দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করে। হাতে তুলে দেয় চাপাতি, খড়গ, ত্রিশূল-তলোয়ার। নিরীহ মানুষের লাশের উপরে প্রতিষ্ঠিত হয় এদের ক্ষমতার মন্দির-মসজিদ।

আদিম হিংস্রতার এই নিষ্ঠুর প্রবণতা দেখে নিজেদের সভ্য বলতে সত্যি আমাদের ঘৃণা হয়। রাষ্ট্র পরিচালকদের এই নির্লজ্জ আহম্মকি দেখে মনে হয়, জান্তব জীবন ছেড়ে আমারা এক পা ও এগোতে পারিনি। পৃথিবীর সত্যি বড় দুর্দিন আজ। নেতৃত্বের বড় অভাব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান প্রাতিষ্ঠানিক পরিচ্ছদ ছেড়ে এখনো বেরোতে পারছি না। জড়ত্ব ঝেড়ে ফেলে এখনো উদাত্ত কন্ঠে বলতে পারছিনা, “কান্ডারী বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র”।

Wednesday, 29 June 2016

হুল শেঙ্গেল

 হুল শেঙ্গেল




পাহাড় কেন ডাকে?

জ্যৈষ্ঠের কাঠ ফাটা রোদের পর আষাঢ়ের এক পশলা বৃষ্টি পেয়েই পাহাড়টা ডাকে! গম্ভীর এই ডাক!  ঝিম মারা গাছগুলি চমকে ওঠে।  একটা দমকা হাওয়ার মত খবরটা ছড়িয়ে যায় কুলি কুলি ডুংরিতে ডুংরিতে!

শালগিরা……শালগিরা।

সিধু মাঝি, কানু মাঝি শালগিরা পাঠিয়েছে।

পাতা সমেত ছোট শালের এই ডাল পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে।

তাই বুঝি পাহাড়টা আজ ডাকছে।

নিদারুন যন্ত্রণায়, আহত অভিমান নিয়ে আত্তসম্মান ফিরে পাবার জন্য অনবরত ডেকে চলেছে পাহাড়টা।
এই ডাক অবসম্ভাবী এক ঝড়ের বার্তা বহন করে টাইড়, বাইদ, বোহাল, কানালী পেরিয়ে ডুংরিতে ডুংরিতে কাঁপন ধরিয়ে দিচ্ছে।

পাহাড় ডাকছে......
আর বাঁশী
ফুঁকা মানুষগুলি, জোষ্ঠা রাতের তুংদা, টমাক বাজানো মানুষগুলি, ছেঁড়া টেনা পরা মানুষগুলি পাথর ভাঙ্গা গতর নিয়ে শার্দূলের মতো ক্ষিপ্রতায় কাঁড়বাঁশ, টাঙ্গি, তরোয়াল, বল্লম নিয়ে হাজির হচ্ছে ভগনা ডিহি গ্রামে। তাঁরা ধরে রাখতে চায় তাঁদের মাটি। তাঁরা ফিরে পেতে চায় জল-জঙ্গলের অবাধ অধিকার। তাঁরা প্রাণ দিয়ে আগলে রাখতে চায় তাঁদের লাই লাকচার, আড়িচালি।

ভগনা ডিহির সভায় পাহাড় ডাকা ক্ষোভ নিয়ে সিধু, কানু, চাঁদ, বৈরভ গর্জে উঠে বলেন, সুদখোর মহাজন এবং গোরা পল্টন আমাদের সব কিছু কেড়ে নিতে চায়। সাঁওতালদের সুখসাচ্ছন্দ দেখতে চায় না দিকু জমিদার। তাঁরা জোর করে আদিবাসীদের কাছে থেকে খাজনা আদায় করতে চাইছে। অন্যায় ভাবে আমাদের চুরির দায়ে অপরাধী করছে। প্রকাশ্যে অপমান করছে এবং জোর জবরদস্তি গরু, ছাগল, ভেড়া, মোষ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। জমিদারের সঙ্গে জুটেছে পুলিশ, পাইক, পেয়াদা, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট। এরা সবাই মিলে আদিবাসীদের শেষ করে দিতে চায়। এটা চরম অন্যায়। আমরা স্ত্রী-পুত্রের জন্য, জমি-জায়গা বাস্তু-ভিটার জন্য, গো-মহিষ লাঙ্গল ধন-সম্পত্তির জন্য “হুল সেঙ্গেল” করতে চাই। আমরা আমাদের মান সম্মান এবং হৃতগৌরব ফিরে পেতে চাই।

Tuesday, 28 June 2016

ব্রাহ্মণবাদীদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য আম্বেদকরঃ




গত ২৬শে জুন রাতের অন্ধকারে বুলডোজার লাগিয়ে সম্পূর্ণ চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বাবা সাহেব আম্বেদকরের স্মৃতি বিজড়িত দাদারের বাড়িটি। যে বাড়ির প্রেস থেকে প্রকাশিত হত “মূকনায়ক” এবং “বহিষ্কৃত ভারত” নামে ঐতিহাসিক দুটি পত্রিকা। যে বাড়ি থেকে বাবা সাহেবে তাঁর সমস্ত আন্দোলন পরিচালনা করতেন। যে বাড়িতে গড়ে উঠেছিল দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সমন্বয়ে একটি বিরল লাইব্রেরী, সাংঠনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সেই বাড়িটিকেই চুরমার করে দিল মহারাষ্ট্রের বিজেপি শাসিত সরকার এবং তাদের বশংবদেরা।



 এই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাবা সাহেব “পাবলিক ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাষ্ট” গঠন করে তাদের হাতেই সমস্ত সম্পত্তি তুলে দেন। সাম্প্রতি এই ট্রাষ্টের পরিচালন সমিতিতে ঢুকে পড়ে আরএসএস এবং শিবসেনার কট্টর সমর্থকেরা। মধুকর কাম্বলে এবং রত্নাকর গাইকোয়াড় এই দলের পাণ্ডা। শোনা যাচ্ছে রামদাস আতাউলেও আছে এই আত্তহননের মূলে। এরাই তস্করদের ডেকে এনে নিজ গৃহের সুলুক সন্ধান দিয়েছে। সংস্কারের নামে বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলেছে এবং পুনরায় নির্মাণের নামে বাড়িটিকে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেবার ষড়যন্ত্র করেছে। দলিত-বহুজন স্বাধিকার আন্দোলন, পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এই কাপুরুষ ষড়যন্ত্রকারীদের চরম ধিক্কার জানাচ্ছি।



এই বাড়িটি ধ্বংসের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে এসে গেছে নরেন্দ্র মোদির দ্বিচারিতা। তাঁর বাবাসাহেব বন্দনা যে আসলে একটি সজানো নাটক তা ধরা পড়ে গেছে। মোদি যে ব্রাহ্মন্যবাদীদের “জাতি সাফাই”(ethnic cleansing) অভিযানের জন্য ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে।             



ব্রাহ্মন্যবাদ ইতিহাস ভয় পায়। ঐতিহাসিক বস্তুতে তাদের গাত্রদাহ হয়, নৃতাত্ত্বিক বস্তুতে তাদের শিরঃপীড়া হয়, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় তাদের জীনগত উত্তেজনা বাড়ে তাই এই বাড়িটি ছিল তাদের গাত্রদাহ, শিরঃপীড়া ও জেনেটিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। কেননা এই বাড়িতেই ছিল একটি বিরলতম লাইব্রেরী, বাবাসাহেবের অপ্রকাশিত ম্যানুস্ক্রিপ্ট, পুরানো অসংখ্য দলিল দস্তাবেজ। এই বাড়িতেই ছিল বাবাসাহেবের আন্দোলনের অসংখ্য ইতিহাস। আম্বেদকর দর্শনের মূলকেন্দ্র হিসেবে এই বাড়ির সঞ্চিত রসদ যে সকল প্রগতিশীল মেধাকে উদ্দীপনা যোগাচ্ছিল তা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের কাছে ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর শিরঃপীড়ার কারণ।



এছাড়া যে ভাবে আইটিআই, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে আম্বেদকরবাদী সংগঠন বিপুল সাড়া জাগিয়ে ব্রাহ্মন্যবাদকে প্রতিহত করার জন্য নীল ঝান্ডা নিয়ে “ জয় জয় জয় জয় জয় ভীম” শ্লোগানে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলছে তাতে এক অশনিসংকেত দেখতে পাচ্ছে ব্রাহ্মন্যবাদী মোড়লরা।

এই মোড়লরা পর্যুদস্ত বামপন্থীদের দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল। মার্ক্সবাদকে একটি পরিত্যক্ত বিদেশী মতবাদ বলে ছুড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছিল, মার্ক্সবাদীদের অস্তিত্বহীনতা ও অকার্যকারিতা দেখে উল্লসিত হয়েছিল, তাদের মতবাদ ভারতরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের সামিল বলে উচ্চকিত হয়ে কানাইয়া কুমার, অনির্বাণ, ওমর খলিদদের বিরুদ্ধে “সেডিশন” নামক সুদর্শনচক্রে শান দিতে শুরু করেছিল, তখনই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় আম্বেদকর এবং তাঁর হাতে তৈরি ভারতের জাতীয় পতাকা। ব্রাহ্মনবাদীরা লক্ষ্য করেন যে অতিবাম ছাত্রছাত্রীরাও হাতে ত্রিবর্ণ পতাকা নিয়ে, রোহিত পোষাকে সজ্জিত হয়ে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের ছবি উত্তোলন করে সিংহনাদে উচ্চারণ করছে “জয় ভীম”। অনুরণিত হচ্ছে, “জাতপাত কি টক্কর মে, জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়, ব্রাহ্মনবাদ কি টক্কর মে, জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়, পুঁজিবাদ কি টক্কর মে, জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়, ফ্যাসিবাদ কি টক্কর মে জয় ভীম হামারা নারা হ্যায়”। ব্রাহ্মণ্যবাদীরা হতচকিত হয়ে পড়েন এই Paradigm Shift এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। ব্রাহ্মণ্যবাদীদের ঘোষিত মহাপ্রলয়ের তাণ্ডব নর্তনকে প্রতিহত করার জন্য যে আম্বেদকরবাদী মহাজনপ্লাবন প্রবল শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং তার ঘূর্ণাবর্তে একেবারে ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে সুদর্শন ও সেডিশনের ধার তা তারা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছে।



অন্যদিকে আম্বেদকরের ভাগীদারী দর্শন মেনে গুজারাটের প্যাটেলরাও এসসি কোটায় রিজার্ভেশনের দাবীতে স্তব্ধ করে দিচ্ছে রাম রথের চাকা। ধীরে ধীরে ওবিসি সমাজের ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে তুলছে আম্বেদকর। বিচ্ছিন্নতার ধোকাবাজী ছেড়ে নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার জন্য তীব্র ভাবে এগিয়ে আসছে আদিবাসী রেজিমেন্ট। মুসলিমরাও আম্বেদকরের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন তাদের হারিয়ে যাওয়া দলিত স্বভিমান। সার্বিক ভাবে সর্বসমাজের এই উত্থান ব্রাহ্মন্যবাদের কাছে ভয়ঙ্কর বিপদ বলে মনে হচ্ছে। তাই সরাসরি আম্বেদকরকেই আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাহ্মন্যবাদ।

সাম্প্রতি রোহিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ মা রাধিকা এবং রোহিতের ছোট ভাই এক ভাব গম্ভীর পরিবেশের মধ্যে এই বাড়িতেই বুদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। শোষিত, নিষ্পেষিতের আশ্রয় হিসেবে এই বাড়িটির আরো একটি দিগন্ত উন্মোচিত হয় এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। তাই অবিলম্বে এই বাড়িটি চূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
 
দাদারের এই আম্বেদকর ভবন গুড়িয়ে দেওয়া একটি সংকেত।


এর মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মন্যবাদীরা পরখ করে নিতে চাইছে দলিত-বহুজনের প্রতিক্রিয়া। পরখ করে নিতে চাইছে সর্বসমাজের গুনগত অবস্থান। এই ধ্বংসের সংকেতের জবাবে আমরা নিরবতা পালন করলে ওরা আবার সুদর্শনে শান দিতে শুরু করবে। চেপে বসবে শেষ নাগের পিঠে। শঙ্খে ফুঁ দিয়ে শুরু করে দেবে প্রলয় নাচন।



আসুন ভারতের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য এই ভ্রষ্টাচারীদের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলি। সর্বসমাজ ভাইচারা প্রতিষ্ঠা করি।


জয় ভীম, জয় ভারত
দলিত-বহুজন স্বাধিকার আন্দোলন, জিন্দাবাদ।