Pages

Tuesday, 2 February 2016

আমি রহিত বলছি

রহিত বেমুলার আত্ম বলিদানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কবিতাটিতে ভাষ্য দিয়েছেন - পবিত্র বিশ্বাস।

আমি রহিত বলছি
জগদীশচন্দ্র রায়(মুম্বাই)
M-09969368536

আমি রহিত বলছি
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
প্রকৃতির নিয়মে আমার শরীরের মৃত্যু হয়েছে।  
কিন্তু এর পূর্বে তো আমার বেঁচে থাকার অধিকারের মৃত্যু হয়েছ।
তাই এই মৃত্যুটা ভীষণ জরুরি ছিল।
আমার এই মৃত্যু, তোমাদের জাগানোর জন্য।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য।
আজ আমি তোমাদের মনে যে, অধিকারের অগুন জালাতে পেরেছি,
সে আগুনকে নিরন্তর জালিয়ে রাখতে পারবে তো?
পারবে কি এই বর্ণ বৈষম্যতাকে ধ্বংস করে দিতে?
তার জন্য তোমাদের আজই প্রতিজ্ঞা নিতে হবে।
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
তোমাদের আর কবে ঘুম ভাঙ্গবে?
আর কতদিন পিষবে ব্রাহ্মণ্যবাদের জাঁতা কলে?
তোমাদের ঘুম ভাঙাতেই  
আমার শরীরটাকে চিরতরে ঘুম পাড়াতে হ’ল।
এই মৃত্যু, শুধু এক রহিতের মৃত্যু নয়।
এ মৃত্যু শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অগ্নি শিখা প্রজ্বলনের বারুদ
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
তোমরা কি পারবে সমস্ত বিভেদকে ছিড়ে-খুঁড়ে ফেলতে?
শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দাবানল হয়ে জলতে?
পারবে কি সঠিক নেতৃত্বের নির্মাণ করতে?
যদি পার, সে দিন হাজার রহিত গাইবে ঘুম ভাঙানোর গান
সেদিন হাজার রহিত খুলে দেবে ঊষার দুয়ার।
পরিবর্তন আনবে এক নিকষ কালো রাত্রির।
_______________
আমি রহিত বলছি (২)
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
তোমরাতো জানো,
এই ব্রাহ্মণ্যবাদই আমাদের হাজার বছর ধরে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল।
আমাদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ছিল।
আর বঞ্চিত করেছিলে অস্ত্রের অধিকার থেকে।
কিন্তু সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে কুঠারাঘাত করলেন বুদ্ধ, আম্বেদকর।
তাঁরা আমাদের শেখালেন,
অধিকার কেউ কাউকে দেয়না, অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে হয়।
অধিকেরর জন্য বলিদান দিতে হয়।
আজ আমিও সেই অধিকারের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছি।
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
একবার চোখ খুলে দেখ,
এখনও ব্রাহ্মণ্যবাদের ভাইরাস
দেশ সমাজ ও জাতিকে প্রগতির বিরুদ্ধে হয়ে উঠেছে প্রতিবন্ধক।
তারা কখনও চায়না তোমরা সত্যিকারের মানুষ হও।
তোমরা তোমাদের ন্যাজ্য অধিকার পাও।
তাই বন্ধু আর দেরী নয়।
ওঠো, জাগো, তুলে নেও বিজ্ঞান ও যুক্তির হাতিয়ার।
ভেঙে ফেলে দাও ওই ব্রাহ্মণ্যবাদের প্রাচীর।
ঘরে ঘরে পৌঁছে দাও শিক্ষা ও সাম্যের আলো।
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
একটা কথা তোমরা কিন্তু মনে রেখো।
ওরা কিন্তু তোমাদের অধিকারকে বন্ধ করার জন্য আরও নির্দয়ী হবে।
তোমাদের প্রগতির সকল রাস্তাকে ওরা রুদ্ধ করে দেবে।
বদনাম আর অপপ্রচারে জনগণকে করবে বিভ্রান্ত।
ওরা শুধু  মুখেই বলবে তোমাদের জন্য সাম্যের কথা
কিন্তু পিছন ফিরে চেয়ে দেখ, ইতিহাস কি বলছে?
না, ওরা কোনদিন তোমাদের অধিকার দেয়নি।
ওরা একলব্যের আঙ্গুল কেঁটে গুরুকে করেছে গরিষ্ঠ।
ওরা চুনি কোটালকে মেরেছে, আর আজ আমাকেও মারল।
আর আগামীকালও কিন্তু তোমাদের ছেড়ে দেবেনা।
তাই ওদের কথায় ভুলে গিয়ে
তোমাদের লড়াইকে থামিয়ে রেখোনা।
হ্যা, আমি রহিত বলছি।
একথা শুধু আমার মুখের কথা নয়।
এটা আমার গভীর উপলব্ধির আত্ম প্রকাশ।
ওরা আজ শিক্ষার অধিকারকে বন্ধ করতে না পেরে,
শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেই করেছে হাতিয়ার।
আগামীদিনের শিশুর সামনে তুলে ধরছে ব্রাহ্মণ্যবাদের পঠন-পাঠন।
মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করচে, অলৌকিকতার ধুম্রজাল।
তোমাদের গড়ে তুলছে মেরুদন্ডহীনতায়,
তাই আর নয় বন্ধ, জীবনকে করো পণ।
ব্রাহ্মণ্যবাদের গোলামী থেকে মুক্ত হ’তে গড়ে তোল আন্দোলন।
_____________________
রহিত বেমুলার আত্ম বলিদানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কবিতাটিতে ভাষ্য দিয়েছেন - পবিত্র বিশ্বাস।



Sunday, 24 January 2016

সুরালোকে জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনী !!!


বেদের সময় দেবতারা দুটো প্লানেট বানিয়েছিলেন।
স্বর্গলোক আর মর্তলোক।
দেবতারা আবার আকাশকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই লোকের মধ্যে।
কি বিশ্বাস হচ্ছেনা?

আরে বাবা বিশ্বাস করুন দেবতারা সব পারেন।
পারেন বলেই তারা আবার একটি প্লানেট তৈরি করলেন।
তার নাম দিলেন পিতৃলোক।
আপনারা বলতেই পারেন আবার “পিতৃলোক” কেন বাবা?
স্বর্গেতো খানাপিনার অভাব নেই!
অবাধ ফুর্তি আর অবাধ সুরা!
ওটাই তো দেবতাদের স্থায়ী ঠিকানা!
আরে বোঝেন না কেন?
ওটাতো অমর লোক!
ওখানে জন্ম নেই মৃত্যুও নেই!
আর ওখানে দেবতাদের সংখ্যা এতো বেশি!
বাপ রে বাপ অত সংখ্যায় উর্বশী নেই!
কোথাও না কোথাও দেবতাদের বংশ রক্ষা করতে হবেতো?
তাই দেবতারা মাঝে মাঝে মর্তলোকে আসেন।
লীলা করেন।
হাজার হাজার মর্তের নারীকে সুরাসংস্কৃতি শেখান।
দেবালয় স্থাপন করেন।
দেবদাসী সংগ্রহ করেন।
দেবালয়ের পাশেই সুরাপল্লী গড়ে তোলেন।
আবার এই সুরাপল্লীর সংস্কৃতিকে একেবারে অন্দরমহল পর্যন্ত নিয়ে যাবার জন্য পুরুতগিরি করতে হয়।
ঝক্কি তো কম নয় বাবা!
ঝুকিও আছে।
এই ঝুকি পূর্ণ কাজ করতে গিয়ে মর্তের নিয়মানুসারে দেবতাদের মৃত্যু হতে পারে।
ওহ থুড়ি! থুড়ি!
আগেই বলে রাখা উচিৎ ছিল যে, মর্তের বামুনেরা হল দেবতাদের এলিয়েন( যজুর্বেদ অনুসারে)।
তা এই মর্তের বাতাস লেগে দেবতাদের মৃত্যু হলেতো চলবেনা বাপু!
তাদের আবার স্বর্গলোকে ফিরতে হবে।
তাই স্বর্গলোকে ফেরার আগে বিশুদ্ধতা যাচাই করার প্রয়োজন।
কিন্তু ততদিন ওই দিদেহী এলিয়েনের একটা থাকার জায়গা করে দিতে হবে তো?
তাই পিতৃলোকের পরিকল্পনা।
ওই পিতৃলোকে অবস্থান কালে এলিয়েনেরা স্বর্গলোকে যাবার জন্য প্রেতাত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াবে।
তাদের ক্ষেত্রজেরা পৃথিবীতে অবস্থানকারী আর একটা বামুন ডেকে আদ্যশ্রাদ্ধ করবেন।
গুষ্টির পিণ্ডী দেবেন।
তারপর পিতৃপক্ষের শেষ হবে।
সুচনা হবে মাতৃপক্ষের।
অর্থাৎ পৃথিবীতে আরো কত মাকে সুরা সংস্কৃতির আওতায় নিয়ে আসা যায়, আরো কত সুরাপল্লী বানানো যায়, সুরা সংস্কৃতিকে একেবারে প্রত্যহিক করে তোলা যায় তার প্রস্তুতি সুরু হবে। এই মহান কাজকে আলয় আলয় পর্যন্ত ধ্বনি প্রতিধ্বনিত করে তুলতে হবে। মানুষের ঘুম ভাঙবে মহালয়ার এই পূন্য সুরাসংস্কৃতির আহ্বানে। “ইয়া দেবী সর্ব ভুতেসু মাতৃরূপেন সংস্থিতা”।
১৯৩১ সালে মর্তের এলিয়েনরা বাংলার বুকে এমনি এক সুরা সংস্কৃতির অবতারণ করলেন। পিতৃকুলকে সুরালোকে পাঠানোর জন্য, মর্তের মাকে সুরাপল্লীর উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য তৈরি হল মহিষাসুর মর্দিনীর উপখ্যান।
বানীকুমার রচনা করলেন স্তোত্র।
পঙ্কজ মল্লিক দিলেন সুর ও তাল।
বীরেন্দ্র কুমার ভদ্র দায়িত্ব নিলেন গ্রন্থনার।
গন্ধর্ব, কিন্নর, কিন্নরীদের সুললিত কণ্ঠে আকাশবাণীর মাধ্যমে ধ্বনিত হল “আয়ে গিরি নন্দিনী নন্দিতা মেদিনী... জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনী...।।

Saturday, 23 January 2016

Ami Rohit bolchi

Ami Rohit bolchihttp://www.mediafire.com/…/8v1761p7r8d…/Ami_Rohit_bolchi.mp3

রহিত বেমুলার আত্ম বলিদানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।
কবিতাটিতে ভাষ্য দিয়েছেন - পবিত্র বিশ্বাস।

Thursday, 21 January 2016

টুসু গানঃ শরদিন্দু উদ্দীপন


পৌষের সোনালী ধান কৃষকের প্রাণ
কৃষাণীর বুক ভরা মধু
এ যেন স্বপ্নের সিঁড়ি জীয়ন সোপান
একমুঠো ভালবাসা একরাশ যাদু।

শীতের কুয়াশা চিরে এক ফালি রোদ
যেমন উষ্ণতা দেয়,
উতপ্ত উদীপ্ত করে যবুথবু প্রান,
শিশুদের ঘুম ভাঙ্গে আদরে আদরে
তেমনি সোনালী ধান কৃষকের খামারে খামারে,
নিভৃতে নিরবে গায় জীবনের গান।

ভাঙ্গা গড়া সংসার,
জোড়াতালি দেওয়া ভালবাসা,
ইতিউতি ছোপ ধরা খসে পড়া জীর্ণ দেওয়াল,
আবার সাকার হয় মাটির পরশে,
নিবিড় প্রেমের টানে আলপনার অম্লান এ ভাষা।

রাখালিয়া বাঁশি বাজে, সুর জেগে ওঠে, 
পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে,
ডূংরির চুড়ায় চুড়ায়
সুপন্নখা থেকে ধানসিঁড়ি ধরে
তুসালির গন্ধ মাখা পাড়ায় পাড়ায়।

এই গান, জীবনের গান,
কাল থেকে কালান্তরে চলে আসে
নবান্নের ঢেঁকিতে ঢেঁকিতে।
নলেন গুড়ের রসে দুধসরে ভেজা
কৃষাণীর হাতে গড়া পরম্পরায়।

My birth is my fatal accident: Full text of Dalit student Rohith’s suicide letter

V Rohith, a Dalit PhD scholar committed suicide on Sunday, leading to protests across Hyderabad Central University. Here's the letter he wrote before committing suicide.


Good morning,

I would not be around when you read this letter. Don’t get angry on me. I know some of you truly cared for me, loved me and treated me very well. I have no complaints on anyone. It was always with myself I had problems. I feel a growing gap between my soul and my body. And I have become a monster. I always wanted to be a writer. A writer of science, like Carl Sagan. At last, this is the only letter I am getting to write.
I always wanted to be a writer. A writer of science, like Carl Sagan.
I loved Science, Stars, Nature, but then I loved people without knowing that people have long since divorced from nature. Our feelings are second handed. Our love is constructed. Our beliefs colored. Our originality valid through artificial art. It has become truly difficult to love without getting hurt.
The value of a man was reduced to his immediate identity and nearest possibility. To a vote. To a number. To a thing. Never was a man treated as a mind. As a glorious thing made up of star dust. In every field, in studies, in streets, in politics, and in dying and living.
I am writing this kind of letter for the first time. My first time of a final letter. Forgive me if I fail to make sense.
My birth is my fatal accident. I can never recover from my childhood loneliness. The unappreciated child from my past.
May be I was wrong, all the while, in understanding world. In understanding love, pain, life, death. There was no urgency. But I always was rushing. Desperate to start a life. All the while, some people, for them, life itself is curse. My birth is my fatal accident. I can never recover from my childhood loneliness. The unappreciated child from my past.
I am not hurt at this moment. I am not sad. I am just empty. Unconcerned about myself. That’s pathetic. And that’s why I am doing this.
People may dub me as a coward. And selfish, or stupid once I am gone. I am not bothered about what I am called. I don’t believe in after-death stories, ghosts, or spirits. If there is anything at all I believe, I believe that I can travel to the stars. And know about the other worlds.
If you, who is reading this letter can do anything for me, I have to get 7 months of my fellowship, one lakh and seventy five thousand rupees. Please see to it that my family is paid that. I have to give some 40 thousand to Ramji. He never asked them back. But please pay that to him from that.
Let my funeral be silent and smooth. Behave like I just appeared and gone. Do not shed tears for me. Know that I am happy dead than being alive.
“From shadows to the stars.”
Uma anna, sorry for using your room for this thing.
To ASA family, sorry for disappointing all of you. You loved me very much. I wish all the very best for the future.
For one last time,
Jai Bheem
I forgot to write the formalities. No one is responsible for my this act of killing myself.
No one has instigated me, whether by their acts or by their words to this act.
This is my decision and I am the only one responsible for this.

Thursday, 22 October 2015

ওরা বড় দূর্গা দেখতে দিল না... প্রবীর মজুমদার।

বাংলার কমিউনিস্টগণ একটা সময় গাইতেন "ওরা জীবনের গান গাইতে দেয় না।" কিন্তু তাঁরা কয়দিন ধরে গাইতে শুরু করেছেন, "ওরা বড় দূর্গা দেখতে দিল না...।" প্রগতিশীলতার স্বঘোষিত কান্ডারী কমিউনিস্টগণ তাঁদের পিতা মার্কসসাহেবের মার্কামারা বক্তব্য পরিহার করে ধর্ম-আফম সেবনের উপকারীতা অনুধাবন করেছেন। একটা ক্লাবের পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেন জাতীয় শোক নেমে এসেছে! তাই ফেসবুকের পাতায় পাতায় কেঁদে ভাসাচ্ছেন কিছু দূর্গা-ভক্ত। ভক্তগণের তালিকায় উগ্র-হিন্দুত্ববাদীও যেমন আছেন, তেমন আছেন তথাকথিত প্রতিক্রিয়াশীল কিংবা সেকুলার ডানপন্থী। কিন্তু এই গড্ডলিকা প্রবাহে কমিউনিস্টদের দেখছি কেন? পুজো বন্ধ হওয়ায় অনেক কমিউনিস্টই নাকের জলে চোখের জলে ভাসছেন। কেউ কেউ বলছেন, পুলিস মন্ত্রী নাকি দেবীদূর্গাকে বোরখা পরিয়ে ছেড়েছেন! এই রকম মন্তব্য কি সম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক নয়? রাজনৈতিক ক্ষুদ্র স্বার্থসর্বস্বতা নয়? নাস্তিকতা প্রকৃত কমিউনিস্টের একটা বৈশিষ্ট, কারণ ধর্ম শোষনের একটা যন্ত্র। তাহলে কি কমিউনিস্ট নামে যাঁরা নিজেদের পরিচয় দেন তাঁদের বেশির ভাগই আদৌ কমিউনিজমে বিশ্বাসী নন, কিংবা আদৌ কমিউনিজম জানেন না? নাকি, কমিউনিজম তাঁদের একটা মুখোস। মুখোসের আড়ালে রয়েছে উগ্র-হিন্দুতাবাদী মুখ?

আসলে ধর্মীয় উন্মাদনার মধ্যে যুক্তিবাদ অসহায় হয়ে পড়েছে, খুঁজে নিয়েছে কুযুক্তির সান্তনা। কী সেই কু-যুক্তি? পুজোর আনন্দ নাকি মৌলিক অধিকার! কিন্তু একজনের আনন্দ অন্যের অসুবিধার কারণ হতে পারে না। আনন্দ করার জন্য যদি পথ অবরোধ করা হয়, তাহলে সেই আনন্দ বর্জনীয়। পাড়ায় পাড়ায় পথ আটকে যে সব পুজো হচ্ছে সে-গুলোকে কী করে সরকার অনুমতি দেয়? পুজোর মন্ডপ যদি খোলা মাঠে গড়ে ওঠে তাতে আপত্তি করা সাজে না, কিন্তু পুজোর জন্য সাত-আটদিন রাস্তা আটকে রাখা কি সমর্থন করা যায়? অন্ততপক্ষে অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িকে নির্বিগ্নে চলার পথ দেওয়া সম্ভব না হলে তা যথেষ্ট বিপজ্জনক নয় কি? পথ পথচারীর জন্য। পথচারীর গতিরোধ করা কোন ধর্মের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। যদি কোন আন্দোলনকারী কিংবা ধর্মাবলম্বীদল সেই অপচেষ্টা করে তাহলে সরকার বল প্রয়োগ করুক। প্রকৃত প্রগতিবাদী শুভবুদ্ধ সম্পন্ন জনতা সরকারকে সাধুবাদ জানাবে। কিন্তু ভারতবর্ষ, যেখানে ভোটের চিন্তায় সকল নীতি নির্ধারণ করা হয়, সেখানে কোন সরকারের সেই হিম্মত হবে কী?
বড় চেয়ে বড় দূর্গা পুজো বন্ধ হল কেন, সরকারের কোন গাফিলতি আছে কিনা-- সে-সব ভিন্ন প্রশ্ন। আসল চিন্তার বিষয় হল, দূর্গা-পুজোর এই জাঁকজমক সামাজিক, মানসিক, অর্থনৈতীক ও আদর্শগত অবক্ষয়ের কারণ হয়ে উঠছে কিনা! বন্‌ধের বন্ধা সংস্কৃতির মতই দূর্গাপুজোর উন্মাদনাও অনর্থ বয়ে আনছে কিনা অনুগ্রহ করে একটু ভেবে দেখবেন।
-------------------------------------------------------------
© প্রবীর মজুমদার।

Sunday, 11 October 2015

সুরালোকে জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনী !!!




বেদের সময় দেবতারা দুটো প্লানেট বানিয়েছিলেন।
স্বর্গলোক আর মর্তলোক।
দেবতারা আবার আকাশকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এই দুই লোকের মধ্যে।
কি বিশ্বাস হচ্ছেনা?

আরে বাবা বিশ্বাস করুন দেবতারা সব পারেন।
পারেন বলেই তারা আবার একটি প্লানেট তৈরি করলেন।
তার নাম দিলেন পিতৃলোক।
আপনারা বলতেই পারেন আবার “পিতৃলোক” কেন বাবা?
স্বর্গেতো খানাপিনার অভাব নেই!
অবাধ ফুর্তি আর অবাধ সুরা!
ওটাই তো দেবতাদের স্থায়ী ঠিকানা!

আরে বোঝেন না কেন?
ওটাতো অমর লোক!
ওখানে জন্ম নেই মৃত্যুও নেই!
আর ওখানে দেবতাদের সংখ্যা এতো বেশি!
বাপ রে বাপ অত সংখ্যায় উর্বশী নেই!
কোথাও না কোথাও দেবতাদের বংশ রক্ষা করতে হবেতো?

তাই দেবতারা মাঝে মাঝে মর্তলোকে আসেন।
লীলা করেন।
হাজার হাজার মর্তের নারীকে সুরাসংস্কৃতি শেখান।
দেবালয় স্থাপন করেন।
দেবদাসী সংগ্রহ করেন।
দেবালয়ের পাশেই সুরাপল্লী গড়ে তোলেন।
আবার এই সুরাপল্লীর সংস্কৃতিকে একেবারে অন্দরমহল পর্যন্ত নিয়ে যাবার জন্য পুরুতগিরি করতে হয়।
ঝক্কি তো কম নয় বাবা!
ঝুকিও আছে।
এই ঝুকি পূর্ণ কাজ করতে গিয়ে মর্তের নিয়মানুসারে দেবতাদের মৃত্যু হতে পারে।
ওহ থুড়ি! থুড়ি!
আগেই বলে রাখা উচিৎ ছিল যে, মর্তের বামুনেরা হল দেবতাদের এলিয়েন( যজুর্বেদ অনুসারে)।
তা এই মর্তের বাতাস লেগে দেবতাদের মৃত্যু হলেতো চলবেনা বাপু!
তাদের আবার স্বর্গলোকে ফিরতে হবে।
তাই স্বর্গলোকে ফেরার আগে বিশুদ্ধতা যাচাই করার প্রয়োজন।
কিন্তু ততদিন ওই দিদেহী এলিয়েনের একটা থাকার জায়গা করে দিতে হবে তো?
তাই পিতৃলোকের পরিকল্পনা।
ওই পিতৃলোকে অবস্থান কালে এলিয়েনেরা স্বর্গলোকে যাবার জন্য প্রেতাত্মা হয়ে ঘুরে বেড়াবে।
তাদের ক্ষেত্রজেরা পৃথিবীতে অবস্থানকারী আর একটা বামুন ডেকে আদ্যশ্রাদ্ধ করবেন।
গুষ্টির পিণ্ডী দেবেন।
তারপর পিতৃপক্ষের শেষ হবে।
সুচনা হবে মাতৃপক্ষের।
অর্থাৎ পৃথিবীতে আরো কত মাকে সুরা সংস্কৃতির আওতায় নিয়ে আসা যায়, আরো কত সুরাপল্লী বানানো যায়, সুরা সংস্কৃতিকে একেবারে প্রত্যহিক করে তোলা যায় তার প্রস্তুতি সুরু হবে। এই মহান কাজকে আলয় আলয় পর্যন্ত ধ্বনি প্রতিধ্বনিত করে তুলতে হবে। মানুষের ঘুম ভাঙবে মহালয়ার এই পূন্য সুরাসংস্কৃতির আহ্বানে। “ইয়া দেবী সর্ব ভুতেসু মাতৃরূপেন সংস্থিতা”।
১৯৩১ সালে মর্তের এলিয়েনরা বাংলার বুকে এমনি এক সুরা সংস্কৃতির অবতারণ করলেন। পিতৃকুলকে সুরালোকে পাঠানোর জন্য, মর্তের মাকে সুরাপল্লীর উপযুক্ত করে গড়ে তোলার জন্য তৈরি হল মহিষাসুর মর্দিনীর উপখ্যান।

www.durgautsav.com/mahalaya-mahishasura-mardini-full-mp3-download/
 
 https://www.google.co.in/url?sa=t&rct=j&q=&esrc=s&source=web&cd=12&cad=rja&uact=8&ved=0CE8QtwIwC2oVChMIy8SBkoC8yAIV0EqOCh3XwQAd&url=https%3A%2F%2Fwww.youtube.com%2Fwatch%3Fv%3D1X2kjzMjMC4&usg=AFQjCNHqEUrPmz-n_aRS3LlsSEjHr3295g&sig2=SCPSDLEj0KPCnDJyppHuHA
বানীকুমার রচনা করলেন স্তোত্র।
পঙ্কজ মল্লিক দিলেন সুর ও তাল।
বীরেন্দ্র কুমার ভদ্র দায়িত্ব নিলেন গ্রন্থনার।
গন্ধর্ব, কিন্নর, কিন্নরীদের সুললিত কণ্ঠে আকাশবাণীর মাধ্যমে ধ্বনিত হল “আয়ে গিরি নন্দিনী নন্দিতা মেদিনী... জয় জয় হে মহিষাসুর মর্দিনী...।।

Monday, 5 October 2015

বাজাও ডাংকা উড়াও নিশান : শরদিন্দু উদ্দীপন



 









শরীর জুড়ে ঘুন পোকা
অহরাত্র জীর্ণ করছে হাড়মাস
পঞ্চ ইন্দ্রিয় অসাড়
তাই রূপ রস গন্ধ বিবেচনা যুক্তিহীন।
এমন ঘোরের ঘরেই চোর ঢোকে বারবার
সিঁধেল ছিচকে নানা বেশে
লুটে নেয় পিতৃধন
সঞ্চিত পুঁজি
লুটে নেয় আত্তপরিচয়।
তারপর...
গায়ে ছেড়া কাঁথা
কাঁধে ভাঙ্গা ঢোল
পারের কান্ডারী খুঁজে এ ঘাট ওঘাট
অবিন্যস্ত দিশাহীন
মুখে হরিবোল!!

Thursday, 1 October 2015

অসুর ধম্ম ও দর্শনঃ




সুরাসুর ধারণা এবং দ্বন্দ্বটি ব্রাহ্মন্যবাদী সাহিত্যেরই উৎপাদিত ফসল। মূল ভারতীয় অসুর সাহিত্যে বিশেষ করে আজীবিকা, চার্বাক, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ বা মতুয়া সাহিত্যে এই দ্বন্দ্বকে একেবারে ধর্তব্য বিষয় হিসেবে দেখা হয়নি। মূল ভারতীয় দর্শনেরর ধারা বরং সমগ্র জগতের মূর্ত-বিমূর্ত, জীব-জড়, অক্ষয়-ক্ষয়িষ্ণু, অচল-চলমান বস্তু জগতের মধ্যে প্রেম, প্রীতি, দয়া, মায়া, করুনা ও ক্ষমার মধ্য দিয়ে বসুধৈবকুটুম্ব নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বুকের মাঝে বিশ্বলোকের সাড়া পাবার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে
শৈশব থেকেই উপলব্ধি করছি যে, সুর এবং অসুর দ্বন্দ্বটি বাংলা তথা ভারতবর্ষে একটি প্রবাহমান বিবাদের প্রকট অংশ। এটিও উপলব্ধি করতে পারছি যে এই দ্বন্দ্বদের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলেই মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ সুরালোকে উন্নিত হয়ে সমস্ত মধুভান্ডকে চেটাপুটে খেয়ে সাবাড় করছে আর একদল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে অসুর বা অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারার চেষ্টা হচ্ছে। জীব সত্তার সার্বিক বিকাশের কারণেই এই সুর এবং অসুর দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।

সুর, সুরা ও সুরালোকঃ   
১।‘হে ইন্দ্র এবং অগ্নি ...হে সর্ব ক্ষেত্রের বীরগণ, এখানে আস এবং যে সুরা (সোমরস) ঢালা হয়েছে তা পান করো’।। ঋগ্বেদ ১।১০৮।৮
২। “হে ইন্দ্র! তুমি সুরাপানে মত্ত হয়ে যজ্ঞবিহীন জনসংঘদের পরস্পর বিরোধী করে উভয়কেই বিনাশ করো”। ঋগ্বেদ ৮।১৪।১৫
৩। “হে ইন্দ্র, যারা যজ্ঞাদি অনুষ্ঠান করে না, যারা ব্রাহ্মণ ও মন্ত্রাদির প্রতি বিদ্বেষ করে তারা সঙ্গতি সম্পন্ন হলেও তাদের অন্ধ করে বিনাশ কর”।
ঋগ্বেদ ৫।৪২।৯
৪। “হে ইন্দ্র, তোমার ঘূর্ণায়মান অস্ত্রের আঘাতে ঐ সব অস্ত্ররহিত অসুর যারা দেবতা ও ব্রাহ্মণ বিরোধী তাদের তাড়িয়ে দাও”।  ঋগ্বেদ ৮।৯৬।৯
৫। “হে ইন্দ্র, তুমি মহান। তুমি অসুরদের কাছ থেকে লুন্ঠন করা ভোগ্যবস্তু ও ধন সকল দান করে পুরোহিতদের ধনবান করো”। ঋগ্বেদ ৮।৯৭।১
সুরসমাজ বা দেবসমাজের চরিত্র এবং দর্শন বোঝাতে  ঋগ্বেদ থেকে  কয়েকটি শ্লোক এখানে দেওয়া হল। প্রিয় পাঠকদের এগুলিকে যাচাই করে নেবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এগুলি থেকেই অনুমান করতে পারবেন যে সুরসমাজ ছিল লোভী, লুণ্ঠনকারী, ভোগী, বর্বর, যজ্ঞব্রতী, ব্রাহ্মন্যবাদী, অসহিষ্ণু এবং হত্যাকারী।

অসুর, অসুরা ও অসুরলোকঃ
বেদের বর্ণনা থেকেই পরিষ্কার যে অসুর সমাজ ছিল প্রজ্ঞাবান ও যুক্তিবাদী। অসুরেরা ছিলেন যজ্ঞরহিত, অস্ত্ররহিত বা নিরস্ত্র। এদের ধম্ম ছিল আলাদা। দেবসমাজ (এক জাতীয় বর্বর যাযাবর মানুষ। আবেস্তাতে দেবতাদের দুশ্চরিত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে) তাই এদের অন্য ব্রত বলে অভিহিত করেছে।

সব থেকে মজার ব্যাপার হল যে, সুরাপানের মধ্য দিয়ে দেবতারা যে শক্তি সঞ্চয় করত তা যাতে কিছুতেই অসুরদের হস্তগত না হয় তার জন্য দেবতারা সদা সতর্ক ছিল।
অর্থাৎ অসুর সমাজের মধ্যে যে সুরাপানের প্রচলন ছিলনা তা সহজেই বোঝা যায়। অথবা সমাজ বিবর্তনের কোন এক বাকে এসে অসুর সমাজের মধ্যে যে সুরাপানের অভ্যাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা অনুমান করা যায়।   
অসুর রাজা ত্বস্টা আবার এই সুরা উৎপাদন করার চেষ্টা করলে ইন্দ্র ত্বষ্টার সব সুরা পাত্র ভেঙ্গে ফেলেছিল। (ঋগ্বেদ ১০।৮।৯) সমুদ্র মন্থন থেকে জানা যায় কি ভাবে সুধা বা মদ উৎপন্ন করার পরেও অসুরদের  বঞ্চিত করা হয়েছিল।
 
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল আসুরেরা ছিলেন অস্ত্ররহিত। পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় যে অসুর দর্শন এমন উচ্চমার্গে উন্নিত হয়েছিল যে ন্যায়ের শাসন বলবত করতে কোন অস্ত্রের প্রয়োজন হত না। প্রজ্ঞা এবং ন্যায় দণ্ডই ছিল অসুর শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভ।

মানুষে মানুষে বিভেদের বেড়া ভেঙ্গেছিল অসুর সমাজ। সাম–দাম-দন্ড-ভেদ নয়, বৈরি দিয়ে বৈরিতাকে ধ্বংস নয়, বরং ভালবাসার মধ্য দিয়ে হৃদয় জয় করে শত্রুতার অবসান ঘটানোই ছিল অসুর সমাজের সনাতন বিশ্বাস। এই সনাতন বিশ্বাস বা ধম্মের বানীই আমরা শুনতে পেয়েছিলাম মহামতি গোতমা বুদ্ধের কাছে। রোহিনী জল বিবাদ নিয়ে শাক্য ও কৌল্য সংঘের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধ আসন্ন হলে তিনি শুনিয়েছিলেন অমর ভালবাসার সেই চিরন্তন বাণী।           
নাহি বেরানা বেরানি সম্মন্তিধ কুদাচনং
অবেরেনা সম্মন্তি এস ধম্ম সনাতন, আত্তদন্ড সূত্ত
 “Dhamma as I understand it consists in recognizing that enmity does not disappear by enmity. It can be conquered by love only”
বৈরি দিয়ে বৈরিতাকে ধ্বংস করা যায় না। একে কেবলমাত্র প্রেম ও ভালবাসার মধ্য দিয়ে জয় করা সম্ভব। সমস্ত সত্তার পারস্পরিক সম্পর্কের মূলাধার হল প্রেম। প্রেমই আসল ধর্ম। হত্যা কখনো কারো ধর্ম হতে পারেনা। ক্রোধ, ঘৃণা কখনো ধর্মের পরিভাষা হতে পারেনা, পরন্তু প্রেম, ভক্তি, দয়া, করুণাই হল ধর্মের আকর।

অসুর ধম্মের এই বেগবান প্রবাহ যুগে যুগে নিষ্পেষিত হলেও ফল্গুধারার মত বয়ে চলেছে। ব্রাহ্মণ্য ধর্মের কদাকারের গ্লানি ঝেড়ে ফেলার জন্য ভগবতো হয়েছেন যুগ পুরুষেরা। ( ভগ শব্দের অর্থ যোনি বা সৃজন ক্ষেত্র। এখানে ভগবতো কথাটির অর্থ হল যিনি পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই তিনি ভগবান। ভগবান ঈশ্বরের প্রতিশব্দ নয়)। এবং এই সব যুগ পুরুষেরাই তাদের নিজেদের কর্ম ধারার মাধ্যমে ধম্ম বা জীবন শৈলীকে আবার কলুষ মুক্ত করেছেন। ক্যাটালহক, মেহেরগড়, সুমের, মেসোপটেমিয়া, হরপ্পা, মহেঞ্জোদড়ো, গঙ্গারিডি প্রভৃতি সভ্যতার ধাপে এসে তারাই উড়িয়েছেন জীব ধম্মের সেই সনাতন নিশান।
জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা।
ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।